হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সুধীর বাবুর পিতার মৃত্যুতে পনেরো দিন হবিষ্যান্ন বা ফলাফলাদি খেয়ে জীবন ধারণ করেন। এরপর শাস্ত্রানুযায়ী পরবর্তী কার্য সম্পাদন করেন। অন্যদিকে সুকেশ বাবুর বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে বারোদিন কঠোর সংযম করে শ্রাদ্ধ করার উপযুক্ততা অর্জন করেন।

  1. ক)

    শ্রাদ্ধ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অন্নপ্রাশন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    সুধীর বাবু কোন বর্ণের লোক? পাঠের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সুধীর বাবু ও সুকেশ বাবু কি একই বর্ণের লোক? পাঠের 'আলোকে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    শ্রদ্ধার সঙ্গে যা দান করা হয়, তাকে শ্রাদ্ধ বলে। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে শ্রদ্ধার সঙ্গে যে দান ও অনুষ্ঠান করা হয় তাই শ্রাদ্ধ।

  2. খ)

    পুত্রের ষষ্ঠ মাসে এবং কন্যার পঞ্চম, অষ্টম বা দশম মাসে পূজাদি মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুর প্রথম অন্নভোজন করানোকে অন্নপ্রাশন বলে। এটি হিন্দুদের দশবিধ সংস্কারের একটি। এই অনুষ্ঠানে শিশুর মুখে প্রথম অন্ন তুলে দেওয়া হয় এবং তার সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য শুভকামনা করা হয়।

  3. গ)

    সুধীর বাবু বৈশ্য বর্ণের লোক।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী মাতা-পিতার মৃত্যুর পর অশৌচকালে হবিষ্যান্ন বা ফলফলাদি খেয়ে জীবনধারণ করতে হয় এবং কঠোর সংযম পালন করে শ্রাদ্ধ করার উপযুক্ততা অর্জন করতে হয়। অশৌচ পালনের দিনসংখ্যায় বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। উচ্চবর্ণের চেয়ে নিম্নবর্ণের লোকদের অশৌচ পালনের দিন বেশি। বিধান অনুযায়ী ব্রাহ্মণের দশ দিন, ক্ষত্রিয়ের বারো দিন, বৈশ্যের পনেরো দিন এবং শূদ্রের ত্রিশ দিন অশৌচ পালনের নিয়ম।

    উদ্দীপকে সুধীর বাবু পিতার মৃত্যুতে পনেরো দিন হবিষ্যান্ন বা ফলফলাদি খেয়ে জীবন ধারণ করেছেন এবং এরপর শাস্ত্রানুযায়ী পরবর্তী কার্য সম্পাদন করেছেন। পনেরো দিন অশৌচ পালনের বিধান বৈশ্য বর্ণের জন্য প্রযোজ্য। সুতরাং সুধীর বাবু বৈশ্য বর্ণের লোক।

  4. ঘ)

    না, সুধীর বাবু ও সুকেশ বাবু একই বর্ণের লোক নন। সুধীর বাবু বৈশ্য এবং সুকেশ বাবু ক্ষত্রিয় বর্ণের লোক।

    পাঠ্যবইয়ে বলা আছে, অশৌচ পালনে বর্ণপ্রথার প্রভাব দেখা যায়। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রের জন্য যথাক্রমে ১০, ১২, ১৫ ও ৩০ দিন অশৌচ পালনের বিধান রয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা যায়, উচ্চবর্ণের চেয়ে নিম্নবর্ণের লোকদের অশৌচের দিন বেশি ধরা হয়েছে।

    ১. সুধীর বাবুর ক্ষেত্রে: তিনি পিতার মৃত্যুর পর পনেরো দিন হবিষ্যান্ন বা ফলাদি খেয়ে জীবন ধারণ করেছেন। পনেরো দিনের অশৌচ বৈশ্য বর্ণের জন্য নির্ধারিত। তাই তিনি বৈশ্য।
    ২. সুকেশ বাবুর ক্ষেত্রে: তিনি বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে বারো দিন কঠোর সংযম পালন করে শ্রাদ্ধ করার উপযুক্ততা অর্জন করেছেন। বারো দিনের অশৌচ ক্ষত্রিয় বর্ণের জন্য নির্ধারিত। তাই তিনি ক্ষত্রিয়।
    ৩. পার্থক্যের ফল: দুজনের অশৌচের দিন ভিন্ন (১৫ ও ১২), সুতরাং তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের।

    তবে পাঠ্যবই এ-ও বলে যে বর্তমানে প্রায় সকল বর্ণের মানুষ দশ দিন অশৌচ পালন করেন এবং গীতা অনুযায়ী বর্ণবিভাগ জন্মগত নয়, গুণ ও কর্মগত। এই অভিন্ন বিধান হিন্দু সমাজের ঐক্য ও সম্প্রীতির জন্য প্রয়োজন।

    সুতরাং, প্রচলিত শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী সুধীর বাবু ও সুকেশ বাবু ভিন্ন বর্ণের লোক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন