ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
সাধারণত নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে সারা বছর 'ক' ধরনের বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়। আবার বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘খ’ ধরনের বৃষ্টিপাত হয় যা পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে সংঘটিত হয়।
- ক)(1)
আপেক্ষিক আর্দ্রতা কী?
- খ)(2)
কৃষিক্ষেত্রে জলবায়ুর ভিন্নতার প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' বৃষ্টিপাত চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' ধরনের বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এবং একই তাপমাত্রায় ওই পরিমাণ বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয় বাষ্পের পরিমাণের অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিকাজ প্রধানত জলবায়ুর উপাদানের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও সূর্যালোকের প্রয়োজন হয়। যেমন— ধান চাষের জন্য অধিক তাপমাত্রা ও প্রচুর বৃষ্টিপাত দরকার হয়, যা উষ্ণ-আর্দ্র ক্রান্তীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য; অন্যদিকে গম চাষের জন্য অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রা ও স্বল্প আর্দ্রতা উপযোগী। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের সময় ও পরিমাণ পরিবর্তিত হলে ফসলের উৎপাদনও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' দ্বারা 'পরিচলন বৃষ্টিপাত' (Convectional Rain)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা: দিনের বেলায় প্রচণ্ড সূর্যতাপে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে থাকা বায়ুও দ্রুত উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে সোজা ওপরের দিকে উঠে যায়। ওপরে উঠে এ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু শীতল ও প্রসারিত হয়। ফলে বায়ুর মধ্যস্থ জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয় এবং সাধারণত বিকালের দিকে বা সন্ধ্যার আগে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রতিদিন প্রচুর সূর্যতাপ পাওয়া যায় বলে সেখানে সারা বছর নিয়মিতভাবে এ পরিচলন বৃষ্টি সংঘটিত হয়।
(পরীক্ষায় পরিচলন বৃষ্টির একটি স্পষ্ট চিত্র অঙ্কন করতে হবে, যাতে সূর্যের উত্তাপ, ভূপৃষ্ঠ থেকে ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ-আর্দ্র বায়ুর স্রোত, ওপরে মেঘ সৃষ্টি ও বৃষ্টিপাতের প্রবাহ দেখানো হবে।) - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' দ্বারা 'পরিচলন বৃষ্টিপাত' এবং 'খ' দ্বারা 'শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত' (Orographic Rain)-কে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এদের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উৎপত্তির কারণ: পরিচলন বৃষ্টিপাত মূলত সূর্যের প্রবল তাপে বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ঊর্ধ্বগামী হওয়ার ফলে ঘটে। অপরদিকে, শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটে যখন জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুপ্রবাহের গতিপথে কোনো পর্বত বা উঁচু ভূমি বাধা প্রদান করে এবং বায়ু পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠতে বাধ্য হয়।
২. অঞ্চলগত ভিন্নতা: পরিচলন বৃষ্টিপাত প্রধানত নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিন এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলের গ্রীষ্মকালে ঘটে থাকে। অন্যদিকে, শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত সমুদ্র তীরবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে ঘটে, যেমন বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টি হয়।
৩. বৈশিষ্ট্য ও ব্যাপ্তি: পরিচলন বৃষ্টি সাধারণত স্বল্পস্থায়ী এবং তীব্র মেঘগর্জন ও বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী ধারায় বর্ষিত হয়। শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি পর্বতের প্রতিবাত ঢালে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচুর পরিমাণে হলেও অনুবাত ঢালে আর্দ্রতাহীনতার কারণে বৃষ্টিপাত হয় না (বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টি করে)।সুতরাং, প্রক্রিয়াগত ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পরিচলন বৃষ্টি ও শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি পরস্পরের থেকে স্বতন্ত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও