ভূগোল ২য় পত্র • শিল্প • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    শিল্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়ন বৃদ্ধি পায়- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত পণ্যের সংশ্লিষ্ট খনিজের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দেশটির উন্নয়নে খ ও গ কারখানায় ব্যবহৃত খনিজসমূহের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাপক মূলধন, শ্রম এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অধিক উপযোগী পণ্যে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিনিয়োগ বলতে নতুন মূলধনি সম্পদ সৃষ্টি বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে অর্থ খাটানোকে বোঝায়। পর্যাপ্ত বিনিয়োগের ফলে নতুন নতুন কারখানা স্থাপন, উন্নত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সংযোজন এবং কাঁচামাল সংগ্রহ সহজতর হয়। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়লে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটে, যা অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এভাবে মূলধন জোগান ও উৎপাদনশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে বিনিয়োগ সরাসরি শিল্পায়নের গতি বৃদ্ধি করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত কারখানায় উৎপাদিত পণ্য হলো সিরামিক। সিরামিক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বা সংশ্লিষ্ট খনিজ হলো চীনামাটি (White Clay)। নিচে এর বর্ণনা দেওয়া হলো:
    ১. প্রকৃতি ও ব্যবহার: চীনামাটি একটি নরম, সাদা রঙের পললজাতীয় খনিজ। এটি সিরামিক বা চিনা মাটির তৈজসপত্র, বাসনকোসন, টাইলস, ইনসুলেটর ইত্যাদি তৈরিতে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
    ২. বাংলাদেশের প্রাপ্তিস্থান: বাংলাদেশে প্রথম ১৯৫৭ সালে নেত্রকোণা জেলার বিজয়পুরে সাদা মাটি বা চীনামাটির সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়া শেরপুরের ভেদিকাটা, নওগাঁর পত্নীতলা এবং সিলেটের কোনো কোনো স্থানে চীনামাটির সন্ধান মেলে। তবে বিজয়পুরের চীনামাটি উন্নত মানের এবং দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ মেটায়।
    ৩. অর্থনৈতিক গুরুত্ব: স্থানীয়ভাবে চীনামাটি আহরণের ফলে দেশে সিরামিক শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির (বাংলাদেশ) 'খ' ও 'গ' কারখানায় উৎপাদিত পণ্য যথাক্রমে স্যানিটারি ও দিয়াশলাই। স্যানিটারি সামগ্রী তৈরিতে মূলত চীনামাটি ও সিলিকা বালু এবং দিয়াশলাই তৈরিতে গন্ধক (সালফার) ও অন্যান্য খনিজ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া সিলিকা বালুর প্রধান ব্যবহার গ্লাস ও স্যানিটারি শিল্পে ব্যাপক। দেশটির সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসব খনিজের গুরুত্ব অপরিসীম:

    ১. শিল্পায়ন ও স্থানীয় উৎপাদন: স্যানিটারি তৈরিতে ব্যবহৃত সিলিকা বালু ও চীনামাটি গৃহনির্মাণ সামগ্রীর স্বয়ংসম্পূর্ণতা এনে দিয়েছে। অপরদিকে দিয়াশলাই শিল্পে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়, যা স্থানীয় শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে।
    ২. বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও রপ্তানি আয়: নিজস্ব খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের ফলে স্যানিটারি সামগ্রী আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পেয়েছে এবং বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নতমানের স্যানিটারি পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
    ৩. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এসব খনিজ আহরণ, পরিশোধন এবং এ-সম্পর্কিত কারখানাগুলো পরিচালনায় বিপুল সংখ্যক দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের বেকারত্ব হ্রাস ও দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করছে।
    ৪. আবাসন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: আধুনিক নগরায়ন ও আবাসনে উন্নত মানের স্যানিটারি সামগ্রী সরবরাহ জীবনযাত্রার মান এবং স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে।

    সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত খ ও গ কারখানায় ব্যবহৃত খনিজসমূহ বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন