ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে?
- খ)(2)
সমুদ্র বায়ু সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে চিহ্নিত ‘খ’ বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে চিহ্নিত 'ক' ও 'খ' বায়ুপ্রবাহের মধ্যকার ভিন্নতা বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বায়ুমণ্ডলের চাপের তারতম্যের কারণে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর অনুভূমিক চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দিনের বেলায় স্থলভাগ জলভাগের চেয়ে দ্রুত উত্তপ্ত হয়। ফলে স্থলভাগের ওপরের বায়ু উষ্ণ ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় এবং সেখানে একটি সাময়িক নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে, সমুদ্রের পানি তখনও অপেক্ষাকৃত শীতল থাকায় সেখানে উচ্চচাপ বিরাজ করে। তাই সমুদ্রের শীতল ও ভারী বায়ু স্থলভাগের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হতে থাকে। এভাবে সমুদ্র বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিহ্নিত 'খ' বায়ুপ্রবাহটি হলো উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু (বা উত্তর গোলার্ধের বাণিজ্য বায়ু), যা কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের (০°) দিকে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মুখে প্রবাহিত হচ্ছে।
এই বায়ুপ্রবাহের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. দিক স্থায়িত্ব: ফেরেলের সূত্র অনুসারে এটি উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে সারা বছর নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়।
২. আর্দ্রতা ও শুষ্কতা: উচ্চ অক্ষাংশ (শীতলতর অঞ্চল) থেকে উষ্ণতর নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় এর উষ্ণতা ও জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে মহাদেশের অভ্যন্তর দিয়ে যাওয়ার সময় এটি আর্দ্রতাহীন থাকে এবং বৃষ্টিপাত কম ঘটায়।
৩. মরুভূমির সৃষ্টি: এই বায়ুর প্রভাবে মহাদেশগুলোর পশ্চিম অংশে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে, যার ফলে সাহারা, আরব প্রভৃতি উষ্ণ মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে।
৪. বাণিজ্য সহায়ক: প্রাচীনকালে পালতোলা জাহাজে এই বায়ুর দিক অনুসরণ করে বাণিজ্য চলত বলে একে 'বাণিজ্য বায়ু' বা 'Trade Wind' বলা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিহ্নিত 'ক' হলো উত্তর গোলার্ধের 'পশ্চিম বায়ু' (দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমা বায়ু) এবং 'খ' হলো 'আয়ন বায়ু' (উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু)। এই দুই বায়ুপ্রবাহের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য ও ভিন্নতা বিদ্যমান:
১. উৎপত্তিস্থল ও প্রবাহের দিক:
- 'খ' (আয়ন বায়ু): এটি কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় (প্রায় ২৫°-৩৫° উত্তর) থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- 'ক' (পশ্চিমা বায়ু): এটি কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে সুমেরুবৃত্তীয় নিম্নচাপ বলয়ের (প্রায় ৬০°-৭০° উত্তর) দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।
২. তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পার্থক্য:
- আয়ন বায়ু অপেক্ষাকৃত শীতল অঞ্চল থেকে উষ্ণতর নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে যায়, তাই এটি সাধারণত শুষ্ক প্রকৃতির হয় এবং মহাদেশীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ঘটায় না।
- পশ্চিমা বায়ু উষ্ণ উপক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে অপেক্ষাকৃত শীতল অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। ফলে এটি সমুদ্র থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প গ্রহণ করে এবং মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়।
৩. গতিবেগ ও স্থায়িত্ব:
- আয়ন বায়ু অত্যন্ত শান্ত ও নিয়মিত গতিতে প্রবাহিত হয়; এতে হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসের প্রকোপ কম থাকে।
- পশ্চিমা বায়ুর গতি অপেক্ষাকৃত অনিয়মিত, পরিবর্তনশীল এবং বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সাথে জড়িত।
৪. ভৌগোলিক প্রভাব:
- আয়ন বায়ুর প্রবাহপথে মহাদেশগুলোর পশ্চিম ভাগে বিশালাকার উষ্ণ মরুভূমি গড়ে উঠেছে।
- পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে মধ্য অক্ষাংশের দেশগুলোর পশ্চিম উপকূলে মনোরম আর্দ্র জলবায়ু (যেমন ব্রিটিশ জলবায়ু) পরিলক্ষিত হয়।
সুতরাং, প্রবাহের দিক, তাপমাত্রাগত পরিবর্তন এবং জলবায়ুর ওপর এদের প্রভাবের দিক থেকে 'ক' ও 'খ' বায়ুপ্রবাহ একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও