পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'Y' রাষ্ট্রের একজন অবিসংবাদিত নেতা দেশটির স্বাধীনতা অর্জনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। তিনি দেশটির শোষিত জনগণের মুক্তির জন্য সরকারের নিকট কিছু দাবি তুলে ধরেন। এ দাবির সমর্থনে ক্রমশ দেশটির অবহেলিত ও স্বাধীনতাকামী মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে।
- ক)(1)
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসন লাভ করে?
- খ)(2)
বঙ্গভঙ্গ রদের দুটি কারণ লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে উক্ত নেতার অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মোট ২২৩টি আসন (মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি) লাভ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গভঙ্গ রদের দুটি প্রধান কারণ হলো:
১. হিন্দু উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের তীব্র বিরোধিতা ও আন্দোলন: বঙ্গভঙ্গের ফলে কোলকাতা-কেন্দ্রিক হিন্দু জমিদার, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের প্রভাব হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলন শুরু করেন।
২. ব্রিটিশ সরকারের রাজনৈতিক চাপ সামলানোর কৌশল: স্বদেশি আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ পণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং সশস্ত্র বিপ্লবী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ভারতীয়দের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে আমাদের পাঠ্যবইয়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'Y' রাষ্ট্রের একজন অবিসংবাদিত নেতা শোষিত জনগণের মুক্তির জন্য সরকারের নিকট কিছু দাবি পেশ করেন, যা পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে তীব্র করে তোলে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটের সাথে হুবহু মিলে যায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর হাত থেকে বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন, যা বাঙালির 'ম্যাগনা কার্টা' বা মুক্তির সনদ নামে পরিচিত। এই ৬ দফা দাবির ভিত্তিতেই পুরো বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয় এবং স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যায়। অতএব, উদ্দীপকের অবিসংবাদিত নেতা মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই ইঙ্গিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছিল অপরিসীম ও মুখ্য।
১. জাতীয়তাবাদের বিকাশ: ১৯৪৮-৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কার্যক্রমে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হন।
২. ৬ দফা কর্মসূচি পেশ: ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করে তিনি স্বাধিকার আন্দোলনের ডাক দেন। এই দাবিসমূহ বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে।
৩. গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০-এর নির্বাচন: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মাধ্যমে তাঁকে দমনের চেষ্টা করা হলেও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনতা তাঁকে মুক্ত করে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে। এরপর ১৯৭০-এর নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাঙালির স্বাধীনতার দাবিকে গণতান্ত্রিক বৈধতা দেয়।
৪. ৭ই মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতার ঘোষণা: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বাঙালিকে 'যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে' প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা দেন। ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার মুখে তিনি ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাঁর নির্দেশনায় ও নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।সুতরাং, সামগ্রিক মূল্যায়নে এটি স্পষ্ট যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল স্থপতি ও অবিসংবাদিত পথপ্রদর্শক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও