রসায়ন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পাই বন্ধন কাকে বলে?
- খ)(2)
HNO3HNO_3ও H₃PO₄ এর মধ্যে কোনটি তীব্র এসিড ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
B পাত্রের পদার্থ হতে ঘি প্রস্তুতপ্রণালী প্রবাহ চিত্রসহ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
A পাত্রের কলয়েড কণাসমূহের জমাট না বাধার কারণ ব্যাখ্যাসহ জমাট বাধার কৌশল বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি পরমাণুর একই অক্ষ বরাবর অবস্থিত সমান্তরাল দুটি p-অরবিটালের পাশাপাশি বা পার্শ্বীয় অধিক্রমণের ফলে যে সমযোজী বন্ধন গঠিত হয়, তাকে পাই (π) বন্ধন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
HNO₃ ও H₃PO₄ এর মধ্যে HNO₃ অধিক তীব্র এসিড।
অক্সোএসিডসমূহের তীব্রতা কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। কেন্দ্রীয় পরমাণুর জারণ সংখ্যা যার বেশি, তার আকার ছোট হয় এবং চার্জ ঘনত্ব বেশি থাকে। ফলে তা O-H বন্ধনের ইলেকট্রন যুগলকে নিজের দিকে বেশি আকর্ষণ করে সহজে H⁺ আয়ন ত্যাগ করতে পারে।
HNO₃ এ কেন্দ্রীয় পরমাণু N এর জারণ মান: +1 + x + 3(-2) = 0 ⇒ x = +5
H₃PO₄ এ কেন্দ্রীয় পরমাণু P এর জারণ মান: 3(+1) + x + 4(-2) = 0 ⇒ x = +5উভয় এসিডে কেন্দ্রীয় পরমাণুর জারণ মান সমান (+5) হলে, যে পরমাণুর আকার ছোট তার চার্জ ঘনত্ব বেশি এবং সেই এসিডটি তীব্রতর। এখানে নাইট্রোজেনের (N) পারমাণবিক আকার ফসফরাসের (P) চেয়ে ছোট হওয়ায় নাইট্রোজেনের চার্জ ঘনত্ব বেশি। ফলে HNO₃ সহজেই প্রোটন (H⁺) দান করে। তাই HNO₃ এবং H₃PO₄ এর মধ্যে HNO₃ তীব্র এসিড।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের B পাত্রের পদার্থটি হলো গরুর দুধ। গরুর দুধ হতে ঘি প্রস্তুতকরণের পদ্ধতি নিচে প্রবাহচিত্রসহ বর্ণনা করা হলো:
দুধ থেকে ঘি প্রস্তুতপ্রণালী:
১. প্রথমে সংগৃহীত খাঁটি দুধকে সেন্ট্রিফিউজ মেশিনের সাহায্যে অথবা মন্থন করে দুধের ননী বা ক্রিম আলাদা করা হয়।
২. সংগৃহীত ননী বা মাখনে সামান্য পরিমাণ দই বা অম্ল যোগ করে ফারমেন্টেশন বা গাঁজনের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা হয় (ঐচ্ছিক/ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি)।
৩. এরপর মাখন বা ননীকে একটি পরিষ্কার ধাতব পাত্রে নিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপে ফুটানো হয়।
৪. উত্তাপের ফলে এতে থাকা পানি বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায় এবং প্রোটিন বা ছানা জাতীয় অংশ কাদার মতো নিচে থিতিয়ে পড়ে বা বাদামি আকার ধারণ করে।
৫. সম্পূর্ণ পানি অপসারিত হয়ে তেলের মতো স্বচ্ছ ও সোনালী বর্ণের তরল দেখা দিলে তাপ প্রয়োগ বন্ধ করা হয়।
৬. সবশেষে গরম তরল মিশ্রণটি ছেঁকে খাদ্যাংশ আলাদা করে শীতল করলে সুগন্ধযুক্ত দানাদার ঘি পাওয়া যায়।ঘি প্রস্তুতের প্রবাহচিত্র:
গরুর দুধ ➔ ননী/মাখন পৃথকীকরণ ➔ মৃদু তাপে উত্তপ্তকরণ ও পানি বাষ্পীভবন ➔ প্রোটিন তলানি পৃথক করতে ছাঁকন ➔ শীতলীকরণ ➔ ঘি প্রাপ্তি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের A পাত্রে একটি কলয়েড দ্রবণ বা কলয়েড কণা রয়েছে।
কলয়েড কণাসমূহের জমাট না বাঁধার কারণ:
১. সমধর্মী চার্জের উপস্থিতি: কলয়েডের বিস্তৃত দশার কণাসমূহ তাদের পৃষ্ঠতলে বিস্তারণ মাধ্যম থেকে নির্দিষ্ট আয়ন শোষণের মাধ্যমে সবাই একই জাতীয় আধান (ধনাত্মক বা ঋণাত্মক চার্জ) ধারণ করে। কণাগুলোর আধান সমধর্মী হওয়ায় তারা একে অপরকে স্থিরবৈদ্যুতিক বিকর্ষণ করে, ফলে কাছাকাছি এসে একত্রিত হয়ে তলানি বা জমাট বাঁধতে পারে না।
২. ব্রাউনীয় গতি: কলয়েড কণাসমূহের ইতস্তত অবিরাম গতির (ব্রাউনীয় গতি) কারণে মধ্যাকর্ষণের প্রভাবে কণাগুলো নিচে থিতিয়ে পড়তে পারে না।
৩. দ্রাবকায়ন স্তর: অনেক ক্ষেত্রে কলয়েড কণার চারদিকে দ্রাবক বা পানির একটি রক্ষাকারী স্তর সৃষ্টি হয় যা কণাগুলোকে পরস্পরের সংস্পর্শে আসতে বাধা দেয়।কলয়েড কণার জমাট বাঁধার কৌশল (Coagulation Mechanism):
কলয়েড কণা থেকে তার পৃষ্ঠের চার্জ প্রশমিত বা বিনষ্ট করলেই কলয়েড কণাগুলো জমাট বাঁধে। এটি প্রধানত নিম্নলিখিত কৌশলে ঘটে:
১. উপযুক্ত তড়িৎবিশ্লেষ্য যোগ করে: কলয়েড দ্রবণে উপযুক্ত বিপরীত আধানযুক্ত তড়িৎবিশ্লেষ্য যোগ করলে কলয়েড কণার আধান প্রশমিত হয়ে যায়। আধান নিরপেক্ষ হওয়ার পর কণাগুলোর মধ্যকার বিকর্ষণ বল নষ্ট হয় এবং তারা ভ্যান ডার ওয়ালস আকর্ষণ বলের কারণে পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে ভারী কণায় পরিণত হয় এবং মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে পাত্রের তলায় অধঃক্ষিপ্ত বা জমাট বাঁধে। হার্ডি-শুলজ নিয়ম অনুসারে যোগকৃত আয়নের চার্জ যত বেশি হবে, তার জমাট বাঁধার ক্ষমতাও তত বেশি হবে।
২. বিপরীত আধানযুক্ত কলয়েড মিশ্রিত করে: দুটি বিপরীত চার্জযুক্ত সলকে একসাথে মেশালে তারা পরস্পরকে প্রশমিত করে জমাট বাঁধে।
৩. উত্তপ্তকরণ বা স্ফুটন: কলয়েডকে উত্তপ্ত করলে কলয়েড কণার পৃষ্ঠতলে শোষিত আয়নের স্তর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কণাগুলোর গতিশক্তি বৃদ্ধির ফলে সংঘর্ষের মাধ্যমে জমাট বাঁধে।
৪. তড়িৎ বিশ্লেষণ (Electrophoresis): তড়িৎক্ষেত্রের প্রভাবে কলয়েড কণাগুলো বিপরীত তড়িৎদ্বারে গমন করে চার্জমুক্ত হয়ে জমাট বাঁধে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও