অর্থনীতি ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
নিম্নে আমের বাজার সম্পর্কিত তথ্য দেওয়া হলো:

- ক)(1)
রেখার ঢাল কাকে বলে?
- খ)(2)
অর্থনীতিতে 'মজুদ' ও 'যোগান' কি এক হতে পারে?
- গ)(3)
উদ্দীপক হতে ভারসাম্য দাম ও পরিমাণ নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
বাজার দাম যদি তার ভারসাম্য দাম হতে বিচ্যুত হয় তবে উদ্ভুত পরিস্থিতি উদ্দীপকের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীন চলের পরিবর্তনের ফলে অধীন চলের যে পরিবর্তন ঘটে, এ দুইয়ের অনুপাতকে রেখার ঢাল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে মজুদ ও যোগান এক বা সমান হতে পারে।
সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে বিক্রয়ের জন্য সংরক্ষিত দ্রব্যের মোট পরিমাণকে মজুদ বলে এবং তার থেকে একটি নির্দিষ্ট দামে বিক্রেতারা যে পরিমাণ বিক্রি করতে প্রস্তুত থাকে, তাকে যোগান বলে। তবে যদি দ্রব্যটি পচনশীল হয় (যেমন—মাছ, দুধ, শাকসবজি ইত্যাদি) অথবা বিক্রেতা যদি কোনো নির্দিষ্ট দামে তার সংরক্ষিত সম্পূর্ণ দ্রব্যই বাজারে বিক্রি করতে রাজি থাকে, তবে মজুদের পরিমাণ এবং যোগানের পরিমাণ পরস্পর সমান বা এক হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সূচি থেকে দেখা যায় যে, বিভিন্ন দামে আমের চাহিদা ও যোগানের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন।
দাম যখন ২০ টাকা, তখন চাহিদা ৫০ একক এবং যোগান ১০ একক (চাহিদা > যোগান)।
দাম যখন ৩০ টাকা, তখন চাহিদা ৪০ একক এবং যোগান ২০ একক (চাহিদা > যোগান)।
দাম যখন ৪০ টাকা, তখন চাহিদার পরিমাণ ৩০ একক এবং যোগানের পরিমাণও ৩০ একক (চাহিদা = যোগান)।
দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ টাকা হলে চাহিদার পরিমাণ কমে ২০ একক এবং যোগানের পরিমাণ বেড়ে ৪০ একক হয় (চাহিদা < যোগান)।অর্থনীতি অনুযায়ী, যে দামে বাজারে দ্রব্যের চাহিদা ও যোগানের পরিমাণ সমান হয়, তাকে ভারসাম্য দাম এবং ঐ সমপরিমাণকে ভারসাম্য পরিমাণ বলে।
অতএব, উদ্দীপকের ভিত্তিতে ভারসাম্য দাম হলো ৪০ টাকা এবং ভারসাম্য পরিমাণ হলো ৩০ একক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাজার দাম যদি তার ভারসাম্য দাম (৪০ টাকা) হতে বিচ্যুত হয়, তবে বাজারে উদ্বৃত্ত চাহিদা বা উদ্বৃত্ত যোগানের সৃষ্টি হয় এবং স্বয়ংক্রিয় বাজার প্রক্রিয়ায় তা পুনরায় ভারসাম্যে ফিরে আসে। উদ্দীপকের আলোকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভারসাম্য দামের চেয়ে কম দাম হলে (যেমন: ২০ টাকা বা ৩০ টাকা):
দাম যখন কমে ২০ টাকা বা ৩০ টাকা হয়, তখন ক্রেতাদের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৫০ একক ও ৪০ একক হয়, কিন্তু বিক্রেতাদের যোগান কমে যথাক্রমে ১০ একক ও ২০ একক হয়। ফলে বাজারে ঘাটতি বা উদ্বৃত্ত চাহিদা দেখা দেয়। ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হওয়ায় দ্রব্যের দাম ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং দাম বৃদ্ধির ফলে চাহিদা কমে ও যোগান বেড়ে পুনরায় ভারসাম্য দাম ৪০ টাকায় ফিরে আসে।২. ভারসাম্য দামের চেয়ে বেশি দাম হলে (যেমন: ৫০ টাকা):
দাম যখন বেড়ে ৫০ টাকা হয়, তখন উচ্চ মূল্যের কারণে বিক্রেতাদের যোগান বেড়ে ৪০ একক হয়, কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা কমে ২০ একক হয়। ফলে বাজারে অবিক্রিত দ্রব্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় বা উদ্বৃত্ত যোগান (২০ একক) তৈরি হয়। অবিক্রিত পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয় এবং তারা দাম কমাতে বাধ্য হয়। দাম হ্রাসের ফলে চাহিদা বাড়ে ও যোগান কমে পুনরায় ভারসাম্য দাম ৪০ টাকায় স্থিতিশীল হয়।অতএব, বাজার দাম ভারসাম্য দাম হতে বিচ্যুত হলে চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়, কিন্তু স্বয়ংক্রিয় মূল্য ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজার পুনরায় ভারসাম্য দামে ফিরে আসে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও