জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
পাঠ্যসূচিতে পঙ্গপাল খ্যাত প্রাণীটির চর্বণ উপযোগী মুখোপাঙ্গ ও তার দর্শন কৌশলও অনন্য।
- ক)(1)
স্পার্মোথিকা কী?
- খ)(2)
হিমোলিম্ফের উপাদান কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রাণীটির খাদ্যগ্রহণ উপাঙ্গের চিহ্নিত চিত্র দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রাণীটির দর্শন কৌশল অনন্য কেন? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্ত্রী ঘাসফড়িংয়ের অষ্টম উদরীয় খণ্ডকের অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত থলির মতো অঙ্গ, যা মিলনের সময় পুরুষ ঘাসফড়িং থেকে প্রাপ্ত শুক্রাণু সাময়িকভাবে জমা রাখে, তাকে স্পার্মোথিকা বা শুক্রধানী বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘাসফড়িং তথা আর্থ্রোপোডার বর্ণহীন রক্তকে হিমোলিম্ফ বলে। হিমোলিম্ফ প্রধানত দুটি উপাদান নিয়ে গঠিত:
১. প্লাজমা বা রক্তরস: এটি বর্ণহীন তরল, যা প্রায় ৭০% পানি এবং বাকি অংশ বিভিন্ন অজৈব লবণ (সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম), অ্যামাইনো এসিড, গ্লুকোজ, লিপিড, ইউরিক এসিড ইত্যাদি জৈব উপাদান দ্বারা গঠিত।
২. হিমোসাইট বা রক্তকণিকা: এগুলো বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত ফ্যাগোসাইটিক প্রকৃতির কোষ। এরা প্রোহিমোসাইট, ট্রানজিশনাল হিমোসাইট ও বড় হিমোসাইট—এই তিন প্রকারে বিভক্ত এবং প্রধানত রোগজীবাণু ভক্ষণ ও রক্ত তঞ্চনে অংশ নেয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। ঘাসফড়িংয়ের মুখোপাঙ্গ বা খাদ্যগ্রহণ উপাঙ্গসমূহ ম্যান্ডিবুলেট বা চর্বণ উপযোগী। এর প্রধান পাঁচটি অংশ রয়েছে:
১. ল্যাব্রাম (উর্ধ্বোষ্ঠ): মধ্যরেখা বরাবর খাঁজযুক্ত প্লেটের মতো অংশ।
২. ম্যান্ডিবল (চোয়াল): ল্যাব্রামের নিচে অবস্থিত একজোড়া শক্ত, কাইটিনময় ও দাঁতযুক্ত অংশ।
৩. ম্যাক্সিলা (উপদংশন চোয়াল): একজোড়া অবস্থিত, যার প্রতিটি অংশে কার্ডো, স্টাইপস, ল্যাসিনিয়া, গ্যালিয়া এবং ৫ সন্ধিযুক্ত ম্যাক্সিলারি পাল্প থাকে।
৪. ল্যাবিয়াম (অধোষ্ঠ): ম্যান্ডিবলের পেছনে অবস্থিত নিচের ঠোঁট, যা সাবমেন্টাম, মেন্টাম, লিগুলা ও ৩ সন্ধিযুক্ত ল্যাবিয়াল পাল্প নিয়ে গঠিত।
৫. হাইপোফ্যারিংস (উপজিহ্বা): মুখছিদ্রের কেন্দ্রে অবস্থিত মাংসল নলাকার জিহ্বাসদৃশ অংশ।[পরীক্ষার খাতায় এখানে ল্যাব্রাম, ম্যান্ডিবলদ্বয়, ম্যাক্সিলাদ্বয়, ল্যাবিয়াম এবং হাইপোফ্যারিংসের পৃথক চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে]।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রাণী ঘাসফড়িংয়ের দর্শন কৌশল অনন্য, কারণ এর পুঞ্জাক্ষি আলোকের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রতিবিম্ব গঠন করতে সক্ষম—অ্যাপোজিশন এবং সুপারপজিশন।
১. উজ্জ্বল আলোতে অ্যাপোজিশন (বা মোজাইক) প্রতিবিম্ব:
তীব্র বা উজ্জ্বল আলোতে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামের আইরিশ রঞ্জক আবরণী এবং রেটিনাল রঞ্জক আবরণী সম্পূর্ণরূপে প্রসারিত হয়ে পুরো র্যাবডোম ও ক্রিস্টালাইন কোণকে ঢেকে রাখে। ফলে কোনো ওমাটিডিয়ামে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মি পাশের ওমাটিডিয়ামে প্রবেশ করতে পারে না এবং রঞ্জক আবরণী দ্বারা শোষিত হয়। কেবল উলম্বভাবে বা সরাসরি আপতিত আলোক রশ্মিই র্যাবডোমে পৌঁছায়। প্রতিটি ওমাটিডিয়াম বস্তুর কেবল একটি ছোট অংশের পৃথক পৃথক স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি করে। সব ওমাটিডিয়ামের এই খণ্ড খণ্ড প্রতিবিম্ব সম্মিলিত হয়ে একটি মোজাইক বা সামগ্রিক স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করে।২. মৃদু বা স্তিমিত আলোতে সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব:
অন্ধকার বা মৃদু আলোতে আইরিশ ও রেটিনাল রঞ্জক আবরণীগুলো সংকুচিত হয়ে যথাক্রমে কর্নিয়ার কাছাকাছি এবং ভিত্তি পর্দার দিকে সরে যায়। ফলে ওমাটিডিয়ামগুলোর মাঝে কোনো আলোর প্রতিবন্ধক থাকে না। উলম্ব আলোর পাশাপাশি তীর্যক আলোক রশ্মিও সহজেই একাধিক ওমাটিডিয়ামের মধ্য দিয়ে গিয়ে একই র্যাবডোমে আপতিত হয়। ফলে একটি ওমাটিডিয়ামে গঠিত প্রতিবিম্ব অন্যটির ওপর উপরিপাতিত বা সুপারপোজড হয়। এতে বস্তুর অস্পষ্ট ও ঝাপসা প্রতিবিম্ব তৈরি হলেও প্রাণীটি অন্ধকারে বস্তুর উপস্থিতি ও নড়াচড়া সফলভাবে শনাক্ত করতে পারে।আলোর হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে অভিযোজিত হয়ে একই অঙ্গে দুই ধরনের ভিন্ন কার্যকরী প্রক্রিয়ায় দৃষ্টি সংবেদন তৈরি করার এই সক্ষমতার কারণেই ঘাসফড়িংয়ের দর্শন কৌশল অনন্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও