অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
ফাহিমের দেশে যুগোপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ জনগণের গুণগতমান অত্যন্ত নিম্ন। বেশিরভাগ মানুষই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে। এই কারণে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যহানী ঘটছে, অন্যদিকে তাদের নিম্ন মাথাপিছু আয় ও অশিক্ষা, জন্মহার বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে। বর্তমানে সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় অবস্থার কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।
- ক)(1)
মানবসম্পদ কী?
- খ)(2)
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কীভাবে মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করে?
- গ)(3)
ফাহিমের দেশটিতে জনসংখ্যার যে বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের আলোকে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা প্রদানের মাধ্যমে কোনো দেশের শ্রমশক্তি বা জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তর করাই হলো মানবসম্পদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিক্ষা মানুষের জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে মৌলিক ভিত্তি তৈরি করে এবং প্রশিক্ষণ সেই জ্ঞানকে বাস্তব কাজের উপযোগী বিশেষায়িত দক্ষতায় রূপান্তরিত করে। উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ফলে সাধারণ ও অদক্ষ জনগোষ্ঠী উচ্চ উৎপাদনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর শ্রমশক্তিতে পরিণত হয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে মূল ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ফাহিমের দেশে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের জনসংখ্যার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
উন্নয়নশীল দেশের জনসংখ্যার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—উচ্চ জন্মহার, নিম্ন মাথাপিছু আয়, শিক্ষার অভাব বা নিরক্ষরতা, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং অদক্ষ জনশক্তি। উদ্দীপকে দেখা যায়, ফাহিমের দেশে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাবে জনগণের গুণগত মান নিম্ন। মানুষ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করায় স্বাস্থ্যহানি ঘটছে। পাশাপাশি নিম্ন মাথাপিছু আয় ও অশিক্ষার কারণে জন্মহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই লক্ষণগুলো একটি অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের ডেমোগ্রাফিক ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার স্পষ্ট পরিচায়ক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো—বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধি এবং নারী ক্ষমতায়ন—অত্যন্ত সময়োপযোগী, বাস্তবমুখী ও কার্যকর।
প্রথমত, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার ফলে সমাজের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ সাক্ষরতার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের সচেতনতা ও মৌলিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে অদক্ষতার দুষ্টচক্র ভাঙতে সহায়ক। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধির ফলে স্বাস্থ্যহানি হ্রাস পাবে, গড় আয়ু বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষ সুস্থ দেহে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করতে পারবে, যা জাতীয় উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। তৃতীয়ত, দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নারী; নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে পরিবারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পাবে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাবে।
অতএব, সরকারের এসব সমন্বিত পদক্ষেপ দেশের জনসংখ্যাকে বোঝায় না রেখে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে এবং দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও