অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
ক' একটি উন্নয়নশীল দেশ। 'ক' 'দেশের আয়তন ১,৪৭.৫৭০ বর্গ কি. মি. এবং জনসংখ্যার কাঠামো নিম্নরূপ:
২০১৫ সালের মধ্যবর্তী | ২০১৫ সালের মোট | ২০১৫ সালের মোট
সময়ের জনসংখ্যা | জীবিত জনসংখ্যা | ২০১৫ সালের মোট মৃত জনসংখ্যা
১৫,০০,০০,০০০ | ৫০,০০,০০০ | ২০,০০,০০০
- ক)(1)
কাম্য জনসংখ্যা কী?
- খ)(2)
'অধিক জনসংখ্যা বংলাদেশের প্রধান সমস্যা'- কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপক থেকে স্থূল জন্মহার ও স্থূল মৃত্যুহার নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে 'ক' দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয় সাপেক্ষে দেশটি জনবহুল হলে তার সমাধানের উপায় বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকলে কোনো দেশের বিদ্যমান প্রাকৃতিক ও অন্যান্য সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ঘটে এবং দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সীমিত ভৌগোলিক আয়তন ও প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় বাংলাদেশে জনসংখ্যার পরিমাণ অত্যধিক। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে খাদ্য ঘাটতি, বাসস্থান সমস্যা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার অপ্রতুলতাসহ পরিবেশ দূষণের মতো বহুমুখী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের সৃষ্টি হয়। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত জনসংখ্যা সবচেয়ে বড় অন্তরায় বিধায় একে প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক থেকে প্রাপ্ত তথ্য:
- ২০১৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ের জনসংখ্যা () = ১৫,০০,০০,০০০ জন
- ২০১৫ সালের মোট জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা () = ৫০,০০,০০০ জন
- ২০১৫ সালের মোট মৃত ব্যক্তির সংখ্যা () = ২০,০০,০০০ জন
(১) স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate - CBR) নির্ণয়:
অর্থাৎ, স্থূল জন্মহার প্রতি হাজারে প্রায় ৩৩.৩৩ জন।(২) স্থূল মৃত্যুহার (Crude Death Rate - CDR) নির্ণয়:
অর্থাৎ, স্থূল মৃত্যুহার প্রতি হাজারে প্রায় ১৩.৩৩ জন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুযায়ী 'ক' দেশের:
- মোট জনসংখ্যা () = ১৫,০০,০০,০০০ জন
- মোট আয়তন () = ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়:
অতএব, প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১০১৬ জন লোক বাস করায় স্পষ্টতই 'ক' দেশটি একটি অত্যন্ত জনবহুল দেশ।
'ক' দেশের এই জনবহুল সমস্যার সমাধানের উপায়সমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার: জন্মহার কমাতে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির বিস্তার এবং জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা।
২. নারী শিক্ষার প্রসার ও ক্ষমতায়ন: নারীদের শিক্ষার হার ও কর্মসংস্থান বাড়ালে বিবাহ দেরিতে হয় এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জন্মহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।
৩. মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষা: অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে উপযুক্ত সাধারণ, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।
৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়ন: দেশে কৃষি ও শ্রমঘন শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করে বেকারত্ব দূর করা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।
৫. দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি: আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে প্রবাসে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, যা বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধি করবে এবং অভ্যন্তরীণ চাপ কমাবে।
৬. সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক আন্দোলন: বাল্যবিবাহ রোধ, ছোট পরিবারের সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা।উপরিউক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করলে 'ক' দেশ অতিরিক্ত জনসংখ্যার সমস্যা কাটিয়ে জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তর করতে সক্ষম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও