জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্ভিদ কোষের মধ্যে বিদ্যমান বিশেষ দুই প্রকার অঙ্গাণুর একটি শ্বসনিক কাজে এবং অন্যটি খাদ্য তৈরিতে অংশগ্রহণ করে।

  1. ক)

    একক পর্দা কী?

    (1)
  2. খ)

    জেনেটিক কোড বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গানুটির গঠন বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি কিভাবে জীবজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রবার্টসন (J. D. Robertson, 1959)-এর প্রস্তাবিত ধারণা অনুযায়ী, সকল সজীব কোষীয় অঙ্গাণুর আবরণী প্রোটিন-লিপিড-প্রোটিন স্তর নিয়ে গঠিত ৭৫Å পুরু ত্রিস্তরবিশিষ্ট যে মৌলিক একক ঝিল্লি দ্বারা গঠিত, তাকে একক পর্দা বা ইউনিট মেমব্রেন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ডিএনএ বা এমআরএনএ অণুতে নাইট্রোজেনাস বেসের যে নির্দিষ্ট ট্রিপলেট সজ্জা প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় একটি নির্দিষ্ট অ্যামিনো এসিডকে কোড বা সংকেতায়িত করে, তাকে জেনেটিক কোড বলে। জেনেটিক কোড তিনটি ক্ষারক বা নিউক্লিওটাইড নিয়ে গঠিত একটি ট্রিপলেট (যেমন- AUG দ্বারা মেথিওনিন নির্দেশিত হয়)। এটি প্রায় সকল জীবের জন্য সার্বজনীন এবং নন-ওভারল্যাপিং বৈশিষ্ট্যযুক্ত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম অঙ্গাণুটি হলো কোষের শ্বসনিক কাজের সাথে জড়িত মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)। এর ভৌত গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. আবরণী বা ঝিল্লি: মাইটোকন্ড্রিয়া লিপোপ্রোটিন নির্মিত দ্বিস্তরবিশিষ্ট পর্দা দিয়ে ঘেরা থাকে। বাইরের পর্দাটি মসৃণ ও ছিদ্রযুক্ত (পোরিনযুক্ত), কিন্তু ভেতরের পর্দাটি ভেদ্যতার ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় নির্বাচিত।
    ২. প্রকোষ্ঠ: দুই পর্দার মধ্যবর্তী স্থানকে বহিঃস্থ কক্ষ বা পেরিমাইটোকন্ড্রিয়াল স্থান বলে এবং ভেতরের পর্দা দিয়ে পরিবেষ্টিত স্থানকে অভ্যন্তরীণ প্রকোষ্ঠ বলে।
    ৩. ক্রিস্টি: ভেতরের পর্দাটি ভিতরের দিকে অনিয়মিতভাবে ভাঁজ হয়ে আঙুলের মতো বা প্রবর্ধক সদৃশ যে অঙ্গসংস্থান তৈরি করে, তাকে ক্রিস্টি (Cristae) বলে। এটি অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল বাড়ায়।
    ৪. অক্সিজোম ও এটিপি-সিন্থেসিস: ক্রিস্টির গায়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে বোঁটাবিশিষ্ট ক্ষুদ্র দানাদার অংশ থাকে, যাদের অক্সিজোম বলে। এছাড়া ভেতরের ঝিল্লিতে এটিপি তৈরির জন্য F0−F1F_0-F_1 কমপ্লেক্সযুক্ত এটিপি সিন্থেসিস (ATP-synthase) এবং ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনের উপাদানগুলো বিন্যস্ত থাকে।
    ৫. ম্যাট্রিক্স: অভ্যন্তরীণ প্রকোষ্ঠে জেলির ন্যায় সমসত্ব প্রোটিনময় তরল থাকে, যাকে ধাত্র বা ম্যাট্রিক্স বলে। এতে ক্রেবস চক্রের এনজাইমসমূহ থাকে।
    ৬. বৃত্তাকার ডিএনএ ও রাইবোসোম: ম্যাট্রিক্সে নিজস্ব দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার ডিএনএ এবং ৭০S রাইবোসোম থাকে, যার ফলে এটি স্বপ্রজননশীল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় অঙ্গাণুটি হলো খাদ্য তৈরির সাথে যুক্ত ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)। সমগ্র জীবজগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এর গুরুত্ব অপরিসীম, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর: ক্লোরোপ্লাস্ট হলো একমাত্র জৈবনিক কারখানা যেখানে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৌরশক্তি খাদ্যস্থ রাসায়নিক স্থিতিশক্তিতে (গ্লুকোজ/শর্করা) রূপান্তরিত হয়। এই খাদ্যই পৃথিবীর সকল জীবের শক্তির মূল উৎস।
    ২. খাদ্য শৃঙ্খলের ভিত্তি: উৎপাদক হিসেবে সবুজ উদ্ভিদ ক্লোরোপ্লাস্টের সহায়তায় যে খাদ্য তৈরি করে, তার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমগ্র প্রাণীজগৎ ও অন্যান্য পরভোজী জীব বেঁচে থাকে। ক্লোরোপ্লাস্ট না থাকলে উৎপাদকের অস্তিত্ব থাকত না, ফলে খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়ত।
    ৩. বায়ুমণ্ডলে O2O_2 ও CO2CO_2-এর ভারসাম্য রক্ষা: ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে পানির ফটোলাইসিসের মাধ্যমে অক্সিজেন (O2O_2) নির্গত হয়, যা সমস্ত অবাত ও সবাত জীবের শ্বসনের জন্য অপরিহার্য। পাশাপাশি এটি পরিবেশ থেকে বিষাক্ত CO2CO_2 শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও গ্রিনহাউস প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করে।
    ৪. শক্তি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ: বাস্তুতন্ত্রে শক্তি প্রবাহ একমুখী এবং এর সূচনাই ঘটে ক্লোরোপ্লাস্টের মাধ্যমে সৌরশক্তি গ্রহণের মাধ্যমে।

    সুতরাং, খাদ্য উৎপাদন, শক্তির রূপান্তর এবং অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে ক্লোরোপ্লাস্ট সমগ্র জীবজগতের টিকে থাকার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন