বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল।গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান, কাষ্ঠ,দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্ন দান।স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত,বংশী করে নিজ স্বরে অপরে মোহিত।শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে,সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।

  1. ক)

    ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ কী ধরনের রচনা?

    (1)
  2. খ)

    ‘কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর’- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ‘প্রতিদান’ কবিতার যে দিকটি প্রকাশিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের সাধুজন ‘প্রতিদান’ কবিতার কবির কাক্ষিত মানুষ”- উক্তিটির সত্যতা যাচাই কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত একটি অমর কাহিনীকাব্য।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর’ বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, যে মানুষটি তাঁকে অনিষ্ট, দুঃখ বা আঘাত (কাঁটা) দেয়, তিনি আজীবন তাকে ভালোবাসা ও কল্যাণ (ফুল) দিয়ে প্রতিদান দেন। হিংসার পরিবর্তে প্রীতি এবং শত্রুতার বদলে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে মন জয় করার মানবতাবাদী দর্শনই এখানে ফুটে উঠেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ‘প্রতিদান’ কবিতার নিঃস্বার্থ পরোপকার ও পরার্থপরতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।

    উদ্দীপকে নদী, গাছপালা, গাভী, কাঠ, স্বর্ণ, বাঁশি এবং মেঘের মতো প্রাকৃতিক উপাদানের নিঃস্বার্থ বিলিয়ে দেওয়ার বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। তারা কেউই নিজেদের সৃষ্টি বা সঞ্চয় নিজের ভোগের জন্য রাখে না; বরং অপরের উপকারের জন্য আত্মোৎসর্গ করে। সাধু ব্যক্তিও ঠিক একইভাবে নিজের সর্বস্ব অপরের কল্যাণে ব্যয় করেন।

    ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি জসীমউদ্দীনও নিজের ঘর ভাঙনেওয়ালাকে আপন ঘর বাঁধার এবং অনিষ্টকারীর কল্যাণ কামনার মাধ্যমে আত্মবিসর্জনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উদ্দীপকের এই আত্মত্যাগ ও পরহিতৈষণার ভাবটি ‘প্রতিদান’ কবিতার সামগ্রিক পরার্থপরতার মূল সুরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের সাধুজন ‘প্রতিদান’ কবিতার কবির কাঙ্ক্ষিত মানুষ”- উক্তিটি যথার্থ ও সত্য।

    উদ্দীপকের শেষ চরণে বলা হয়েছে— ‘সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে’। অর্থাৎ সাধু ব্যক্তিরা নিজের ঐশ্বর্য বা সামর্থ্য কেবল পরের মঙ্গলের জন্যই নিবেদন করেন। তাঁদের জীবনে স্বার্থপরতার কোনো স্থান নেই; পরোপকারই তাঁদের জীবনের ব্রত।

    অন্যদিকে, ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি এমন এক মানবসত্তার প্রত্যাশা করেছেন, যে শত্রুতা ও বিদ্বেষের বিপরীতে প্রেম ও ক্ষমার বাণী প্রচার করবে। যে ব্যক্তি কবিকে আঘাত করে, বিষ দেয় কিংবা পথের বিবাগী করে, কবি তার জন্যই ঘর বাঁধেন, তাকেই কুল দেন এবং তার মঙ্গল প্রার্থনা করেন। কবি মূলত ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিখাদ পরহিতব্রতী এক উন্নত মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলতে চেয়েছেন।

    উদ্দীপকের সাধু পুরুষ ঠিক তেমনি এক ব্যক্তিত্ব, যিনি কোনো প্রতিদানের আশা না রেখে নিঃস্বার্থভাবে অপরের জন্য নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেন। সুতরাং, কবির প্রার্থিত ও কাঙ্ক্ষিত নিঃস্বার্থ মহামানবের রূপই উদ্দীপকের সাধু চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে, যা মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন