পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৭০ সালে 'এক ব্যক্তি,এক ভোট' এই নীতিতে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানারকম ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে। তখনই নেতা শেখ মজিবুর রহমান জনতার মঞ্চে ঘোষণা দেন, " এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। "
- ক)(1)
রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম কি?
- খ)(2)
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন ঐতিহাসিক ভাষণের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম"- তুমি কি মনে কর এটাই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম 'সোহরাওয়ার্দী উদ্যান'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ইতিহাসের বর্বরতম ও নৃশংসতম গণহত্যা (অপারেশন সার্চলাইট) পরিচালনা করেছিল বলে এই রাতকে 'কালরাত্রি' বলা হয়।
এই রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে নির্বিচারে সাধারণ ছাত্র, জনতা ও নিরাপত্তা সদস্যদের হত্যা করে রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ'-এর সরাসরি মিল রয়েছে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও তৎকালীন ইয়াহিয়া খানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরের বদলে অধিবেশন স্থগিত করে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর প্রতিবাদে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ জনতার সমাবেশে বঙ্গবন্ধু এক ঐতিহাসিক দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম" উক্তিটি ৭ই মার্চের ভাষণেরই অমর বাক্য। এই ভাষণে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বঞ্চনার ইতিহাস, ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা এবং বাঙালির করণীয় আন্দোলনের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"— এটি প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও প্রকৃতপক্ষে এটিই ছিল স্বাধীনতার চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা ও পরোক্ষ ঘোষণা।
বিশ্লেষণ:
১. পরোক্ষ স্বাধীনতার ঘোষণা: বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের এই ভাষণে নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। "যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো" এবং "শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে"— এই আহ্বানগুলো ছিল মূলত একটি গেরিলা যুদ্ধের ও সশস্ত্র সংগ্রামের সুস্পষ্ট ঘোষণা।
২. কৌশলগত ভারসাম্য: সরাসরি একতরফা স্বাধীনতার ঘোষণা (UDI) দিলে পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালিদের 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিক বিমান হামলা ও গণহত্যার আইনগত বৈধতা দাঁড় করানোর চেষ্টা করত। বিচক্ষণ নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার স্পষ্ট আহ্বান জানিয়েও সেই ফাঁদে পা দেননি।
৩. মনস্তাত্ত্বিক মুক্তি: এই ঘোষণার পরই পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক প্রশাসন কার্যত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চলতে থাকে এবং জাতি মানসিকভাবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।তবে সাংবিধানিক ও ইতিহাসের দালিলিক বিচারে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের পূর্বমুহূর্তে বঙ্গবন্ধু ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত ঘোষণা প্রদান করেন।
সুতরাং বলা যায়, ৭ই মার্চের এই আহ্বান ছিল স্বাধীনতার মূল সঞ্জীবনী ও অনানুষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা, যা পরবর্তীতে ২৬ মার্চের চূড়ান্ত স্বাধীনতার ঘোষণায় রূপ নেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও