পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
মিয়ানমার জাতিগত নিধনস্বরূপ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং তাদেরকে সে দেশ থেকে বিতাড়ন করছে। নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা বিশ্ববাসীর নিকট প্রশংসাযোগ্য।
- ক)(1)
মানবাধিকার কী?
- খ)(2)
জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে পার্থক্য কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন করে গ তাদেরকে কোন কোন অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে মিয়ানমারের জাতিগত নিধনের সাথে বাংলাদেশের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল আছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার এবং পূর্ণ মর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য জাতিসংঘ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত মৌলিক সুযোগ-সুবিধাগুলোকে মানবাধিকার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয়তা হলো একটি মানসিক বা রাজনৈতিক চেতনা, আর জাতি হলো সেই চেতনার ভিত্তিতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত একটি জনসমাজ।
জাতীয়তাবোধসম্পন্ন কোনো জনসমাজ যখন রাজনৈতিক সচেতনতা অর্জন করে স্বাধীনতা লাভ করে বা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে, তখন তা 'জাতি'-তে রূপান্তরিত হয়। অর্থাৎ জাতীয়তা হলো জাতির ভিত্তি এবং জাতি হলো জাতীয়তার চূড়ান্ত পরিণতি। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তাদের মৌলিক মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা লাভ, স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার, সম্পত্তি রক্ষার অধিকার এবং সর্বোপরি নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই অধিকারগুলো অহস্তান্তরযোগ্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করছে, যা তাদের বেঁচে থাকার অধিকার ও সামাজিক অধিকার হরণ করেছে। এছাড়া মিয়ানমার তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছে এবং দেশ থেকে বিতাড়ন করে রাষ্ট্রহীন করেছে। ফলে তারা মৌলিক নাগরিক, রাজনৈতিক (যেমন ভোটাধিকার) এবং অর্থনৈতিক অধিকার থেকেও সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিয়ানমারের জাতিগত নিধনের সাথে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরিচালিত গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের মিল রয়েছে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং লুণ্ঠন চালায়। তারা বাঙালির অস্তিত্ব বিলীন করার উদ্দেশ্যে ২৫শে মার্চ 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর মাধ্যমে পরিকল্পিত গণহত্যা শুরু করে। পাকিস্তানি বাহিনীর এই বর্বর নিধনের কারণে প্রায় এক কোটি বাঙালি জীবন বাঁচাতে ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল।
উদ্দীপকে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের দৃশ্যটিও একই রকম। রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় মুছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে বিতাড়ন করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
উভয় ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সমূলে ধ্বংস বা বিতাড়ন করা (জাতিগত নিধন) এবং এর ফলে ব্যাপক শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। সুতরাং, মানবিক বিপর্যয় ও বর্বরতার দিক থেকে উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসের ভয়াল গণহত্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও