ইসলাম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

ইসলাম প্রশ্ন

শেখপাড়া গ্রামে যুবকেরা প্রায়ই মারামারি ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হতো। তারা সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করত। এ অবস্থা দেখে সালেহীন গ্রামের যুবকদেরকে ডেকে সমবেত করে বলে, এভাবে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করা সমীচীন নয়। বরং আমরা সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সকলে মিলে একটি ক্লাব তৈরি করি। একথা শুনে সকলে ঐকমত্য পোষণ করে শান্তি ক্লাব তৈরি করে। অপরদিকে, তাদের গ্রামে ফরহাদের বাসায় একটি ইয়াতিম মেয়ে কাজ করে। ফরহাদ মেয়েটিকে নিজের সন্তানের মতো আদর করে এবং নিজেরা যা খায় ও পরে, তাকেও তা খেতে দেয় ও পরতে দেয়। তার সাথে পরিবারের কেউই খারাপ ব্যবহার করে না।

  1. ক)

    আত্মশুদ্ধি কী?

    (1)
  2. খ)

    হযরত আলি (রা.)-কে 'আসাদুল্লাহ ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    সালেহীনের কর্মকাণ্ড মহানবি (স.)-এর জীবনের কোন মহৎ উদ্যোগটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ফরহাদ ও তার পরিবারের আচরণে মহানবি (স.)-এর কোন ভাষণের প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নফস বা কুপ্রবৃত্তিকে পাপ ও মন্দ স্বভাব থেকে পবিত্র করে সৎগুণে সজ্জিত করাকে আত্মশুদ্ধি বলে।

  2. খ)

    হযরত আলি (রা) ছিলেন অসাধারণ সাহসী ও বীর যোদ্ধা। বদর, উহুদ, খন্দক ও খায়বারের মতো অনেক যুদ্ধে তিনি অসীম বীরত্ব দেখিয়েছেন। তাঁর এই সাহসিকতার জন্য রাসুল (স) তাঁকে 'আসাদুল্লাহ' উপাধি দেন। এর অর্থ আল্লাহর সিংহ। বীরত্ব ও নির্ভীকতার প্রতীক হিসেবে তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

  3. গ)

    সালেহীনের কর্মকাণ্ড মহানবি (স)-এর জীবনের হিলফুল ফুযুল গঠনের উদ্যোগের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    আরবের গোত্রগুলোর মধ্যে মারামারি ও অশান্তি চলত। এই অবস্থায় তরুণ মুহাম্মদ (স)-এর উদ্যোগে মক্কার কয়েকটি গোত্র মিলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হিলফুল ফুযুল নামে একটি সংঘ গঠন করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল অত্যাচারিতকে সাহায্য, অশান্তি দূরীকরণ ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা। উদ্দীপকে সালেহীন গ্রামের যুবকদের ঝগড়া-বিবাদ বন্ধ করে শান্তি বজায় রাখতে 'শান্তি ক্লাব' গঠন করেছে। দুটি উদ্যোগের লক্ষ্য একই।

  4. ঘ)

    ফরহাদ ও তাঁর পরিবারের আচরণে মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণ-এর প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

    বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) অধীনস্থ ও দুর্বলদের সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা যা খাবে তাদের তা-ই খাওয়াবে এবং যা পরবে তাদের তা-ই পরাবে।

    বিশ্লেষণ:
    ১. সমান আচরণ: ফরহাদ ইয়াতিম মেয়েটিকে নিজেদের মতো একই খাবার ও পোশাক দেন। ভাষণের নির্দেশ ঠিক তা-ই।
    ২. মানবিক মর্যাদা: তাঁরা নিজের সন্তানের মতো মেয়েটিকে আদর করেন এবং কেউ খারাপ ব্যবহার করে না। এতে মানুষের মর্যাদা ও সাম্যের শিক্ষা প্রকাশ পায়।
    ৩. ইয়াতিমের প্রতি দায়িত্ব: ইসলামে ইয়াতিমের সাথে সদাচরণের তাগিদ রয়েছে।

    সুতরাং, ফরহাদের আচরণ বিদায় হজের ভাষণের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন