‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ সর্বমোট কতটি আসন লাভ করে?

    (1)
  2. খ)

    অপারেশন সার্চলাইট বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) স্থানে তোমার পঠিত কোন ঐতিহাসিক ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    পাকিস্তানের পরবর্তী রাজনীতিতে উদ্দীপকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) স্থানে নির্দেশিত ঐতিহাসিক ঘটনাটির প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ সর্বমোট ১৬৭টি আসন লাভ করে (সাধারণ আসন ১৬২টি এবং সংরক্ষিত নারী আসন ৭টি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করার উদ্দেশ্যে যে নারকীয়, বর্বর ও পরিকল্পিত গণহত্যা পরিচালনা করে, সামরিক পরিভাষায় তাকে 'অপারেশন সার্চলাইট' বলা হয়।

    এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, ছাত্রসমাজ এবং বাঙালি পুলিশ ও ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এর সদস্যদের হত্যা ও গ্রেফতার করে পূর্ব পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা। অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমেই মূলত ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ভয়াবহ গণহত্যার সূচনা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) স্থানে আমাদের পঠিত ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে নির্দেশ করে।

    উদ্দীপকের নির্দেশকগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়— ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৭১ সালে, স্থানটি ছিল রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান), এর ব্যাপ্তিকাল ছিল প্রায় ১৮ মিনিট এবং এর মূল বক্তব্য ছিল 'স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ডাক'। এই উপাদানগুলো সরাসরি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের বৈশিষ্ট্যকে প্রতিফলিত করে।

    ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে প্রায় দশ লক্ষ মানুষের বিশাল জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রায় ১৮ মিনিটের এক ঐতিহাসিক ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ শোষণ ও নিপীড়নের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ভাষণের সমাপ্তিতে তিনি ঘোষণা করেন— "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম", যা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির চূড়ান্ত ডাক। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি হলো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত (?) স্থানে নির্দেশিত ঐতিহাসিক ঘটনাটি হলো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। পাকিস্তানের পরবর্তী রাজনীতিতে এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এই ঐতিহাসিক ভাষণের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী।

    প্রথমত, এই ভাষণের পর পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান পরিচালিত হতে থাকে, যার ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামোতে মারাত্মক সংকট তৈরি হয় এবং প্রদেশটির শাসনভার জনগণের সমর্থনে আওয়ামী লীগের হাতে চলে যায়।

    দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতারণামূলক কৌশল উন্মোচিত হয়। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়া খান সমঝোতার নামে সময়ক্ষেপণ করে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও গোলাবারুদ এনে গণহত্যার নীলনকশা আঁকতে থাকে। ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালিদের সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক আক্রমণ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করে তোলে।

    তৃতীয়ত, এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার এবং যার যা কিছু আছে তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ বাঙালিদের ওপর 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে বর্বর আক্রমণ শুরু করলে বাঙালিরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেরেছিল।

    পরিশেষে বলা যায়, ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ পাকিস্তান রাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়। এটি বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল, যার ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানের রাজনীতি থেকে পূর্ব পাকিস্তান চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন