সাহিত্য পাঠ • স্বদেশ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

আমার বিশ্ব ভ্রমণ কেবলি তোমার কাছে যাওয়া সকল নিসর্গ ছুঁয়ে তোমাকে খুঁজে পাওয়া। পৃথিবীর শেষপ্রান্তে গিয়ে দেখেছি তোমার মুখ আরম্ভ বিন্দুতে দাঁড়ানো আমি সেই বিস্মিত, উজবুক।

  1. ক)

    'বোধ হয় আর দু-একদিন বাচতে পারি' - শেখ মুজিবুর রহমানের এই বোধ কত তারিখে হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    'তবে আমার লাশ মুক্তি পেয়ে যাবে।' - শেখ মুজিবুর রহমানের এমন কঠোর অবস্থানের কারণ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বিশ্ব ভ্রমণের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবনকে কিভাবে তুমি তুলনা করবে ?

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপক ও 'বায়ান্নর দিনগুলো' স্বদেশ চেতনার ধারক।" উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের এই বোধ হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অনশন ধর্মঘটে নিজের জীবনাবসান ঘটলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার না করার অনমনীয় সংকল্পের কারণে শেখ মুজিবুর রহমান এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।

    বিনা বিচারে বন্দি রাখা এবং পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বঙ্গবন্ধু জেলখানায় আমরণ অনশন পালন করেন। মুক্তির ব্যাপারে আশ্বস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ অনশন ভাঙতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর মৃত্যু হলেও শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে তাঁর মৃতদেহকে বন্দি রাখা সম্ভব হবে না; মৃত্যুতে তাঁর আত্মা ও আদর্শের মুক্তি ঘটবে এবং জনগণ তাঁদের অধিকার আদায় করে নেবে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'বিশ্ব ভ্রমণ' হলো নিসর্গ ও প্রিয় মুখ অন্বেষণের এক আধ্যাত্মিক বা রোমান্টিক যাত্রা, পক্ষান্তরে শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন ছিল দেশ ও দেশের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে নিবেদিত এক অবিরাম বাস্তব সংগ্রাম।

    উদ্দীপকের কবি বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে ঘুরেছেন কেবল তাঁর কাঙ্ক্ষিত প্রিয় মানুষটির রূপ দেখার জন্য। সমগ্র প্রকৃতি ও নিসর্গ ছুঁয়ে তিনি অনন্তকালের সন্ধানী এক পথিক, যিনি বারবার সেই চেনা মুখে ফিরে আসেন।

    অপরদিকে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাঁর দেশ, মাতৃভাষা ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। উদ্দীপকের অন্বেষণ যেখানে এক ব্যক্তিক বা পরম অনুভূতির সাধনা, বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবন সেখানে স্বদেশের স্বাধীনতা ও শোষিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এক নিরন্তর রাজনৈতিক লড়াই। তবে রূপকার্থে দেখলে, কবি যেমন বিশ্ব ঘুরে শেষ পর্যন্ত নিজের কেন্দ্র ও প্রিয় মুখকে খুঁজে পান, বঙ্গবন্ধুও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সকল ঝড়-ঝঞ্ঝা অতিক্রম করে সব সময় বাংলার সাধারণ মানুষের অস্তিত্ব ও মুক্তির ভাবনায় নিবেদিত থেকেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপক ও 'বায়ান্নর দিনগুলো' স্বদেশ চেতনার ধারক"—উক্তিটি পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ নয়; বরং উদ্দীপক যেখানে ব্যক্তিগত প্রেমের আধ্যাত্মিক অন্বেষণকে নির্দেশ করে, 'বায়ান্নর দিনগুলো' সেখানে সুস্পষ্ট ও বাস্তবমুখী স্বদেশ চেতনার ধারক।

    'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় ফুটে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ত্যাগ, মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম এবং স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি দেশের স্বার্থ এবং জনগণের মুক্তির কথা ভেবেছেন। তাই এ রচনাটি নিশ্চিতভাবেই নিখাদ স্বদেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনার মূর্ত প্রতীক।

    অন্যদিকে উদ্দীপকের কবিতার ভাববস্তু নিসর্গ ও প্রিয়তম সত্তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। কবির বিশ্বভ্রমণ মূলত প্রিয় মানুষকে আবিষ্কার ও ফিরে পাওয়ার এক নান্দনিক আকুলতা। যদি দেশমাতৃকাকে 'তুমি' বা 'প্রিয়তমা' হিসেবে রূপকভাবে কল্পনা করা হয়, কেবল সেক্ষেত্রেই এতে প্রচ্ছন্ন স্বদেশপ্রেমের একটি রূপক ব্যঞ্জনা পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রত্যক্ষ অর্থে উদ্দীপকটি একটি ব্যক্তিগত ভাবপ্রধান প্রেমের কবিতা, যেখানে রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো স্বদেশচেতনার স্পষ্ট উল্লেখ নেই।

    অতএব, 'বায়ান্নর দিনগুলো' যেখানে প্রত্যক্ষ স্বদেশ চেতনার দলিল, সেখানে উদ্দীপকে দেশচেতনার ভাবটি সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়। তাই সামগ্রিকভাবে উক্তিটি পুরোপুরি যথার্থ বলা যায় না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন