পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

  1. ক)

    মুজিবনগর সরকার কখন গঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    ৭ মার্চ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-১-এ প্রশ্ন চিহ্নিত (?) সালে কোন ঐতিহাসিক নির্বাচনকে নির্দেশ করা হয়েছে? 8 ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে চিত্র-২-এ নির্দেশিত নির্বাচনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল।

  2. খ)

    ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" ভাষণের মাধ্যমে তিনি সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান এবং অসহযোগ আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দেন। এজন্য ৭ মার্চ বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    চিত্র-১-এ প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত সালটি হলো ১৯৫৪ সাল, যা ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক আইনসভা নির্বাচনকে নির্দেশ করে।

    এই নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল মিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে। যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যার প্রথম দফা ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম আসনের ২৩৭টির মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে এবং মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন পায়। চিত্র-১-এর ২১ দফা কর্মসূচি ও যুক্তফ্রন্টের ২২৩টি আসন লাভ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    চিত্র-২-এ আওয়ামী লীগের ১৬৭টি আসন লাভ এবং নির্বাচনের রায় বানচালের ষড়যন্ত্র ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এ নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম।

    ১. ছয় দফার প্রতি গণরায়: ছয় দফা কর্মসূচিকে ভিত্তি করে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়। পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ১৬২টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৬০টি এবং মহিলা আসনসহ মোট ১৬৭টি আসনে জয়ী হয়ে দলটি প্রমাণ করে যে বাঙালি জনগণ স্বায়ত্তশাসন চায়।
    ২. সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন: জাতীয় পরিষদের ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি পেয়ে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং সরকার গঠনের বৈধ অধিকার অর্জন করে।
    ৩. ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে। এতে বাঙালির মধ্যে ক্ষোভ চরমে ওঠে এবং অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
    ৪. স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত: ২৫ মার্চের কালরাত্রির গণহত্যার পর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

    সুতরাং, ১৯৭০ সালের নির্বাচন বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ের ভিত্তি রচনা করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন