অর্থনীতি ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এগুলো হলো ব্যাংক হার পরিবর্তন, খোলাবাজার নীতি, ঋণের রেশনিং, নগদ জমার হার পরিবর্তন, নৈতিক প্ররোচনা, বন্ধকী ঋণের নগদাংশ পরিবর্তন, সংরক্ষণ অনুপাত পরিবর্তন ইত্যাদি
- ক)(1)
অর্থের ফটকা চাহিদা কী?
- খ)(2)
অর্থ কীভাবে ব্যক্তি জীবনে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব সৃষ্টি করে?
- গ)(3)
উদ্দীপক থেকে ঋণ নিয়ন্ত্রণের গুণগত পদ্ধতিগুলো চিহ্নিত করে এর কার্যকারিতা লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিমাণগত পদ্ধতিগুলোর যেকোনো একটির ঋণ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবিষ্যতে সুদের হার বা বন্ড ও অন্যান্য সিকিউরিটিজের দামের পরিবর্তনের সুবিধা নিয়ে লাভ অর্জনের উদ্দেশ্যে মানুষ যে পরিমাণ অর্থ নিজের কাছে তরল নগদ আকারে ধরে রাখে, তাকে অর্থের ফটকা চাহিদা (Speculative Demand for Money) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থ মানুষের মানসিক প্রশান্তি, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক মর্যাদাবোধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হাতে পর্যাপ্ত অর্থ বা সঞ্চয় থাকলে মানুষ ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ও আপৎকালীন ঝুঁকি নিয়ে নিরাপদ বোধ করে, যা উদ্বেগ দূর করে মনে স্থস্তি দেয়। বিপরীতে অর্থের অপ্রতুলতা মানসিক চাপ ও হতাশা বাড়ায়। এভাবেই ব্যক্তির মানসিক অনুভূতি ও আচরণে অর্থ সরাসরি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঋণ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে গুণগত বা প্রত্যক্ষ পদ্ধতিগুলো হলো: ঋণের রেশনিং, নৈতিক প্ররোচনা এবং বন্ধকী ঋণের নগদাংশ পরিবর্তন।
এগুলোর কার্যকারিতা নিম্নরূপ:
১. ঋণের রেশনিং: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ও খাত নির্ধারণ করে দেয়। এতে অনুৎপাদনশীল বা ফটকাবাজারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমানো যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনশীল খাতে ঋণ নিশ্চিত হয়।
২. বন্ধকী ঋণের নগদাংশ বা মার্জিন পরিবর্তন: জামানত হিসেবে রাখা সম্পদের মূল্যের কত শতাংশ ঋণ হিসেবে দেওয়া যাবে তা পরিবর্তন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট খাতে অতিরিক্ত ঋণের যোগান হ্রাস বা বৃদ্ধি করতে পারে। মুদ্রাস্ফীতির সময় মার্জিন বাড়িয়ে ঋণ সংকোচন করা হয়।
৩. নৈতিক প্ররোচনা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে ঋণ সীমিত করার জন্য উপদেশ, অনুরোধ ও প্ররোচনা দেয়। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি অনুসরণ করলে মুদ্রাবাজারে ঋণ শৃঙ্খলা সহজে বজায় থাকে।এভাবে গুণগত পদ্ধতি নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক ঋণের দিক ও পরিমাণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিমাণগত পদ্ধতিগুলো হলো ব্যাংক হার পরিবর্তন, খোলাবাজার নীতি এবং নগদ জমার হার বা সংরক্ষণ অনুপাত পরিবর্তন। এর মধ্যে বহুল ব্যবহৃত 'ব্যাংক হার নীতি'র ঋণ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াটি নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রথম শ্রেণির সিকিউরিটিজ বা বিল বাট্টাকরণ করে ঋণ প্রদান করে, তাকে ব্যাংক হার (Bank Rate) বলে।
ঋণ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া:
১. ব্যাংক হার বৃদ্ধি ও ঋণ সংকোচন: যখন দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় (যেমনটি উদ্দীপকের 'ক' দেশে ঘটেছে), তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও তাদের গ্রাহকদের দেওয়া ঋণের সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ সুদের হারের কারণে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ গ্রাহকদের ঋণ গ্রহণের আগ্রহ কমে যায়। ফলে সামগ্রিক ঋণের পরিমাণ হ্রাস পায়, মুদ্রার যোগান কমে এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে।২. ব্যাংক হার হ্রাস ও ঋণ সম্প্রসারণ: অপরদিকে অর্থনৈতিক মন্দাকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই হার হ্রাস করে ঋণ প্রবাহ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনে।
অতএব, ব্যাংক হার পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খুব সহজেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদান সক্ষমতা ও জনগণের ঋণ গ্রহণের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করে দেশের ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও