‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. রফিক X বাজারে গিয়ে দেখলেন অনেক বিক্রেতা সমজাতীয় পণ্য একই দামে বিক্রি করছেন। ক্রেতাগণ কোনো প্রকার দরকষাকষি না করে নির্ধারিত দামে পণ্য ক্রয় করছেন। রফিক সাহেব একটি পণ্যের ৩ একক ক্রয় করলেন। রফিক সাহেব Y বাজারে গিয়ে দেখলেন কোথাও সমজাতীয় পণ্য নেই। নির্ধারিত দামের অস্তিত্ব নেই। সব বিক্রেতাই ভিন্ন ভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন। রফিক সাহেব দরকষাকষি করে T পণ্যের ২ একক ক্রয় করলেন। এমন সময় বশির মিয়া যেখানে এলেন। বশির মিয়া বিক্রেতার কাছে T পণ্য ৬ একক ক্রয়ের আগ্রহ দেখালেন। বিক্রেতা রফিক সাহেবের তুলনায় কম দামে ৬ একক T পণ্য বশির মিয়ার কাছে বিক্রি করলেন। এই পরিস্থিতিতে রফিক সাহেব হতবাক হয়ে গেলেন।

  1. ক)

    আন্তর্জাতিক বাজার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    "বাস্তবে বিশুদ্ধ পূর্ণপ্রতিযোগিতামূলক বাজার কোথাও নেই"—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    X বাজারের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত X ও Y বাজারের মধ্যে কোন বাজারে ভোক্তা অধিক সন্তুষ্টি অর্জন করে? যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে বাজারের পরিধি একটি নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত থাকে এবং যেখানে পণ্যের আন্তর্জাতিকভাবে কেনাবেচা সম্পন্ন হয়, তাকে আন্তর্জাতিক বাজার বলে। যেমন: স্বর্ণ, পাট, চা বা জ্বালানি তেলের বাজার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাস্তব অর্থনীতিতে বিশুদ্ধ পূর্ণপ্রতিযোগিতামূলক বাজারের অস্তিত্ব পাওয়া অসম্ভব। কারণ পূর্ণপ্রতিযোগিতামূলক বাজারের প্রধান শর্তগুলো হলো—অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা, সম্পূর্ণ সমজাতীয় পণ্য, বাজার সম্পর্কে ক্রেতা ও বিক্রেতার পূর্ণ জ্ঞান, এবং উপাদানসমূহের অবাধ গতিশীলতা। বাস্তব জীবনে পণ্যের গুণগত মান, মোড়কীকরণ বা বিপণনে কিছু না কিছু পার্থক্য থাকেই। এছাড়া ক্রেতা বা বিক্রেতার পণ্যের দাম ও মান সম্পর্কে শতভাগ নির্ভুল তথ্য জানা থাকে না এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে পরিবহন ব্যয় ও সরকারি বিধিনিষেধ বিদ্যমান থাকে। এসব কঠোর শর্ত বাস্তবে একসাথে পূরণ হওয়া সম্ভব নয় বলেই বলা হয় বাস্তবে বিশুদ্ধ পূর্ণপ্রতিযোগিতামূলক বাজার কোথাও নেই।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'X' বাজারটিতে অনেক বিক্রেতা সমজাতীয় পণ্য একই দামে বিক্রি করছেন এবং ক্রেতারা দরকষাকষি ছাড়াই নির্ধারিত দামে তা ক্রয় করছেন। তাই এটি মূলত একটি পূর্ণপ্রতিযোগিতামূলক বাজার।

    X বাজার বা পূর্ণপ্রতিযোগিতামূলক বাজারের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা: এ বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা থাকে, ফলে কোনো একক ক্রেতা বা বিক্রেতা বাজারের দামকে প্রভাবিত করতে পারে না।
    ২. সমজাতীয় পণ্য: বাজারে বিক্রীত সকল দ্রব্য আকার, আকৃতি, গুণাগুণ ও মানে সম্পূর্ণ একরকম বা সমজাতীয় হয়। ফলে ক্রেতার কাছে কোনো নির্দিষ্ট বিক্রেতার প্রতি বিশেষ পছন্দ থাকে না।
    ৩. দাম গ্রহীতা ও স্থির দাম: এ বাজারে সামগ্রিক চাহিদা ও যোগানের ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে ভারসাম্য দাম নির্ধারিত হয়। বিক্রেতা বা ফার্ম কেবল সেই দাম মেনে নেয় (Price Taker), ফলে দ্রব্যের একটি নির্দিষ্ট দাম বিরাজ করে।
    ৪. ক্রেতা ও বিক্রেতার পূর্ণ জ্ঞান: বাজারের অবস্থা, দ্রব্যের গুণাগুণ ও দাম সম্পর্কে ক্রেতা ও বিক্রেতা সম্পূর্ণ ওয়াকেবহাল থাকেন।
    ৫. অবাধ প্রবেশ ও প্রস্থান: যেকোনো ফার্ম বা বিক্রেতা স্বাধীনভাবে এ শিল্পে প্রবেশ করতে পারে এবং লোকসান হলে ব্যবসা ছেড়ে চলেও যেতে পারে।
    ৬. অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন ব্যয়ের অনুপস্থিতি: পণ্য সমজাতীয় হওয়ায় কোনো বিক্রেতাকে আলাদা করে বিজ্ঞাপন ব্যয় বহন করতে হয় না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত X বাজারটি পূর্ণপ্রতিযোগিতামূলক বাজার এবং Y বাজারটি অপূর্ণপ্রতিযোগিতামূলক বাজার (মূলত একচেটিয়া বা একচেটিয়া প্রতিযোগিতামূলক বাজার, যেখানে দাম বৈষম্য বিদ্যমান)। এ দুটি বাজারের মধ্যে ভোক্তা X বাজার অর্থাৎ পূর্ণপ্রতিযোগিতামূলক বাজারে অধিক সন্তুষ্টি অর্জন করে। নিচে যুক্তিসহ মতামত দেওয়া হলো:

    ১. ন্যায্য ও স্থির দাম: X বাজারে চাহিদা ও জোগানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয় এবং তা সব ক্রেতার জন্য সমান থাকে। ফলে ভোক্তারা কোনো বিক্রেতার দ্বারা ঠকে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন না। অপরদিকে Y বাজারে বিক্রেতা ক্রেতাবেদে দামের তারতম্য বা দাম বৈষম্য (Price discrimination) করে থাকেন, যা রফিক সাহেবের ক্ষেত্রে ঘটেছে (কম কেনার কারণে তাঁকে বেশি দাম দিতে হয়েছে)। এটি ভোক্তার মনে অসন্তোষ ও বঞ্চনার সৃষ্টি করে।

    ২. ভোক্তা উদ্বৃত্তের সর্বোচ্চকরণ: পূর্ণপ্রতিযোগিতামূলক বাজারে ফার্মগুলো দীর্ঘকালে কেবল স্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করে এবং সর্বনিম্ন গড় খরচে (P = MC = সর্বনিম্ন AC) পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় করে। ফলে ভোক্তা সর্বনিম্ন মূল্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ দ্রব্য ভোগের সুযোগ পায় এবং ভোক্তার উদ্বৃত্ত (Consumer Surplus) সর্বোচ্চ হয়।

    ৩. শোষণমুক্ত বাজার ব্যবস্থা: Y বাজারে বিক্রেতার একচেটিয়া ক্ষমতার কারণে ভোক্তার উদ্বৃত্ত উৎপাদকের মুনাফায় রূপান্তরিত হয়। বিক্রেতা সুযোগ বুঝে দরকষাকষির মাধ্যমে ক্রেতার কাছ থেকে বেশি দাম আদায় করে। পক্ষান্তরে X বাজারে কোনো শোষণ থাকে না।

    ৪. মানসিক তৃপ্তি ও নিশ্চিত তথ্য: X বাজারে দ্রব্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য জানা থাকায় কোনো ক্রেতাকে প্রতারিত হওয়ার শঙ্কায় থাকতে হয় না। কিন্তু Y বাজারে রফিক সাহেব একই পণ্য বশির মিয়ার কাছে কম দামে বিক্রি হতে দেখে হতবাক ও অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

    সুতরাং, উপরোক্ত অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, শোষণহীন পরিবেশ, স্থির ও যৌক্তিক মূল্য এবং সর্বোচ্চ উদ্বৃত্ত পাওয়ার কারণে X বাজারেই ভোক্তা অধিক সন্তুষ্টি অর্জন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন