পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
নয় মাস সংগ্রাম করে 'ক' রাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে। তারপর কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দের সমন্বয়ে একটি সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটি ব্রিটেন এবং ভারতের সংবিধানের উত্তম বিষয়সমূহের অনুকরণে একটি সংবিধান রচনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এতে জনগণের মৌলিক অধিকারসহ রাষ্ট্রীয় কার্যাবলির সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়। উক্ত সংবিধানে সংসদীয় ব্যবস্থার উত্তম বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রতিফলিত হয়। এ সংবিধান দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সংশোধন করা হয়।
- ক)(1)
বাংলাদেশ সংবিধান কবে হতে কার্যকর হয়?
- খ)(2)
বাংলাদেশের সংবিধানের যেকোনো একটি মূলনীতি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটির সংবিধানের সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের সাদৃশ্যসমূহ আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানটি উত্তম সংবিধান কেন? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি হলো 'গণতন্ত্র'। এই নীতি অনুযায়ী সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সংবিধানে জনগণের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে এবং এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা জনগণের এই শাসন বাস্তবায়িত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের ঐতিহাসিক পটভূমি ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
প্রথমত, উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্র যেমন নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করে, তেমনি বাংলাদেশও নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে। দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতার পর 'ক' রাষ্ট্রে ১৯৭০-এর নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গণপরিষদের মাধ্যমে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়েছিল, যা হুবহু বাংলাদেশের ৩৪ সদস্যের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির মতো। তৃতীয়ত, 'ক' রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের সংবিধানও ব্রিটেন, ভারতসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের সংবিধানের উত্তম বৈশিষ্ট্যসমূহ গ্রহণ করে রচিত হয়।
এছাড়া, জনগণের মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা এবং জাতীয় সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটে সংবিধান সংশোধনের বিধান— এ সকল মৌলিক দিক থেকেই 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধান বাংলাদেশের সংবিধানের অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানটি একটি উত্তম সংবিধান, কারণ এতে আধুনিক ও কার্যকর সংবিধানের প্রায় সকল আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
একটি আদর্শ বা উত্তম সংবিধানের প্রধান লক্ষণ হলো এটি জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখে। উদ্দীপকের সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, যা নাগরিকের ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক। পাশাপাশি এতে রাষ্ট্রের সার্বিক কার্যাবলি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সংবিধানে সংসদীয় ব্যবস্থার উত্তম বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে, যা কার্যনির্বাহী বিভাগকে আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করে।
তৃতীয়ত, সংবিধানটি সংশোধনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিধান রাখা হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে সংবিধানটি অত্যন্ত নমনীয়ও নয়, আবার চরম অনমনীয়ও নয়; বরং বাস্তবতার নিরিখে সুচিন্তিত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে, যা একে স্থায়িত্ব ও গতিশীলতা দান করে।
সুতরাং, সার্বিক বিবেচনায় বলা যায় যে, জনগণের অধিকারের নিশ্চয়তা, গণতান্ত্রিক শাসনপদ্ধতি এবং সুষম সংশোধন প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় এটি একটি উত্তম ও আদর্শ সংবিধান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও