অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠীর ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডে এদেশের অর্থনীতি মেরুদণ্ডহীন হয়েছিল। আর তাই ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসতে বাংলাদেশকে অনেক পিছিয়ে পড়তে হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশে শিল্পোন্নয়নসহ সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে।

  1. ক)

    বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সীমানার দৈর্ঘ্য কত কি.মি.?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    'ব্রিটিশ সরকারের ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ নীতিই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার মূল কারণ'- উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে, পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের শোষণ, বঞ্চনা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সীমানার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭১ কিলোমিটার (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও পাঠ্যপুস্তকের তথ্যমতে ১৯৩-২৭১ কি.মি., সাধারণ হিসেবে ২৭১ কিমি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ২০°৩৪' উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১' পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত (পশ্চিম, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব), দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি নাতিশীতোষ্ণ মৌসুমি জলবায়ু এবং একটি সমৃদ্ধ নদীমাতৃক সমভূমির অংশ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন প্রায় দু'শত বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশ বিশেষ করে বাংলায় স্থায়ী ছিল। এই সময়ে ইংরেজদের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলার কাঁচামাল সস্তায় নিজেদের দেশে নিয়ে যাওয়া এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য এখানে চড়া দামে বিক্রি করা।

    উদ্দীপকের বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ, কারণ ব্রিটিশরা এদেশের বিশ্বখ্যাত মসলিন ও কুটির শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছিল। ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের ওপর শোষণের স্টিমরোলার চালানো হয় এবং বাংলায় চরম দুর্ভিক্ষ (যেমন ছিয়াত্তরের মন্বন্তর) নেমে আসে। শিল্পায়নের কোনো অবকাঠামো সৃষ্টি না করে কেবল সম্পদ পাচারের ফলে এদেশের স্বনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে অনগ্রসর ও দারিদ্র্যপীড়িত রূপ ধারণ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর দীর্ঘ ২৪ বছর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) চরম অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হয়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ধ্বংসস্তূপের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান আমলের বঞ্চনার দিকগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো:
    ১. বাণিজ্য ও রাজস্ব বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তানের উৎপাদিত সোনালী আঁশ পাটের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো। কিন্তু আমদানি বরাদ্দের বড় অংশ যেত পশ্চিম পাকিস্তানে।
    ২. উন্নয়ন ব্যয় বরাদ্দ: কেন্দ্রীয় বাজেটে এবং পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলোতে মোট উন্নয়ন বরাদ্দের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পেত পশ্চিম পাকিস্তান, অথচ মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ ছিল পূর্ব পাকিস্তানে।
    ৩. মুদ্রা ও ব্যাংকিং খাত: প্রধান প্রধান ব্যাংক, বিমা ও করপোরেট হেডকোয়ার্টার ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে, ফলে পূর্ব পাকিস্তান থেকে সম্পদ সহজে সেখানে পাচার হতো।
    ৪. কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক সাহায্য: সিভিল সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল নগণ্য। বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ৮০ শতাংশই ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানে।

    এসব বৈষম্য বাঙালি অর্থনীতিবিদদের 'দ্বি-অর্থনীতি তত্ত্ব' তুলে ধরতে বাধ্য করে, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন