পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'H' রাষ্ট্রের স্বাভাবিক শাসক রাষ্ট্রটির একটি অংশ জনগণের ওপর ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন শোষণ আরম্ভ করে। জনগণ এতে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন পন্থায় সরকার এ সকল আন্দোলন প্রতিহত করার চেষ্টা করে। সাধারণ জনগণ তাদের এক অভিসংবাদিত নেতা নেতৃত্বে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে তোলে। গণ আন্দোলনের চাপের নতিস্বীকার করে সামরিক সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
- ক)(1)
আগরতলা মামলার প্রধান আসামি কে ছিলেন?
- খ)(2)
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ঘটনাটির সাথে তোমার পঠিত কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
পাকিস্তানের রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনাটির প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগরতলা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কেন্দ্র বা যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের নিজস্ব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নীতি নির্ধারণ ও শাসনকার্য পরিচালনার সাংবিধানিক অধিকারকে বোঝায়। এতে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং মুদ্রার মতো কয়েকটি মৌলিক বিষয় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে রেখে প্রদেশসমূহকে অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, আইন প্রণয়ন, অর্থব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে আমাদের জাতীয় ইতিহাসের ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক 'গণঅভ্যুত্থান'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।\n\n১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেন এবং পূর্ব পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ-বঞ্চনা তীব্রতর করেন। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন। আইয়ুব সরকার দমননীতির আশ্রয় নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে মিথ্যা 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের করে তাঁকে কারারুদ্ধ করে। এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং ১১ দফার ভিত্তিতে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে।\n\nউদ্দীপকে উল্লেখিত 'H' রাষ্ট্রের সামরিক শাসক কর্তৃক একটি অংশের ওপর ঔপনিবেশিক শোষণ চালানো, আন্দোলন দমনে সরকারের অপচেষ্টা, একজন অবিসংবাদিত নেতার নেতৃত্বে তীব্র গণআন্দোলন এবং শেষ পর্যন্ত সামরিক সরকারের পদত্যাগের বাধ্যবাধকতা—এ বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং আইয়ুব খানের পতনকে নির্দেশ করে। তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ স্বৈরশাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানের রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনাটি অর্থাৎ ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর, সুদূরপ্রসারী এবং ঐতিহাসিক। নিচে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:\n\n১. আইয়ুব শাহীর পতন: গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা লৌহমানব খ্যাত আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী সামরিক শাসনের অবসান ঘটে এবং তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হন।\n\n২. আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও বন্দিমুক্তি: তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার ঐতিহাসিক 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।\n\n৩. 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত: ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সংবর্ধনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়, যা তাঁকে বাঙালি জাতির একক ও অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করে।\n\n৪. ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন: গণঅভ্যুত্থানের চাপে পরবর্তী সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধ্য হন।\n\n৫. বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ও স্বাধীনতা: এই গণআন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার চেতনা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের সুদৃঢ় ভিত রচনা করে, যা পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম ত্বরান্বিত করে।\n\nঅতএব, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সামরিক শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল এবং বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও স্বাধীনতার দ্বার উন্মোচন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও