ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ঋণ প্রদান করায় দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে যার ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে বিভিন্ন ধরনের সরকারি বন্ড আকর্ষণীয় শর্তে বিক্রয় করে। তবুও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় তালিকাভুক্ত ব্যাংকের CRR এর পরিমাণ ৫.৫% থেকে বাড়িয়ে ৬.৫% করায় তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
- ক)(1)
বিহিত মুদ্রা কী?
- খ)(2)
তালিকাভুক্ত ব্যাংক কাকে বলে?
- গ)(3)
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম কোন নীতি গ্রহণ করে। উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত নীতি গ্রহণের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে মুদ্রা সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক প্রচলিত এবং আইনের দ্বারা গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃত, তাকে বিহিত মুদ্রা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী যেসব বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়মকানুন পালন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তফসিল বা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে, সেগুলোকে তালিকাভুক্ত (Scheduled) ব্যাংক বলে। এসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম যে নীতি গ্রহণ করে তা হলো 'খোলা বাজার নীতি' (Open Market Operation)।
খোলা বাজার নীতি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের একটি সাধারণ বা পরোক্ষ পদ্ধতি, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে অর্থ বা ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য খোলা বাজারে সরকারি ঋণপত্র, বিল, বন্ড ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করে। বাজারে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারি বন্ড ও সিকিউরিটিজ বিক্রির মাধ্যমে মুদ্রাবাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য বা অর্থ তুলে নেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ঋণ প্রদানের ফলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে বিভিন্ন ধরনের সরকারি বন্ড আকর্ষণীয় শর্তে বিক্রয় করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সরাসরি খোলা বাজারে সরকারি বন্ড বিক্রয় করার এই প্রক্রিয়াটিই হলো খোলা বাজার নীতি। অতএব, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত প্রথম নীতিটি খোলা বাজার নীতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত নীতিসমূহ (খোলা বাজার নীতি এবং জমার অনুপাত বৃদ্ধি) অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী।
মুদ্রাস্ফীতি হলো বাজারে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে সামগ্রিক দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার পরিস্থিতি। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মুদ্রাবাজার থেকে অর্থ সরবরাহ বা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ সৃষ্টির ক্ষমতা কমাতে হয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে খোলা বাজার নীতির আওতায় সরকারি বন্ড বিক্রি করে। এর ফলে জনগণের ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয় এবং বাজারের অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ হ্রাস পায়। তবে এই পদক্ষেপ পর্যাপ্ত না হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বিতীয় পদক্ষেপে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের নগদ জমার অনুপাত (CRR) ৫.৫% থেকে বাড়িয়ে ৬.৫% করে।
CRR (Cash Reserve Ratio) বৃদ্ধির অর্থ হলো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানতের একটি বর্ধিত অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে বাধ্য করা। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানযোগ্য তহবিলের পরিমাণ সরাসরি হ্রাস পায়। ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাজারে নতুন ঋণ সৃষ্টি সংকুচিত করে, ফলে সামগ্রিক চাহিদা কমে আসে এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল হয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অতএব, মুদ্রাস্ফীতি প্রশমনে খোলা বাজার কার্যক্রমের পাশাপাশি সিআরআর (CRR) বৃদ্ধি করার পদক্ষেপটি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও