বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বহিপীর: ..... বিবি সাহেব- তাহেরা: (বাধা দিয়ে উচ্চস্বরে) আমাকে বিবি ডাকবেন না। বিয়েতে আমি মত দিই নাই। আপনার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়নি।বহিপীর: (একটু রেগে) আপনি মত না দিলেও আপনার বাপজান দিয়েছেন। তাহা ছাড়া সাক্ষী সাবুদ সমেত কাবিননামাও হইয়া গিয়াছে। এখন সেকথা বলিলে চলবে কেন। (সুর বদলিয়ে) দেখুন মন দিয়া আমার কথা শুনুন।তাহেরা: (আবার বাধা দিয়ে) আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না। আমার বাপজান আর সৎমা আপনাকে খুশি করার জন্য আপনার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। আমি যেন কোরবানির বকরি। আপনি পুলিশে খবর দিতে পারেন, আপনি আমার বাপজানকে ডেকে পাঠাতে পারেন, আমার ওপর জুলুম করতে পারেন। কিন্তু আমি আপনার সঙ্গে যাব না।
- ক)(1)
ধলা মিয়া কার ভাই?
- খ)(2)
"শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি"- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তাহেরার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের সাদৃশ্য কতটুকু?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকটিতে 'লালসালু' উপন্যাসের একটি খন্ডাংশের ইঙ্গিত রয়েছে- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধলা মিয়া তাহের ও কাদেরের ভাই (বা খালাতো ভাই)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"শস্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি" বলতে মহব্বতনগর গ্রামে ধর্মচর্চার চেয়ে ধর্মের নামে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বাড়বাড়ন্তকে বোঝানো হয়েছে।
গ্রামের মানুষের জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত ফসল নেই, কিন্তু সেখানে ধার্মিকতার বাহ্যিক রূপ প্রদর্শনে টুপির ব্যবহার ব্যাপক। তবে তাদের এই ধর্মচেতনা কোনো খাঁটি মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং ভণ্ডামি, অজ্ঞতা ও ধর্মান্ধতায় পূর্ণ। ধর্মের নামে যে কুসংস্কার ও অন্যায্য আচার সমাজকে ঘিরে ধরেছে, তাকেই এখানে 'ধর্মের আগাছা' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তাহেরার সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ও ব্যক্তিত্বময় অবস্থানের ক্ষেত্রে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের তাহেরা এক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরুণী, যে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বয়োবৃদ্ধ বহিপীরের সাথে বিয়ে মেনে নিতে অস্বীকার করে এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—সে কোনো কুরবানির বকরি নয়। নিজের অধিকার রক্ষায় সে কোনো জুলুম বা ভয়ভীতির তোয়াক্কা না করে সরাসরি নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, 'লালসালু' উপন্যাসের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা অল্পবয়সী এক চপল কিশোরী। তাকে বৃদ্ধ মজিদের সাথে বিয়ে দেওয়া হলেও সে মজিদের তথাকথিত ধর্মব্যবসা, ভণ্ডামি ও শাসনকে অন্ধভাবে মেনে নেয়নি। মজিদের ভীতিপ্রদর্শন ও মাজারের ধর্মীয় অনুশাসনের বিরুদ্ধে জমিলা নীরব অথচ তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে। মজিদকে সে নিজের স্বামীরূপে ভক্তি করেনি, এমনকি মাজারে বেঁধে রাখার পরও সে মজিদের মুখের ওপর থুথু দিয়ে তার ভেতরের প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
অতএব, অনাকাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধ স্বামী ও সামাজিক অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে নিজের ব্যক্তিত্ব ও প্রতিবাদ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাহেরা এবং জমিলা চরিত্রের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটিতে 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজবাস্তবতা এবং নারীর প্রতি হওয়া অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি খণ্ডাংশের ইঙ্গিত রয়েছে—মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মীয় ভণ্ডামিকে পুঁজি করে পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার যে চিত্র মজিদ ফুটিয়ে তুলেছে, তা সমাজের এক গভীর অন্ধকার দিক। সেখানে বৃদ্ধ মজিদ তার লালসা ও প্রভাব বিস্তার করতে অল্পবয়সী জমিলাকে বিয়ে করে ঘরে তোলে। কিন্তু জমিলা সেই অন্ধ আনুগত্য মেনে না নিয়ে অবাধ্যতা ও নীরব প্রতিবাদের মাধ্যমে মজিদের ক্ষমতার ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'বহিপীর' নাটকের সংলাপে তাহেরার ঘটনাটিও ঠিক একই ধরনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে। সেখানেও একজন বয়োবৃদ্ধ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অসম ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে এক তরুণীকে বিয়ে দেওয়া হয় এবং তাহেরা সেই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্রভাবে বিদ্রোহ করে নিজের স্বাধীনতা রক্ষা করতে সচেষ্ট হয়।
তবে 'লালসালু' উপন্যাসের বিস্তৃতি অনেক ব্যাপক; সেখানে গ্রামীণ কুসংস্কার, শোষণের স্বরূপ, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন এবং অন্ধবিশ্বাসের শিকার পুরো সমাজের নিখুঁত চালচিত্র রয়েছে। উদ্দীপকটিতে মূলত সেই বৃহৎ প্রেক্ষাপটের মধ্য থেকে 'অসম বিবাহ' এবং 'নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রোহ'—এই নির্দিষ্ট দিকটিরই প্রকাশ ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'লালসালু' উপন্যাসের সম্পূর্ণ রূপ না থাকলেও তার একটি গুরুত্বপূর্ণ খণ্ডাংশের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও