যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
যুক্তিবিদ্যা ক্লাসে নিখিল স্যার যৌক্তিক সংজ্ঞা পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা দিতে বললেন। উত্তরে নয়ন বললো, “মানুষ হলো জীব” । সুমি বললো, “না স্যার, মানুষ হলো মনুষ্য জাতীয় জীব”। তাদের উত্তর শুনে নিখিল স্যার বিষয়টি নিয়ে ক্লাসে বিস্তারিত আলোচনা করলেন।
- ক)(1)
যৌক্তিক সংজ্ঞা কী?
- খ)(2)
রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি কখন ঘটে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সুমির যৌক্তিক সংজ্ঞায় কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নয়ন ও সুমির প্রদত্ত সংজ্ঞার মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট বিবৃতি দেওয়াকেই যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক সংজ্ঞায় সহজ ও স্পষ্ট ভাষা ব্যবহারের পরিবর্তে যদি অস্পষ্ট, দুর্বোধ্য বা রূপকধর্মী ভাষা প্রয়োগ করা হয়, তবে 'রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটে। সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো পদের অর্থ স্পষ্ট করা; কিন্তু রূপক ভাষা ব্যবহার করলে পদের প্রকৃত জাত্যর্থ বোঝার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সুমির যৌক্তিক সংজ্ঞায় 'চক্রক সংজ্ঞা' (Circular Definition) অনুপপত্তি ঘটেছে।
যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়ম অনুসারে, সংজ্ঞেয় পদের চেয়ে সংজ্ঞায় ব্যবহৃত ভাষা অধিকতর স্পষ্ট ও সহজ হতে হবে এবং সংজ্ঞেয় পদের কোনো সমার্থক বা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা যাবে না। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে সংজ্ঞায় একই পদের সমার্থক শব্দ ঘুরিয়ে ব্যবহার করলে 'চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' দেখা দেয়।
উদ্দীপকে সুমি 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে, “মানুষ হলো মনুষ্য জাতীয় জীব”। এখানে সে 'মানুষ' পদের অর্থের কোনো বিশ্লেষণ বা জাত্যর্থ প্রকাশ না করে সরাসরি মানুষের একটি সমার্থক বা প্রতিশব্দ 'মনুষ্য' ব্যবহার করেছে। ফলে সংজ্ঞার নিয়ম লঙ্ঘিত হওয়ায় সুমির সংজ্ঞায় চক্রক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নয়ন ও সুমির প্রদত্ত সংজ্ঞার মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য বিদ্যমান; উভয় সংজ্ঞাই ত্রুটিপূর্ণ হলেও তাদের অনুপপত্তির ধরন সম্পূর্ণ আলাদা।
প্রথমত, নয়ন 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে, “মানুষ হলো জীব”। এখানে নয়ন মানুষ পদের আসন্নতম জাতি 'জীব'-এর উল্লেখ করলেও তার লক্ষণ বা ব্যবচ্ছেদক গুণ অর্থাৎ 'বুদ্ধিবৃত্তি' উল্লেখ করেনি। মানুষ পদের পূর্ণ জাত্যর্থ হলো জীববৃত্তি + বুদ্ধিবৃত্তি। বুদ্ধিবৃত্তি বাদ দেওয়ায় মানুষের চেয়ে বেশি ব্যক্ত্যর্থবিশিষ্ট (অতিরিক্ত ব্যক্তিসমূহ যেমন অন্যান্য প্রাণী) অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে নয়নের সংজ্ঞায় 'অতিব্যাপক সংজ্ঞা' (Too broad definition) অনুপপত্তি ঘটেছে।
দ্বিতীয়ত, সুমি সংজ্ঞায় বলেছে, “মানুষ হলো মনুষ্য জাতীয় জীব”। সুমির সংজ্ঞায় নতুন কোনো অর্থ প্রকাশিত হয়নি; বরং সে মানুষ পদের সমার্থক শব্দ হিসেবে 'মনুষ্য' শব্দটির পুনরাবৃত্তি করেছে। এর ফলে কোনো অর্থ পরিষ্কার না হয়ে বৃত্তাকার যুক্তির মতো একই কথা ফিরে এসেছে, যাকে 'চক্রক সংজ্ঞা' বলা হয়।
সুতরাং, পার্থক্যের বিচারে নয়নের সংজ্ঞায় জাত্যর্থের একটি অংশ বাদ দিয়ে ব্যক্ত্যর্থ মাত্রাতিরিক্ত বাড়িয়ে ফেলার ফলে 'অতিব্যাপক অনুপপত্তি' ঘটেছে, অন্যদিকে সুমির সংজ্ঞায় জাত্যর্থের ব্যাখ্যা না দিয়ে সমার্থক শব্দ ব্যবহারের ফলে 'চক্রক অনুপপত্তি' ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও