অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জোবেদা একজন গরিব গৃহিণী। স্বামীর আয়ে ঠিকমত সংসার চলে না। তাই সে 'আশা' থেকে ৫,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে বাড়িতে মুদির দোকান দেয়। অল্পদিনেই সে স্বাবলম্বী হয়। ছেলে- মেয়েদের স্কুলে পাঠায় ও ভালো জামাকাপড় কিনে দেয়। কিন্তু 'আশা' সমিতির সুদের হার বেশি, তা না হলে সে আরও উন্নতি করতে পারত। দুঃখের বিষয় ব্যাংকে জামানত দেয়ার মতো জমি বা সম্পদ না থাকায় সে ব্যাংক থেকেও ঋণ নিতে পারে না।
- ক)(1)
পুঁজিবাজার কী?
- খ)(2)
প্রাইমারি শেয়ার বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
জোবেদা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারেনি কেন? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দরিদ্রতা নিরসন ও কর্মসংস্থানে আশার মতো বাংলাদেশে কর্মরত এনজিওসমূহের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিসম্পদ (যেমন—শেয়ার, বন্ড, ডিবেঞ্চার ইত্যাদি) ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেন হয়, তাকে পুঁজিবাজার বা মূলধন বাজার (Capital Market) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যখন জনসাধারণের কাছে প্রথমবারের মতো নতুন শেয়ার ইস্যু করে, তখন তাকে প্রাইমারি শেয়ার বা প্রাথমিক শেয়ার বলে। এ ধরনের শেয়ার সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা IPO (Initial Public Offering)-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা ক্রয় করে থাকেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জামানত বা স্থাবর সম্পত্তির অভাবের কারণে জোবেদা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারেনি।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণত ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও শর্ত অনুসরণ করে। ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক যেন ক্ষতিপূরণ করতে পারে, সেজন্য ব্যাংক ঋণের বিপরীতে জমি, বাড়ি বা স্থায়ী কোনো মূল্যবান সম্পত্তি বন্ধক বা জামানত (Collateral) হিসেবে দাবি করে।
উদ্দীপকের জোবেদা একজন অতি দরিদ্র গৃহিণী। তার পরিবার অসচ্ছল এবং তাদের ব্যাংকে জামানত হিসেবে বন্ধক রাখার মতো জমি বা স্থাবর কোনো সম্পদ নেই। প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের এই জামানতের শর্ত পূরণ করতে না পারায় জোবেদা ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে ব্যর্থ হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দরিদ্রতা নিরসন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশে 'আশা'-র মতো বেসরকারি সংস্থাসমূহের (NGO) ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১. জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান: দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকে না। আশা, ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক ইত্যাদির মতো এনজিওগুলো দরিদ্র মানুষদের কোনো স্থাবর জামানত ছাড়াই সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ দেয়। উদ্দীপকে জোবেদা আশা থেকে ৫,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পেরেছে।
২. স্বাবলম্বিতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দরিদ্র নারী ও পুরুষেরা কুটির শিল্প, হাঁস-মুরগি পালন, গবাদিপশু পালন, মুদির দোকান বা ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে নিজের কর্মসংস্থান গড়ে তোলে এবং পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করে।
৩. জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: এনজিওগুলো দরিদ্রদের শুধু আর্থিক সহায়তা দেয় না, বরং স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, মৌলিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। ফলে উদ্দীপকের জোবেদার মতো পরিবারগুলোর সন্তানদের স্কুলে পাঠানো ও ভালো জীবনযাপন সম্ভব হয়।
তবে এনজিও ঋণে সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় দরিদ্রদের মুনাফার একটি বড় অংশ সুদ পরিশোধে চলে যায়। সুদের হার সহনশীল পর্যায়ে রাখলে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এনজিওগুলো আরও কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও