যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকের আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: লাকী বলল, 'এ জগৎ খুবই রহস্যময়। বিভিন্ন বইপুস্তক, জ্ঞানী ব্যক্তি, ধার্মিক, দার্শনিক, পুরোহিত ও সমাজের প্রচলিত ধ্যানধারণার মাধ্যমে আমরা এ জগতের রহস্যভেদ করার চেষ্টা করি।' লাবু বলল, 'এসব ব্যক্তিদের আলোচনা থেকে মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম, জোয়ার-ভাটা, জড়বস্তুর ভূমিতে পতন ইত্যাদি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।' সুমন বলল, 'সাধারণ মানুষ এখনও বিশ্বাস করে যে, জোয়ার-ভাটা হয় কোনো আধ্যাত্মিক শক্তির ইচ্ছায়।'
- ক)(1)
পরিশেষ পদ্ধতি কী?
- খ)(2)
পুত্র সন্তানের জন্মগ্রহণই ব্যবসায়ের উন্নতির কারণ- যুক্তি দোষ নির্ণয় করো।
- গ)(3)
লাকীর বক্তব্যে কোন বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
লাবু ও সুমনের বক্তব্যে যে দুটি বিষয় প্রকাশিত হয়েছে তাদের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জটিল ঘটনার যে অংশটুকু পূর্ববর্তী জানা নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যায়, তা বাদ দেওয়ার পর যে অবশিষ্টাংশ থাকে, তা অবশিষ্ট পূর্ববর্তী ঘটনার কার্য বা কারণ—এই অনুমানের পদ্ধতিকে পরিশেষ পদ্ধতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'পুত্র সন্তানের জন্মগ্রহণই ব্যবসায়ের উন্নতির কারণ'—যুক্তিতে 'কাকতালীয় অনুপপত্তি' বা 'অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি' দোষ ঘটেছে।
দুটি ঘটনা পরপর ঘটলেই পূর্বের ঘটনাটিকে পরের ঘটনার কারণ বলে মনে করা যুক্তিসঙ্গত নয়। পুত্র সন্তানের জন্ম একটি আকস্মিক পূর্ববর্তী ঘটনা এবং ব্যবসায়ের উন্নতি একটি কার্য। এদের মধ্যে কোনো আবশ্যিক কার্যকারণ বা নিয়ত সম্বন্ধ নেই। একটি ঘটনা আগে ঘটেছে বলেই তাকে নির্বিচারে পরবর্তী ঘটনার কারণ বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখানে কাকতালীয় দোষ (Fallacy of Post Hoc Ergo Propter Hoc) ঘটেছে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাকীর বক্তব্যে কার্যকারণ সম্বন্ধ বা জগতের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত 'লৌকিক বা অবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' এবং প্রাথমিক ব্যাখ্যার উৎসের উল্লেখ রয়েছে।
মানুষ সৃষ্টির আদিকাল থেকেই প্রকৃতির রহস্য সমাধানের চেষ্টা করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া প্রচলিত সংস্কার, ধর্মীয় বিশ্বাস, পুরোহিত কিংবা সমাজের প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর করত। লাকী বলেছে, 'বইপুস্তক, জ্ঞানী ব্যক্তি, ধার্মিক, দার্শনিক, পুরোহিত ও সমাজের প্রচলিত ধ্যানধারণার মাধ্যমে আমরা এ জগতের রহস্যভেদ করার চেষ্টা করি।' যুক্তিবিদ্যায় একে সাধারণ ও প্রাক্-বৈজ্ঞানিক পর্যায়ের ব্যাখ্যা বলা হয়, যেখানে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের চেয়ে কর্তৃত্ব ও অন্ধবিশ্বাসের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকে। এটি ব্যাখ্যা প্রক্রিয়ার সূচনামূলক রূপ নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাবুর বক্তব্যে 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' এবং সুমনের বক্তব্যে 'লৌকিক ব্যাখ্যা' প্রকাশিত হয়েছে। এ দুটির মধ্যে প্রধান পার্থক্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ভিত্তির পার্থক্য: লাবু মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম, জোয়ার-ভাটা এবং জড়বস্তুর পতনের বৈজ্ঞানিক নিয়মের কথা বলেছে, যা পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে, সুমন সাধারণ মানুষের আধ্যাত্মিক শক্তিতে বিশ্বাসের কথা বলেছে, যা অলৌকিকতা ও কুসংস্কারের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
২. কার্যকারণ সম্বন্ধ: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক ঘটনাসমূহকে অন্তর্নিহিত প্রাকৃতিক কারণ ও সার্বিক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক কারণ অনুসন্ধান না করে কোনো অদৃশ্য বা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ইচ্ছা দ্বারা ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করা হয়।
৩. যাচাইযোগ্যতা ও নিশ্চয়তা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সার্বজনীন, সুনির্দিষ্ট ও যুক্তি বা পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ ও যাচাইযোগ্য। অন্যদিকে, লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়, অন্ধবিশ্বাসজাত এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা বা পরীক্ষণযোগ্যতা নেই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও