বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২২ খ্রি. তৎকালীন বৃটিশ সরকারের অধীন থেকে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করেন এবং তা 'ধূমকেতু' পত্রিকায় প্রকাশ করেন। ১৯২৩ খ্রি. জানুয়ারিতে তার একবছর কারাদণ্ড হয়। সে সময় হুগলি জেলখানায় থাকাকালীন ১৯২৩ খ্রি. মে মাসে তিনি অনশন ধর্মঘট করেন। অনশন ভঙ্গের জন্য বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে টেলিগ্রাম করেন। কুমিল্লার বিরজাসুন্দরী দেবীর অনুরোধে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন। ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান।
- ক)(1)
'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- খ)(2)
"আর মরে গেলে দেশের কাজই বা কীভাবে করতা?"-উক্তিটি কে, কাকে এবং কেন করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাথে 'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধের সাদৃশ্য কোথায় তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধের চেতনা উদ্দীপকে কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান তাঁর পুত্র শেখ মুজিবুর রহমানকে করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু একটানা অনশন ধর্মঘট করায় শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও মুমূর্ষু হয়ে পড়েছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর বাড়ি ফিরলে তাঁর পিতা তাঁকে অনশন করে মৃত্যুর ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বোঝাতে গিয়ে এই কথাটি বলেন। পিতার বক্তব্য ছিল—বেঁচে থাকলেই কেবল দেশের ও দশের সেবা করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব, তাই আত্মাহুতির চেয়ে বেঁচে থেকে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাথে 'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধের মূল চরিত্রের (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) অন্যায়ের প্রতিবাদে জেলখানায় অনশন ধর্মঘট পালনের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।
'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে দেখা যায়, রাজবন্দিদের মুক্তি এবং বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটক রাখার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলে মহিউদ্দিন আহমদকে সঙ্গে নিয়ে আমরণ অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। চরম শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করেও তাঁরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থেকে অনশন অব্যাহত রাখেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কাজী নজরুল ইসলাম হুগলি জেলখানায় বন্দি অবস্থায় অন্যায়ের প্রতিবাদে অনশন ধর্মঘট করেন। পরে বিভিন্ন জনের অনুরোধে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন। সুতরাং, রাজনৈতিক অন্যায়ের প্রতিবাদে কারাবন্দি অবস্থায় অনশন ধর্মঘট করার ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে 'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধের বঙ্গবন্ধুর চেতনার গভীর সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধের দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনশন ধর্মঘটের চেতনা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হলেও প্রবন্ধের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট উদ্দীপকে আংশিকভাবে ফুটে উঠেছে।
'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় ফুটে উঠেছে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের পটভূমি, কারাগারে রাজবন্দিদের ওপর নির্যাতন, আমরণ অনশনের মাধ্যমে আত্মত্যাগের মহিমা এবং স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অদম্য প্রতিবাদ। সেখানে অনশন ধর্মঘটের পাশাপাশি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং ২১শে ফেব্রুয়ারির ছাত্রহত্যার প্রতিক্রিয়াও সমানভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
উদ্দীপকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম, 'ধূমকেতু' পত্রিকায় স্বাধীনতার দাবি এবং জেলখানায় অনশন ধর্মঘটের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। এটি 'বায়ান্নর দিনগুলো'র অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনশনের চেতনা এবং দেশপ্রেমের একটি দিককে চমৎকারভাবে তুলে ধরে। তবে 'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে অনশনের উদ্দেশ্য ছিল রাজবন্দিদের বিনাবচারে আটক রাখার প্রতিবাদ এবং ভাষা আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ। উদ্দীপকে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন ও অনশনের রূপ দেখা গেলেও সেখানে ভাষা আন্দোলন বা স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসনের মতো বহুমাত্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উল্লেখ নেই।
অতএব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেলখানায় অনশন ধর্মঘট ও আত্মত্যাগের দৃঢ় চেতনার দিক থেকে উদ্দীপকে 'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধের মূল ভাবটি প্রতিফলিত হলেও তা আংশিক বা একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ, যা প্রবন্ধের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে পুরোপুরি ধারণ করে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও