হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

প্রাপ্তি একবার এক সমস্যায় পড়ে। সে বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্রের সাহায্য নিয়ে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। শেষ পর্যন্ত একজন মহাপুরুষের আদর্শ অনুসরণ করে সমস্যাটি সমাধান করতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে হৃদয়ও একটা সমস্যায় পড়ে। যখন কোনোমতেই সমাধান খুঁজে পাচ্ছিল না তখন সে একটি জায়গায় ধীর স্থিরভাবে বসে চিন্তা করে এবং সমাধানের পথ খুঁজে পায়।

  1. ক)

    হিরণ্যকশিপুকে কীসের সাহায্যে হত্যা করা হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান উপাদান সম্পর্কে বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    প্রাপ্তি ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের কোন প্রমাণের সাহায্যে সমস্যাটির সমাধান করেছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রাপ্তি ও হৃদয় তাদের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে কি ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের একই প্রমাণ অনুসরণ করেছে? পাঠের আলোকে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    হিরণ্যকশিপুকে নৃসিংহরূপী শ্রীহরি নখের সাহায্যে হত্যা করেছিলেন।

  2. খ)

    শিষ্টাচার মনুষ্যত্বের অন্যতম প্রধান উপাদান। নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে শিষ্টাচার বলে। এর মাধ্যমে আমরা গুরুজনদের শ্রদ্ধা, সমবয়সীদের শুভেচ্ছা ও ছোটদের স্নেহ করি। এই গুণই মানুষকে পশু-পাখি থেকে আলাদা করে। শিষ্টাচার একটি নৈতিক মূল্যবোধ এবং ধর্মের অঙ্গ। এর দ্বারা মানুষের মন জয় করা যায়।

  3. গ)

    প্রাপ্তি ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের সদাচার প্রমাণের সাহায্যে সমস্যাটি সমাধান করেছিল।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী কোনটি ধর্ম আর কোনটি অধর্ম তা নির্ণয়ের চারটি প্রমাণ আছে: বেদ (প্রথম), স্মৃতিশাস্ত্র (দ্বিতীয়), সদাচার (তৃতীয়) ও বিবেক (চতুর্থ)। কোনো বিষয়ে বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্র থেকে বাস্তবসম্মত উপদেশ না পাওয়া গেলে মহাপুরুষদের আচরণকে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করতে হয় এবং সে পথেই চলতে হয়। আবহমানকাল ধরে অনুসৃত ও মহাপুরুষদের দ্বারা অনুষ্ঠিত আচরণই সদাচার।

    উদ্দীপকে প্রাপ্তি প্রথমে বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্রের সাহায্য নিয়েছিল, কিন্তু সমস্যার সমাধান পায়নি। শেষে সে একজন মহাপুরুষের আদর্শ অনুসরণ করে সমস্যা সমাধান করেছে। এটি ঠিক সদাচার প্রমাণের বৈশিষ্ট্য। অতএব, প্রাপ্তি সদাচারের মাধ্যমে ধর্মাধর্ম নির্ণয় করেছে।

  4. ঘ)

    না, প্রাপ্তি ও হৃদয় ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের একই প্রমাণ অনুসরণ করেনি। প্রাপ্তি সদাচার এবং হৃদয় বিবেকের সাহায্য নিয়েছে।

    পাঠ্যবইয়ে ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের চারটি প্রমাণ বর্ণিত আছে: বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেক। এ চারটির ক্রম অনুযায়ী প্রথম দুটিতে সমাধান না মিললে তৃতীয় এবং তারপর চতুর্থটির কাছে যেতে হয়।

    ১. প্রাপ্তির ক্ষেত্রে: সে বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্রে সমাধান না পেয়ে একজন মহাপুরুষের আদর্শ অনুসরণ করেছে। মহাপুরুষদের আচরণকে দৃষ্টান্ত হিসেবে নেওয়াই সদাচার, যা ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের তৃতীয় প্রমাণ।
    ২. হৃদয়ের ক্ষেত্রে: সে কোনোভাবেই সমাধান খুঁজে না পেয়ে একটি জায়গায় ধীরস্থিরভাবে বসে চিন্তা করেছে এবং সমাধানের পথ পেয়েছে। পাঠ্যবইয়ে আছে, যখন ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না, তখন বিবেকের বাণী গ্রহণ করতে হয়। বিজ্ঞ ব্যক্তি নিজেকে প্রশ্ন করে নির্ণয় করেন কাজটি ধর্ম হবে না অধর্ম। এটিই বিবেক, চতুর্থ প্রমাণ।
    ৩. পার্থক্য: প্রাপ্তি বাইরের আদর্শ (মহাপুরুষের জীবন) অনুসরণ করেছে, আর হৃদয় নিজের অন্তরের বোধ ও বিচারবুদ্ধির উপর নির্ভর করেছে।

    সুতরাং, প্রাপ্তি ও হৃদয় তাদের সমস্যা সমাধানে ধর্মাধর্ম নির্ণয়ের ভিন্ন ভিন্ন প্রমাণ অর্থাৎ যথাক্রমে সদাচার ও বিবেক অনুসরণ করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন