যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত-১: দুটি গাছের আকার, পাতার ধরন, ফুল একই রকম। একটি আম গাছ; সুতরাং অন্যটিও আম গাছ হবে।দৃষ্টান্ত-২: মানুষের মত কম্পিউটার কথা বলে, লিখতে পারে ও ছবি আঁকে। মানুষের বুদ্ধি আছে; সুতরাং কম্পিউটারেরও বুদ্ধি আছে।

  1. ক)

    সাধু সাদৃশ্যানুমান বলতে কী বুঝ?

    (1)
  2. খ)

    সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-২ কোন ধরনের আরোহকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    সাদৃশ্যানুমানের আলোকে দৃষ্টান্ত-১ এবং দৃষ্টান্ত-২ আলাদা কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুটি বস্তুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ, মৌলিক ও অপরিহার্য বিষয়ে সাদৃশ্য দেখিয়ে তাদের একটির কোনো বিশেষ গুণ থাকলে অন্যটিতেও তা থাকবে বলে অনুমান করাকে সাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাদৃশ্যানুমানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় কার্যকারণ সম্পর্কের কোনো নিশ্চিত জ্ঞান থাকে না। এখানে কেবল কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে আরেকটি বিষয়ে অনুমিত সাদৃশ্যের সিদ্ধান্ত টানা হয়। সাদৃশ্য যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, তা পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে পারে না; সাদৃশ্যের মাত্রা যত বেশি হবে সিদ্ধান্তের সম্ভাব্যতা তত বৃদ্ধি পাবে। তাই সাদৃশ্যানুমানের সিদ্ধান্ত সবসময়ই সম্ভাব্য হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-২ ‘অসাধু সাদৃশ্যানুমান’ (Bad Analogy)-কে নির্দেশ করে।

    ব্যাখ্যা: যে সাদৃশ্যানুমানে দুটি বস্তুর মধ্যে বাহ্যিক, অমৌলিক ও অপ্রাসঙ্গিক কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে অসাধু সাদৃশ্যানুমান বলে।

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এ মানুষ ও কম্পিউটারের কথা বলা, লেখা ও ছবি আঁকার মতো বাহ্যিক আচরণের মিল দেখে মানুষের বুদ্ধি থাকার কারণে কম্পিউটারেরও বুদ্ধি আছে বলে অনুমান করা হয়েছে। মানুষের কথা বলা বা আঁকা তার নিজস্ব চেতনা ও বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ, কিন্তু কম্পিউটারের ক্ষেত্রে এগুলো প্রোগ্রামিং দ্বারা নির্ধারিত বাহ্যিক ক্রিয়া মাত্র। এখানে মৌলিক ও বাস্তব সাদৃশ্য বাদ দিয়ে অগুরুত্বপূর্ণ বা আপাত সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এটি অসাধু সাদৃশ্যানুমানকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাদৃশ্যানুমানের প্রকারভেদের আলোকে দৃষ্টান্ত-১ এবং দৃষ্টান্ত-২ মূলত দুটি ভিন্ন রূপ নির্দেশ করে—দৃষ্টান্ত-১ সাধু সাদৃশ্যানুমান এবং দৃষ্টান্ত-২ অসাধু সাদৃশ্যানুমান। নিম্নে এদের পার্থক্যের বিশদ বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

    ১. সাদৃশ্যের গুরুত্ব ও স্বরূপ:
    দৃষ্টান্ত-১ এ দুটি গাছের আকার, পাতার ধরন ও ফুলের গঠন—যা উদ্ভিদের প্রজাতি নির্ধারণে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের মিল—এর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি একটি ‘সাধু সাদৃশ্যানুমান’। অপরদিকে দৃষ্টান্ত-২ এ মানুষ ও কম্পিউটারের মধ্যে কিছু কাজের বাহ্যিক ও কৃত্রিম সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করে মানুষের বুদ্ধিমত্তার মতো মৌলিক গুণ কম্পিউটারের ওপর আরোপ করা হয়েছে, যা ‘অসাধু সাদৃশ্যানুমান’।

    ২. মৌলিক বনাম অমৌলিক বিষয়ের সাদৃশ্য:
    দৃষ্টান্ত-১ এর সাদৃশ্যগুলো জৈবিক ও প্রজাতিগতভাবে প্রাসঙ্গিক। কিন্তু দৃষ্টান্ত-২ এর সাদৃশ্য নিতান্তই বাহ্যিক ও কৃত্রিম; মানুষ জৈব সত্তা ও চেতনাসম্পন্ন, আর কম্পিউটার হলো কৃত্রিম যন্ত্র। এদের মধ্যে কাঠামোগত ও মৌলিক পার্থক্য প্রচুর।

    ৩. সিদ্ধান্তের সম্ভাবনার মাত্রা:
    সাধু সাদৃশ্যানুমান হিসেবে দৃষ্টান্ত-১ এর সিদ্ধান্তের সত্যতার মাত্রা অত্যন্ত দৃঢ় ও যুক্তিযুক্ত। কিন্তু অসাধু সাদৃশ্যানুমান হিসেবে দৃষ্টান্ত-২ এর সিদ্ধান্ত ভ্রান্ত ও অসম্ভব, কারণ কম্পিউটার সচেতন বুদ্ধি ধারণ করতে পারে না।

    অতএব, সাদৃশ্যের গভীরতা, মৌলিকতা এবং প্রাসঙ্গিকতার কারণেই দৃষ্টান্ত-১ এবং দৃষ্টান্ত-২ পরস্পর থেকে সুস্পষ্টভাবে আলাদা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন