সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
সহপাঠ প্রশ্ন
নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘদিন। অনেক সালিশ-বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোটো ভাই নেপাল বড়ো ভাইকে শায়েস্তা করতে আব্দুল নামে এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে। আব্দুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। কোরবানির ঈদে সে নেপালের বাড়ির সামনে গোরু কোরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবার ভারতে চলে যায় সে।
- ক)(1)
মিরজাফর কোন দেশ হতে ভারতে আসেন?
- খ)(2)
"ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব।"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'নেপাল' চরিত্রের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে 'মিরজাফর' চরিত্রের তুলনা করো।
- ঘ)(4)
'খাল কেটে কুমির আনা।' প্রবাদটি উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।"- উক্তিটির সার্থকতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মীরজাফর পারস্য (বা ইরান) হতে ভারতে আসেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভেতরের আপনজন বা দেশের মানুষ যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে, তবে বাইরের শত্রুর পক্ষে যেকোনো অসাধ্য সাধন বা ক্ষতি করা সম্ভব হয়ে ওঠে—এ সত্যটি বোঝাতে উক্তিটি করা হয়েছে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মূল কারণ ছিল তাঁর নিজের অমাত্য ও সেনাপতিদের চরম বিশ্বাসঘাতকতা। নবাব দরবারের মীরজাফর, ঘসেটি বেগম ও শেঠরা যদি ইংরেজদের সাথে গোপনে হাত না মেলাত, তবে বহিরাগত অল্পসংখ্যক বণিকের পক্ষে বাংলা জয় করা অসম্ভব ছিল। ভেতরের লোকের সহায়তার কারণেই বাইরের শত্রু শক্তিমান হয়ে উঠেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ‘নেপাল’ চরিত্রের সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ‘মীরজাফর’ চরিত্রের তুলনা করলে দেখা যায় উভয়েই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসাবশত শত্রুকে ডেকে এনে নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।
উদ্দীপকের ছোট ভাই নেপাল বড় ভাই গোপালের সাথে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে না পেরে ভাইকে শায়েস্তা করতে বহিরাগত এক ব্যক্তির (আব্দুল) কাছে ভিটের জমি বিক্রি করে। এতে ভাইয়ের ক্ষতি করতে গিয়ে সে নিজের ধর্মীয় ও পারিবারিক পরিবেশ বিনষ্ট করে এবং শেষ পর্যন্ত ভিটেমাটি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মীরজাফরও নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রতি ব্যক্তিগত ঈর্ষা, ক্ষমতার লোভ ও আক্রোশ চরিতার্থ করতে বিদেশি ইংরেজদের ডেকে আনে এবং তাদের সাথে ষড়যন্ত্র করে। নেপালের মতো মীরজাফরও নবাবকে হটিয়ে ক্ষমতা লাভের আশা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে ইংরেজদের হাতের পুতুলে পরিণত হয় এবং দেশের স্বাধীনতা চিরতরে হারায়। ক্ষোভের বশে বাইরের অপশক্তিকে ব্যবহার করার মানসিকতায় উভয়ের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘খাল কেটে কুমির আনা’ প্রবাদটির অর্থ হলো নিজের দোষে বা অবিবেচনাপ্রসূত কাজের মাধ্যমে নিজেই নিজের বা পরিবারের ঘোর বিপদ ডেকে আনা। উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটক উভয় ক্ষেত্রেই এই প্রবাদটি অক্ষরে অক্ষরে সত্য।
উদ্দীপকে নেপাল বড় ভাই গোপালকে শায়েস্তা করার অন্ধ আক্রোশে ভিটের জমি এক বহিরাগতের কাছে বিক্রি করে। এর ফলে সেই বহিরাগত সেখানে স্থায়ী হয়ে বাড়ির সামনে গোরু কোরবানি দেয়, যা নেপালের পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি চূর্ণ করে দেয়। ফলস্বরূপ, ভাইকে শিক্ষা দিতে গিয়ে নেপাল নিজেই ভিটেমাটি হারিয়ে সপরিবারে দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়। অর্থাৎ, সে নিজেই নিজ সর্বনাশের পথ তৈরি করেছে।
অনুরূপভাবে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মীরজাফর, জগৎশেঠ ও ঘসেটি বেগমরা নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ ও তাঁর বাহিনীকে ডেকে আনে। তারা ভেবেছিল ইংরেজরা সিরাজকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে নবাবির ভার মীরজাফরের হাতে তুলে দিয়ে ব্যবসা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে। কিন্তু বিদেশি বণিকরূপী ইংরেজরা বাংলায় এসে পুরো শাসনভার নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেয়, মীরজাফরকে পরিণত করে এক ক্ষমতাহীন ‘ক্লাইভের গর্দভে’ এবং পুরো বাংলাকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে নিক্ষেপ করে।
অতএব, বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে নেপালের বহিরাগতকে আনা এবং নবাবের বিরুদ্ধে মীরজাফরদের ইংরেজদের নিয়ে আসা—উভয় ঘটনাই নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনার স্পষ্ট প্রমাণ। তাই উক্তিটি উভয় ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ সার্থক ও প্রযোজ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও