জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্ভিদজগতে প্রাধান্য বিস্তারকারী সর্বোন্নত উদ্ভিদসমূহ সাধারণত বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে এবং এদের বীজ ফলদ্বারা আবৃত থাকে। অথচ এদের পূর্বসূরী উদ্ভিদসমূহের অধিকাংশই আজ বিলুপ্ত যাদের বীজ হলেও ফলদ্বারা আবৃত থাকে না।

  1. ক)

    পুষ্প প্রতীক কী?

    (1)
  2. খ)

    Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পূর্বসূরী উদ্ভিদসমূহকে তুমি কীভাবে শনাক্ত করবে?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত উদ্ভিদসমূহের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে প্রতীকের সাহায্যে একটি পুষ্পের বিভিন্ন স্তবকের সংখ্যা, এদের অবস্থান, পুষ্পপত্রবিন্যাস, মাতৃঅক্ষের সাপেক্ষে এদের পারস্পরিক সংযুক্তি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য রেখাচিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়, তাকে পুষ্প প্রতীক (Floral Diagram) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরূপ পরিবর্তন ছাড়াই আজও পৃথিবীতে টিকে রয়েছে, অথচ তাদের সমসাময়িক বা সমগোত্রীয় অন্যান্য জীব বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম (Living Fossil) বলে।

    সাইকাস (Cycas) মেসোজোয়িক যুগে উৎপত্তি লাভ করেছিল। বর্তমানে সাইকাডেলস বর্গের অধিকাংশ উদ্ভিদই বিলুপ্ত হয়ে জীবাশ্মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু Cycas গণভুক্ত উদ্ভিদগুলো তাদের আদিম বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করে এখনও পৃথিবীতে টিকে রয়েছে। তাই Cycas-কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পূর্বসূরী উদ্ভিদসমূহ হলো নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms), যাদের বীজ উৎপন্ন হলেও তা ফলের মধ্যে আবৃত থাকে না।

    নিচে উল্লিখিত শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহের মাধ্যমে এই উদ্ভিদগুলোকে শনাক্ত করা যায়:
    ১. উদ্ভিদগুলো চিরসবুজ, বহুবর্ষজীবী এবং কাষ্ঠল স্পোরোফাইট।
    ২. এদের ফুলে কোনো গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড থাকে না।
    ৩. গর্ভাশয় না থাকার কারণে এদের কোনো ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন বা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে।
    ৪. এদের রেণুপত্রগুলো (স্পোরোফিল) ঘনভাবে সন্নিবেশিত হয়ে সাধারণত শঙ্কু বা কোন (Cone)/স্ট্রোবিলাস গঠন করে।
    ৫. এদের পরাগায়ন সরাসরি ডিম্বকরন্ধ্রে ঘটে (বায়ুর মাধ্যমে)।
    ৬. এদের জাইলেমে প্রকৃত ভেসেল এবং ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ থাকে না (ব্যতিক্রম: Gnetum)।
    ৭. এদের সস্য (Endosperm) নিষেকের পূর্বে গঠিত হয় এবং এটি হ্যাপ্লয়েড (n)।
    ৮. এদের সাধারণত দ্বি-নিষেক (Double fertilization) ঘটে না (ব্যতিক্রম: Ephedra)।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম অংশে আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms) এবং দ্বিতীয় অংশে ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদের (Gymnosperms) কথা বলা হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. গর্ভাশয় ও ফল সৃষ্টি: নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না, তাই এদের ফল গঠিত হয় না। পক্ষান্তরে, আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে এবং নিষেকের পর তা ফলে রূপান্তরিত হয়।
    ২. বীজের অবস্থান: নগ্নবীজী উদ্ভিদের বীজ নগ্ন বা অনাবৃত অবস্থায় থাকে। অপরদিকে, আবৃতবীজী উদ্ভিদের বীজ ফলের ভেতরে সুরক্ষিত বা আবৃত অবস্থায় থাকে।
    ৩. গর্ভমুণ্ড ও পরাগায়ন: নগ্নবীজী উদ্ভিদে গর্ভমুণ্ড না থাকায় পরাগরেণু সরাসরি ডিম্বকরন্ধ্রে পতিত হয়। কিন্তু আবৃতবীজী উদ্ভিদে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়ে অঙ্কুরিত হয়।
    ৪. পরিবহন কলাতন্ত্র: নগ্নবীজী উদ্ভিদের জাইলেমে সাধারণত ভেসেল এবং ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ থাকে না। অপরদিকে, আবৃতবীজী উদ্ভিদের জাইলেমে সুগঠিত ভেসেল এবং ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ বিদ্যমান।
    ৫. সস্যের প্রকৃতি ও বিকাশ: নগ্নবীজীতে নিষেকের পূর্বে সস্য গঠিত হয়, যা হ্যাপ্লয়েড (n)। অন্যদিকে, আবৃতবীজী উদ্ভিদে নিষেকের পরে সস্য গঠিত হয়, যা ট্রিপ্লয়েড (3n)।
    ৬. দ্বি-নিষেক: নগ্নবীজী উদ্ভিদে সাধারণত দ্বি-নিষেক ঘটে না। কিন্তু আবৃতবীজী উদ্ভিদে দ্বি-নিষেক একটি অনন্য ও সার্বজনীন বৈশিষ্ট্য।
    ৭. আর্কিগোনিয়াম: নগ্নবীজী উদ্ভিদে স্ত্রী জননাঙ্গ হিসেবে সুগঠিত আর্কিগোনিয়াম সৃষ্টি হয়, কিন্তু আবৃতবীজী উদ্ভিদে আর্কিগোনিয়াম সম্পূর্ণ বিলুপ্ত।

    সুতরাং, গঠনগত এবং প্রজননগত উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই উদ্ভিদের এ দুটি দলের মধ্যে সুস্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন