অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
একসময় পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল। জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের প্রতি আগ্রহ ও চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সরকার এই শিল্পের উন্নতির জন্য আর্থিক অনুদানসহ প্রযুক্তিগত ও বিভিন্ন সেবামূলক সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে "জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার" প্রতিষ্ঠা করেছে।
- ক)(1)
PPP-এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
আমদানি বিকল্প শিল্প কীভাবে দেশীয় শিল্পকে সংরক্ষণ করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের উল্লিখিত শিল্পটির বর্তমান সমস্যাগুলো বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে করো, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এই শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
PPP-এর পূর্ণরূপ হলো Public-Private Partnership (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমদানি বিকল্প শিল্প হলো যেসব পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো, সেগুলোর বদলে দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে গড়ে তোলা শিল্প। সরকার আমদানি পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক, কোটা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং দেশীয় শিল্পকে ভর্তুকি ও কর অবকাশ সুবিধা দিয়ে বিদেশী প্রতিযোগিতার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে। এর ফলে দেশীয় শিল্প প্রতিযোগিতা ছাড়াই অভ্যন্তরীণ বাজার পায় এবং বিকশিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে সংরক্ষণ পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘পাট শিল্প’। বর্তমানে পাট শিল্প যেসব প্রধান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. পুরোনো ও অদক্ষ প্রযুক্তি: দেশের অধিকাংশ পাটকলে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি অত্যন্ত পুরোনো ও সেকেলে, যার ফলে উৎপাদনশীলতা কম এবং উৎপাদন খরচ অত্যধিক বেশি।
২. কৃত্রিম বা সিন্থেটিক পণ্যের তীব্র প্রতিযোগিতা: পলিথিন ও সিন্থেটিক ফাইবারের সহজলভ্যতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ঐতিহ্যবাহী পাটজাত পণ্য কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে।
৩. মূলধনের সংকট ও আর্থিক লোকসান: সরকারি ও বেসরকারি পাটকলগুলোর বেশিরভাগই তীব্র কার্যকরী মূলধনের সংকটে ভোগে এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে লোকসানের শিকার হয়।
৪. পণ্যের বহুমুখীকরণের অভাব: এখনও সনাতন চট ও বস্তা তৈরির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা রয়েছে; আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় ফ্যাশনেবল পাটজাত পণ্যের উদ্ভাবন ও পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক উৎপাদনের অভাব রয়েছে।
৫. কাঁচাপাটের মূল্যের অস্থিরতা: কাঁচাপাটের বাজারে মৌসুমভিত্তিক মূল্যের তীব্র ওঠানামা এবং ফড়িয়াদের কারসাজির কারণে মিলগুলো সঠিক সময়ে উপযুক্ত মূল্যে মানসম্পন্ন কাঁচামাল পায় না। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ, বিশেষ করে "জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (JDPC)" প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রদান— পাট শিল্পের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বহুমুখী পাটপণ্যের উদ্ভাবন ও উৎপাদন: বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পণ্যের যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ চটের বস্তা দিয়ে পূরণ সম্ভব নয়। JDPC-এর মাধ্যমে আধুনিক নকশা ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশবান্ধব পাটপণ্য (যেমন: ব্যাগ, জুতো, হোম ডেকর, ভূ-বস্ত্র ইত্যাদি) উদ্ভাবন ও বাজারজাতকরণ সম্ভব হচ্ছে।
২. উদ্যোক্তা তৈরি ও প্রশিক্ষণ: সরকারের কারিগরি ও সেবামূলক সহায়তার ফলে নতুন নতুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি পাট উদ্যোক্তা গড়ে উঠছে, যা পাটজাত পণ্যের বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়াচ্ছে।
৩. আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ: জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে সোনালী আঁশের গুরুত্ব বাড়ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আধুনিক পাটজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি পাবে।
৪. প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন: আর্থিক অনুদান ও প্রযুক্তিগত সুবিধার ফলে জীর্ণ মিলগুলোর আধুনিকায়ন (BMRE) সহজ হবে, যা উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।অতএব, যথাযথ নজরদারি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের এই বহুমুখীকরণ নীতি বাস্তবায়ন করা গেলে পাট শিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও