বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মেহের আলী রসুলপুর গ্রামের একজন বিত্তবান লোক। প্রতিপত্তির মালিক হওয়ার জন্য গ্রামের সকলে তাকে বেশ সম্মান করে। অপরদিকে, মেহের আলী সম্মানের চোখে দেখে তারই গ্রামে বসবাসরত সোলায়মান আলীকে। তার ওপর মেহের আলীর অগাধ বিশ্বাস। তাই সোলায়মান আলী মৌখিকভাবে যে নির্দেশনাই দেন মেহের আলী তা বাস্তবায়ন করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। একদিন সোলায়মান আলী মেহের আলীকে বললেন, "মেহের, তোমার স্ত্রী 'সংসারে অশুভ শক্তির ছায়ারূপে বিরাজ করছে। তাকে তুমি অবিলম্বে তালাক দাও।" এমন নির্দেশনা পেয়ে কালবিলম্ব না করে স্ত্রীকে তালাক দেয় মেহের আলী।
- ক)(1)
কে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত?
- খ)(2)
"জমিলা যেন ঠাঁটাপড়া মানুষের মতো হয়ে গেছে"- বাক্যটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মেহের আলী 'লালসালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রের প্রতীক বহন করে? যুক্তিসহকারে আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে মেহের আলীর স্ত্রীর জীবন এবং 'লালসালু' উপন্যাসের আমেনা বিবির জীবনের পরিণতি একই"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদ জমিলাকে মাঝরাতে বাইরে মাজারের কাছে বাঁশের খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে আসার পরের মানসিক ও শারীরিক অবস্থাকে বোঝাতে প্রশ্নোক্ত বাক্যটি বলা হয়েছে।
জমিলা ছিল চঞ্চল, নির্ভীক ও প্রথাবিরোধী এক কিশোরী। মজিদের ভণ্ডামি ও মিথ্যা কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে সে নীরব প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং মজিদের মুখে থুথু নিক্ষেপ করে। এই স্পর্ধার শাস্তি হিসেবে মজিদ গভীর রাতে তাকে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে অন্ধকার মাজারের খুঁটিতে বেঁধে রাখে। চরম ভয়, একাকীত্ব ও শারীরিক যন্ত্রণায় পরদিন ভোরে জমিলা নিস্পন্দ, নিথর ও স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। তার এই স্তব্ধ ও নিশ্চল অবস্থাকে বোঝাতেই বলা হয়েছে জমিলা যেন 'ঠাঁটাপড়া মানুষের মতো' হয়ে গেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মেহের আলী চরিত্রটি 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারী চরিত্রের প্রতীক বহন করে।
'লালসালু' উপন্যাসে খালেক ব্যাপারী মহব্বতনগর গ্রামের এক প্রভাবশালী ও বিত্তবান মাতব্বর। সে অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদের প্রতি অন্ধবিশ্বাসী। মজিদের আধ্যাত্মিক প্রভাবের কাছে খালেক নিজের ব্যক্তিত্ব ও বিচারবুদ্ধি সমর্পণ করেছিল। এমনকি মজিদের নির্দেশ ও চক্রান্তে সে নিজের নিঃসন্তান প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবিকে বিনাদ্বিধায় তালাক দেয়।
উদ্দীপকের মেহের আলীও রসুলপুর গ্রামের একজন বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। সে তার গ্রামের সোলায়মান আলীকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে এবং তার ওপর অন্ধবিশ্বাস পোষণ করে। সোলায়মান আলীর নির্দেশে মেহের আলী কোনো বিচার-বিবেচনা না করেই তার নির্দোষ স্ত্রীকে তালাক দেয়। সুতরাং, ভণ্ড ও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির অন্ধ অনুকরণ এবং তার কথায় নিজের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার মানসিকতার দিক থেকে মেহের আলী চরিত্রটি 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর প্রতিরূপ বা প্রতীক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মেহের আলীর স্ত্রীর জীবন এবং 'লালসালু' উপন্যাসের আমেনা বিবির জীবনের পরিণতি একই— মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ধর্মব্যবসায়ীদের প্রভাব ও অন্ধবিশ্বাসী স্বামীদের অবিবেচক সিদ্ধান্তের বলি হতে হয় নিরীহ নারীদের। 'লালসালু' উপন্যাসে আমেনা বিবি খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে নিঃসন্তান হওয়ার কারণে সে সন্তানের আশায় গোপনে পীরের পানি-পড়ার শরণাপন্ন হয়। ব্যাপারটি জানতে পেরে মজিদ নিজের আধিপত্য ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয়ে চক্রান্ত করে আমেনা বিবির মধ্যে 'অশুভ শক্তি'র অস্তিত্ব আবিষ্কারের ভান করে। মজিদের কথামতো খালেক ব্যাপারী বাধ্য হয়ে তার নিরপরাধ ও স্নেহময়ী স্ত্রী আমেনা বিবিকে তালাক দেয়। এর ফলে আমেনা বিবির সাজানো সংসার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং তাকে নিঃস্বভাবে বাপের বাড়ি ফিরে যেতে হয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, মেহের আলী সোলায়মান আলীর নির্দেশে তার স্ত্রীকে 'সংসারে অশুভ শক্তির ছায়া' বিবেচনা করে বিনা অপরাধে তালাক দেয়। এখানে মেহের আলীর স্ত্রী কোনো দোষ না করেও একজন স্বার্থান্বেষী মানুষের চক্রান্ত এবং স্বামীর অন্ধবিশ্বাসের নির্মম শিকার হয়ে তার সংসার ও অধিকার হারায়।
উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সমাজে নারীর মর্যাদা ও অস্তিত্ব কতটা ভঙ্গুর। ধর্মীয় কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের দোলাচলে পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতাকাঠামোর কাছে উভয় নারীকেই নিরপরাধ অবস্থায় তালাকপ্রাপ্তা হয়ে সমাজ ও পরিবারের বলি হতে হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মেহের আলীর স্ত্রী এবং উপন্যাসের আমেনা বিবির জীবনের বঞ্চনা ও বিচ্ছেদের মর্মান্তিক পরিণতি একই রূপ ধারণ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও