পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ভারতীয়দের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ১৮৮৫ সালে সর্বপ্রথম এ উপমহাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের উদ্ভব ঘটে। এ দলটি একটি সম্প্রদায়ের দাবি-দাওয়া আদায়ের সোচ্চার ভূমিকা রাখলেও অন্য একটি সম্প্রদায়ের লোকজন বঞ্চিত হতে থাকে। পরবর্তীতে বঞ্চিত সম্প্রদায় তাদের স্বার্থ এবং দাবি -দাওয়া পূরণের উদ্দেশ্যে আরো একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। পরবর্তীতে দল দুটির নেতৃত্বে ভারত বিভক্ত হয়ে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষিমন্ত্রী কে ছিলেন?
- খ)(2)
বারাসাত বিদ্রোহ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কোন কোন রাজনৈতিক দলের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ভারত বিভক্তিতে উক্ত দল দুটি ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষিমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (কৃষি, ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ শাসন ও নীলকরদের অত্যাচার এবং স্থানীয় জমিদারদের অন্যায় করের বিরুদ্ধে তিতুমীরের (সৈয়দ মীর নিসার আলী) নেতৃত্বে ১৮৩১ সালে চব্বিশ পরগনার বারাসাত অঞ্চলে যে সশস্ত্র কৃষক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তাকে 'বারাসাত বিদ্রোহ' বলা হয়। নারকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে তিতুমীর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে বীরত্বের সাথে শহীদ হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দল হিসেবে 'নিখিল ভারত জাতীয় কংগ্রেস' (Indian National Congress) এবং পরবর্তীতে বঞ্চিত মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত দল হিসেবে 'সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ' (All India Muslim League)-এর কথা বলা হয়েছে।
১৮৮৫ সালে অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউমের উদ্যোগে সর্বভারতীয় রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ক্রমান্বয়ে এটি মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বার্থের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায় নিজেদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণে বঞ্চিত বোধ করে।
এই বঞ্চনা ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় 'মুসলিম লীগ'। উদ্দীপকের তথ্য অনুসারে প্রথম রাজনৈতিক দল কংগ্রেস এবং পরবর্তীতে গঠিত অপর দলটি হলো মুসলিম লীগ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারত বিভক্তিতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয় রাজনৈতিক দলই কেন্দ্রীয় এবং প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছিল।
মুসলিম লীগ লাহোর প্রস্তাব (১৯৪০)-এর ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমির দাবি তোলে এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর 'দ্বিজাতিতত্ত্ব' জোরদার করে। মুসলিম লীগের দাবি ছিল ভারত বিভাগের মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করা।
অন্যদিকে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রথমে ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে অনড় অবস্থান নিলেও ১৯৪৬-৪৭ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে বিভক্তিকে একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়। জওহরলাল নেহেরু ও সর্দার প্যাটেলসহ শীর্ষ কংগ্রেস নেতারা ভারতের বিভাজন স্বীকার করে নেন।
উভয় দলের নেতৃত্ব ও মতৈক্যের ফলেই মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা এবং পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন প্রণীত হয়। এর পরিণতিতে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও