জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
কোষের এক প্রকার বিভাজনে সৃষ্ট কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা সমান থাকে এবং অন্য প্রকার বিভাজনে সৃষ্ট কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয়। উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
- ক)(1)
হেটারোমরফিক জনুঃক্রম কী?
- খ)(2)
ক্রসিং ওভার বলতে কী বোঝ ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ১ম প্রকার বিভাজনের শেষ তিনটি ধাপের চিহ্নিত চিত্র আঁক।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষ বিভাজন দুটি উদ্ভিদের জীবনে অপরিহার্য-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড জনু দুটি যখন আকার ও আকৃতিতে ভিন্ন ধরনের হয়, তখন সেই জনুঃক্রমকে হেটারোমরফিক জনুঃক্রম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মায়োসিস-১ এর প্রফেজ-১ উপপর্যায়ের প্যাকাইটিন দশায় একজোড়া হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে কায়াজমা সৃষ্টির মাধ্যমে অংশের যে বিনিময় ঘটে, তাকে ক্রসিং ওভার বলে। ক্রসিং ওভারের ফলে ক্রোমাটিডে জিনের পুনর্বিন্যাস বা রিকম্বিনেশন ঘটে, যা জীবের মধ্যে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ১ম প্রকার বিভাজনটি হলো মাইটোসিস। মাইটোসিসের মোট পাঁচটি ধাপের শেষ তিনটি ধাপ হলো: মেটাফেজ, অ্যানাফেজ এবং টেলোফেজ।
[পরীক্ষার খাতায় নিমোক্ত তিনটি ধাপের সুস্পষ্ট চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে:]
১. মেটাফেজ (Metaphase): যেখানে ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে এবং সবচেয়ে খাটো ও মোটা দেখায় (সেন্ট্রোমিয়ার, ক্রোমাটিড, মেরু ও স্পিন্ডল তন্তুর চিহ্নিতকরণ)।
২. অ্যানাফেজ (Anaphase): যেখানে সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিপরীত মেরুর দিকে ধাবিত হয় এবং V, L, J, I আকৃতি ধারণ করে।
৩. টেলোফেজ (Telophase): যেখানে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো দুই মেরুতে পৌঁছে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের পুনর্গঠন ঘটায় এবং সাইটোকাইনেসিসের সূত্রপাত হিসেবে কোষ প্লেট গঠিত হতে দেখা যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম বিভাজনটি মাইটোসিস এবং ২য় বিভাজনটি মায়োসিস কোষ বিভাজন। উদ্ভিদের সামগ্রিক জীবনচক্র পরিচালনায় এ দুটি বিভাজনই অপরিহার্য, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মাইটোসিসের গুরুত্ব:
ক. বৃদ্ধি ও দৈহিক বিকাশ: উদ্ভিদের ভ্রূণ থেকে চারা এবং পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদে রূপান্তর মাইটোসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটে। কান্ডের ও মূলের শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে উদ্ভিদকে দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বৃদ্ধি করে।
খ. ক্ষতপূরণ ও কোষ প্রতিস্থাপন: উদ্ভিদের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মাইটোসিসের মাধ্যমে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়ে ক্ষত নিরাময় হয়।
গ. ক্রোমোজোম সংখ্যার ভারসাম্য: মাইটোসিসের মাধ্যমে উৎপন্ন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্দিষ্ট ও সমান থাকে, যা উদ্ভিদের বংশগত স্থায়িত্ব অক্ষুণ্ন রাখে।
ঘ. অযৌন ও অঙ্গজ প্রজনন: অঙ্গজ প্রজননের ভিত্তি হলো মাইটোসিস।২. মায়োসিসের গুরুত্ব:
ক. জননকোষ সৃষ্টি ও প্রজাতির স্থায়িত্ব: যৌন প্রজননক্ষম উদ্ভিদে গ্যামেট সৃষ্টির সময় (বা স্পোর সৃষ্টির সময়) মায়োসিস ঘটে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক (n) হয়। ফলে নিষেকের পর ডিপ্লয়েড (2n) অবস্থা পুনরুদ্ধার হয় এবং প্রজন্মান্তরে প্রজাতির বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট থাকে।
খ. জিনগত বৈচিত্র্য: মায়োসিসের সময় ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে নতুন জিনগত সমন্বয় তৈরি হয়, যা উদ্ভিদের মধ্যে অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও অভিব্যক্তি বা বিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
গ. জনুঃক্রম রক্ষা: উদ্ভিদের হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশার মধ্যে আবর্তন মায়োসিস বিভাজনের ফলেই সম্ভব হয়।সুতরাং, মাইটোসিস উদ্ভিদের দৈহিক অস্তিত্ব রক্ষা করে এবং মায়োসিস বংশধারা ও প্রজাতির বৈচিত্র্যময় অস্তিত্ব নিশ্চিত করে; তাই উভয় বিভাজনই উদ্ভিদের জীবনে অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও