অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

অর্থনীতি ক্লাসে শিক্ষক বললেন যে, 'ক' দেশের সাথে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও 'খ' দেশের সাথে কোন দেশের এরকম সম্পর্ক নাই। 'ক' দেশটি তার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য গ্রহণ করে থাকে। তবে শিক্ষক বললেন যে বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য বেশি কাম্য।

  1. ক)

    আমদানি শুল্ক কী?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল কারণ উৎপাদন খরচের পার্থক্য'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ক' ও 'খ' দেশে বাণিজ্যের প্রকৃতি নির্ণয় করো এবং কোন দেশের বাণিজ্য তার সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং উৎপাদনের পরিমাণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে অধিক সহায়ক হবে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে শিক্ষকের বক্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিদেশ থেকে পণ্য বা সেবা সামগ্রী নিজ দেশে আমদানির ওপর সরকার কর্তৃক আরোপিত করকে আমদানি শুল্ক বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিভিন্ন দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবায়ু, শ্রমশক্তি ও প্রযুক্তির মধ্যে ভিন্নতা থাকে। ফলে একই পণ্য উৎপাদনে সব দেশের উৎপাদন খরচ সমান হয় না। কোনো দেশ একটি পণ্য তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করতে পারে, আবার অন্য দেশ অন্য একটি পণ্য স্বল্প খরচে উৎপাদন করতে পারে। রিকার্ডোর তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব অনুসারে, প্রতিটি দেশ সেই পণ্যই উৎপাদনে বিশেষায়ন অর্জন করে এবং রপ্তানি করে যা তৈরিতে তার আপেক্ষিক খরচ সবচেয়ে কম। এভাবেই উৎপাদন খরচের পার্থক্যের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উৎপত্তি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, 'ক' দেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্য পরিচালনা করে, তাই 'ক' দেশের বাণিজ্যের প্রকৃতি হলো 'উন্মুক্ত বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য' (Open economy বা International trade)। অন্যদিকে, 'খ' দেশের সাথে কোনো দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই, তাই 'খ' দেশের বাণিজ্যের প্রকৃতি হলো 'আবদ্ধ অর্থনীতি বা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য' (Closed economy বা Autarky)।

    'ক' দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থা তার সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং উৎপাদনের পরিমাণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে অধিক সহায়ক হবে। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে 'ক' দেশ সেই সকল পণ্য উৎপাদনে বিশেষায়ন করতে পারবে যেগুলোতে তাদের তুলনামূলক সুবিধা রয়েছে। এর ফলে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং বৃহদায়তন উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হয়ে উৎপাদন দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, 'খ' দেশ বিশ্ববাজার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় অভ্যন্তরীণ সীমিত সম্পদের কারণে সব পণ্যের দক্ষ উৎপাদন ও কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শিক্ষকের বক্তব্য—"বৈদেশিক সাহায্যের চেয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য বেশি কাম্য"—এর সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    ১. স্বনির্ভরতা অর্জন: বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে একটি দেশ নিজের সম্পদ ও শ্রমের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে। পক্ষান্তরে, বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য গ্রহণ দেশকে পরনির্ভরশীল করে তোলে এবং জাতীয় আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।

    ২. ঋণের ফাঁদ ও শর্তহীনতা: বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ প্রায়শই বিভিন্ন কঠিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শর্তযুক্ত থাকে। পরবর্তীতে উচ্চ হারে সুদসহ ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো ঋণের ফাঁদে (Debt Trap) পড়ে। বৈদেশিক বাণিজ্যে এ ধরনের কোনো শর্তের বোঝা থাকে না।

    ৩. কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধি: বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে অভ্যন্তরীণ কলকারখানা গড়ে ওঠে, রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বৈদেশিক সাহায্য সরাসরি এরকম উৎপাদনশীল কাঠামো গড়ে তুলতে পারে না।

    ৪. প্রযুক্তি ও দক্ষতার স্থানান্তর: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লিপ্ত হলে উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার আদান-প্রদান ঘটে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।

    সুতরাং, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৈদেশিক ঋণের চেয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য অনেক বেশি সম্মানজনক, কার্যকর ও কাম্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন