ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

জাতিগত দাঙ্গায় সিয়েরা লিওনের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। সামান্য স্বার্থহানি ঘটলেই তারা বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ফলে তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী। সেখানে যুদ্ধ, নির্যাতন, অসাম্য দূর করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করছে।

  1. ক)

    'মালা' কী?

    (1)
  2. খ)

    সাবায়ে মুয়াল্লাকাত বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত জাতিগত দাঙ্গার সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের কোন বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শান্তিরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের আলোকে আরব জীবনে ইসলামের ভূমিকা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের গোত্রপ্রধান বা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত পরামর্শ পরিষদ বা জাতীয় পরিষদকে 'মালা' বলা হতো।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সাবায়ে মুয়াল্লাকাত' কথাটির অর্থ হলো 'সাতটি ঝুলন্ত কবিতা'। প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের বিখ্যাত উকাজ মেলায় প্রতিবছর বার্ষিক কাব্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কবিদের মধ্য থেকে নির্বাচিত সেরা সাতজন কবির সাতটি উৎকৃষ্ট দীর্ঘ কসিদা বা কবিতাকে স্বর্ণাক্ষরে লিখে পবিত্র কাবাগৃহের দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। তৎকালীন আরবের এই সাতটি শ্রেষ্ঠ ঝুলন্ত গীতিকবিতাকে একত্রে 'সাবায়ে মুয়াল্লাকাত' বলা হয়। ইমরুল কায়েস, জুহাইর, লাবিদ প্রমুখ ছিলেন এসব কবিতার রচয়িতা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জাতিগত দাঙ্গার সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের (আইয়ামে জাহিলিয়া) গোত্রীয় সংঘাত ও বংশগত দ্বন্দ্বের মিল পাওয়া যায়।

    উদ্দীপকের সিয়েরা লিওনে সামান্য স্বার্থহানি ঘটলেই মানুষ বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়। প্রাক-ইসলামি আরবের অবস্থাও ছিল অবিকল এমন। সে যুগে কোনো কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল না। পুরো সমাজ বিভক্ত ছিল বিভিন্ন বেদুইন গোত্রে। 'গোত্রপ্রীতি' বা 'আসাবিয়াহ' ছিল তাদের মূল প্রেরণা।

    আইয়ামে জাহিলিয়া যুগে সামান্য বা তুচ্ছ কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক গোত্র অন্য গোত্রের সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হতো। একটি উটকে কেন্দ্র করে সংঘটিত 'বাসুস যুদ্ধ' প্রায় চল্লিশ বছর ধরে চলেছিল। একইভাবে 'দাশিস ও গাবরা'র যুদ্ধ এবং পবিত্র মাসে সংঘটিত 'হরবুল ফিজার' বা অন্যায় সমর আরব সমাজের রক্তপাত ও ধ্বংসের সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত। সামান্য কারণে যুদ্ধ শুরু হয়ে তা বংশপরম্পরায় অব্যাহত থাকত। উদ্দীপকের জাতিগত সংঘাত প্রাক-ইসলামি আরবের এই যুদ্ধংদেহী গোত্রীয় মানসিকতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চরিত্রকেই তুলে ধরে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী যেভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিয়েরা লিওনে সংঘাত ও নির্যাতন দূর করে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, ঠিক তেমনি আরব জীবনে ইসলামের আগমন কলহপূর্ণ ও বিভক্ত সমাজে শান্তি, ঐক্য ও মানবতার এক অভূতপূর্ব জাগরণ ঘটিয়েছিল।

    ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব সমাজে কোনো আইনকানুন, শৃঙ্খলা বা কেন্দ্রীয় প্রশাসন ছিল না। তুচ্ছ কারণে যুদ্ধ, মারামারি, রক্তপাত, নারীদের ওপর চরম নির্যাতন, জীবন্ত কন্যাসন্তান হত্যা এবং দাস-দাসীদের প্রতি অমানবিক আচরণ ছিল নিত্যদিনের স্বাভাবিক চিত্র।

    হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে ইসলামের আদর্শ এই ভয়াবহ নৈরাজ্যকর অবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধন করে:
    ১. ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা: ইসলাম 'সকল মুমিন ভাই ভাই' এই ঘোষণার মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী গোত্রীয় বৈষম্য ও কৃত্রিম আভিজাত্যের অহংকার চূর্ণ করে সমগ্র আরব জাতিকে এক তাওহিদি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে।
    ২. রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান: ইসলাম অন্যায় যুদ্ধ ও প্রতিশোধ গ্রহণের জাহিলি প্রথা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে আরবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। মদিনা সনদের মাধ্যমে বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
    ৩. মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা: ইসলাম কন্যাসন্তান হত্যা নিষিদ্ধ করে, সম্পত্তিতে নারীর অধিকার প্রদান করে এবং নারীদের সর্বোচ্চ মানবিক মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। দাস-দাসীদের মুক্তিকে উৎসাহিত করে তাদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করা হয়।
    ৪. সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক সাম্য: জাকাত, সদকা ও বায়তুল মালের বিধান প্রবর্তনের মাধ্যমে ইসলাম ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমিয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েম করে।

    অতএব, উদ্দীপকের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকার চেয়েও বহুগুণ ব্যাপক ও স্থায়ীভাবে ইসলাম আরব সমাজের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনের অন্ধকার দূর করে সেখানে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের এক স্বর্ণযুগ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন