সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

সহপাঠ প্রশ্ন

বাংলাদেশের একটি ছোট্ট জনপদ বসন্তপুর। সভ্য জীবনের কোনো ছোঁয়া এখানে নেই। অসুখে-বিসুখে আবুল মিয়ার স্বপ্নে পাওয়া তাবিজ, ঝাড়ফুঁক, পানিপড়াই তাদের একমাত্র ভরসা। এ গ্রামের মেয়ে হনুফা নিরক্ষর হলেও তার কথাবার্তা ও চিন্তাচেতনায় বুদ্ধিমত্তার ছাপ স্পষ্ট। আবুল মিয়ার স্বপ্নে পাওয়া কেরামতিতে সে আদৌ বিশ্বাস করে না। গ্রামবাসীদের সে আবুল মিয়ার ভণ্ডামি সম্পর্কে সচেতন করে এবং যেকোনো অসুস্থতায় আবুল মিয়ার কাছে না গিয়ে শত কষ্ট হলেও ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

  1. ক)

    আক্কাসের বাবার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    "যেন বিশাল সূর্যোদয় হয়েছে, আর সে আলোয় প্রদীপের আলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।"- বিষয়টি বুঝিয়ে দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বসন্তপুর গ্রামের মানুষের চেতনার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের চেতনার সাদৃশ্য দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের হনুফা আর 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা একে অপরের পরিপূরক।"- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আক্কাসের বাবার নাম মোদাব্বের মিয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃতিটির মাধ্যমে মহব্বতনগর গ্রামে আওয়ালপুরের নতুন পীরের প্রভাবে মজিদের আধিপত্য ও কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।

    মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে মাজারের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘকাল একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিপতি ছিল। কিন্তু পাশের আওয়ালপুর গ্রামে এক বড় পীরের আগমন ঘটলে তার আলোয় চারপাশ আলোকিত হয়ে ওঠে এবং গ্রামের মানুষ সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। নতুন পীরের এই বিপুল শক্তির কাছে মজিদের এতদিনকার সাজানো ক্ষুদ্র প্রভাব বা কর্তৃত্ব প্রদীপের মৃদু আলোর মতোই ম্লান ও অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বসন্তপুর গ্রামের মানুষের চেতনার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের ধর্মীয় কুসংস্কার, অজ্ঞতা এবং অন্ধবিশ্বাসের সাদৃশ্য রয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামের সাধারণ মানুষ ছিল নিরক্ষর, ধর্মভীরু ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। মজিদ এই সরল মানুষের মনে মাজার ও ধর্মের ভয় ঢুকিয়ে তাদের ওপর শোষণ চালিয়েছে। রোগ-বালাই, সংকট কিংবা অপরাধের ক্ষেত্রে মজিদের পানিপড়া, ফুঁ এবং খোদার গযবের ভয়ই ছিল তাদের জীবনের একমাত্র নিয়ন্ত্রক।

    উদ্দীপকের বসন্তপুর গ্রামের মানুষও আধুনিক চিকিৎসা ও সভ্য জীবন থেকে দূরে থেকে রোগ-শোকে কবিরাজি, স্বপ্নে পাওয়া তাবিজ ও পানিপড়াতেই অন্ধভাবে আস্থা রাখে। মহব্বতনগরের মানুষ যেমন মজিদের ভণ্ডামিকে ঐশ্বরিক জ্ঞান করত, বসন্তপুরের মানুষও তেমনি আবুল মিয়ার কেরামতিতে অন্ধবিশ্বাস রাখে। ফলে উভয় গ্রামের মানুষের চেতনাতেই একই রকম কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের হনুফা ও 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা ধর্মীয় ভণ্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানসিকতার দিক থেকে একে অপরের পরিপূরক—বক্তব্যটি যথার্থ।

    'লালসালু' উপন্যাসের কিশোরী বধূ জমিলা মজিদের চাপিয়ে দেওয়া ধর্মীয় ভীতি ও অন্ধ আনুগত্যকে মনেপ্রাণে মেনে নেয়নি। সে মজিদকে ভয় পেলেও তার কপটতাকে অন্তরে ঘৃণা করেছে, মজিদের মুখে থুতু নিক্ষেপ করে নিঃশব্দ এক চূড়ান্ত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। জমিলার এই প্রতিবাদ ছিল সংস্কার ও শোষণের বিরুদ্ধে নীরব এক প্রতীকী প্রতিরোধ।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকের হনুফা নিরক্ষর হলেও সচেতন ও বুদ্ধিদীপ্ত। সে যেমন নিজে আবুল মিয়ার ভণ্ডামিতে বিশ্বাস করে না, তেমনি অন্যদেরও সচেতন করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। অর্থাৎ, হনুফার প্রতিবাদ সক্রিয় ও প্রকাশ্য।

    জমিলার নীরব অথচ অটল অবাধ্যতা এবং হনুফার স্পষ্ট ও বাস্তবমুখী প্রতিরোধ—উভয় চরিত্রই মজিদ ও আবুল মিয়ার মতো সুবিধাবাদী ও ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করতে সচেষ্ট। জমিলা যেখানে অনুভূতি ও আচরণ দিয়ে অন্ধ আনুগত্য প্রত্যাখ্যান করেছে, হনুফা সেখানে যুক্তি ও সচেতনতা দিয়ে সেই কুসংস্কারের মূলে আঘাত হেনেছে। তাই বলা যায়, শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সামগ্রিক রূপায়ণে তারা একে অপরের পরিপূরক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন