পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
বিদেশি শাসনাধীন কোনো একটি রাষ্ট্র দুটি প্রধান সম্প্রদায় বাস করে। প্রায় তাদের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও সরকার ব্যর্থ হয়। দেশটি বিভক্ত করাই সমাধান ভেবে সরকার পার্লামেন্টে একটি আইন পাশ করে। আইনটিতে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়।
- ক)(1)
পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের গর্ভনর কে ছিলেন?
- খ)(2)
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত আইনটির সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন আইনের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯০৫ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার (Sir Joseph Bampfylde Fuller)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কেন্দ্র বা বহিরাগত কর্তৃত্বের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ব্যতীত প্রদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি পরিচালনায় প্রদেশসমূহের আইনগত স্বাধীনতা ও সার্বভৌম ক্ষমতা বোঝায়।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে প্রদেশগুলোতে সীমিত পর্যায়ে দ্বৈত শাসন বিলোপ করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়, যা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন নামে পরিচিত। এতে প্রদেশগুলো নিজস্ব বিষয়ে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের স্বাধিকার লাভ করেছিল। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত আইনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের '১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন' (Indian Independence Act, 1947)-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিদেশি শাসনাধীন একটি রাষ্ট্রে দুটি প্রধান সম্প্রদায়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করে এবং যার মাধ্যমে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
উপমহাদেশে হিন্দু ও মুসলিম—এই প্রধান দুই সম্প্রদায়ের বিরোধ এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই 'ভারত স্বাধীনতা আইন' পাস করে। এই আইনের ভিত্তিতেই একই বছরের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামের দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সুতরাং, উদ্দীপকের আইনটি ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রথমত, এই আইনের মাধ্যমে প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সমাপ্তি ঘটে।
দ্বিতীয়ত, আইনের মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম ডোমিনিয়ন বা রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ফলে মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাবি পূরণ হয়।
তৃতীয়ত, এই আইন ভারত বিভক্তির পাশাপাশি পাঞ্জাব ও বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও এটি সীমান্ত সমস্যা, কাশ্মীর বিরোধ এবং ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও মানচিত্রকে স্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছিল এবং জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও