ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

“আমার বান্দার প্রতি আমি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে এর মতো একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো।”

  1. ক)

    'ক্বলব' অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    'মুত্তাকিদের' গুণাবলি সংক্ষেপে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    'অ-ইন কুনতুম ফী রইবিন' দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে যে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, কারও পক্ষে তা গ্রহণ করা সম্ভব কি-না? ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ক্বলব' (قلب) শব্দের অর্থ অন্তর, হৃদয় বা মন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুত্তাকি হলেন সেই সকল ব্যক্তি যাঁরা আল্লাহকে ভয় করে সকল প্রকার পাপকাজ থেকে বিরত থাকেন এবং তাঁর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেন। আল-কুরআনের সূরা আল-বাকারার শুরুতে মুত্তাকিদের মৌলিক গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে:
    ১. তারা অদৃশ্যে (গায়েব)-এ বিশ্বাস স্থাপন করে;
    ২. তারা যথাযথভাবে সালাত কায়েম করে;
    ৩. আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক থেকে সৎকাজে ও আল্লাহর পথে ব্যয় করে;
    ৪. আল-কুরআন ও পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের ওপর বিশ্বাস রাখে; এবং
    ৫. তারা আখিরাতের প্রতি অবিচল ও দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সূরা আল-বাকারার ২৩ নম্বর আয়াতে উল্লেখিত 'অ-ইন কুনতুম ফী রইবিন' (وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ) কথাটির অর্থ হলো— 'আর যদি তোমরা সন্দেহের মধ্যে থাক'।

    তৎকালীন আরবের কাফির ও মুশরিকরা আল-কুরআনকে মানব রচিত কাব্য বা মুহাম্মদ (সা.)-এর মনগড়া বাণী বলে অপবাদ দিত এবং এর ঐশী উৎসের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করত। এই প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তাআলা সংশয়বাদীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন যে, মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিলকৃত এ গ্রন্থের সত্যতা ও ঐশী বাণী হওয়ার বিষয়ে যদি তাদের অন্তরে তিল পরিমাণও সন্দেহ বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকে, তবে তারা যেন এর মোকাবিলায় কুরআনের সূরার মতো অন্তত একটি সূরা রচনা করে দেখায়। এটি ছিল অবিশ্বাসীদের অজ্ঞতা ও সংশয়কে স্পষ্ট করার জন্য আল-কুরআনের এক দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আল-কুরআনের মতো একটি সূরা রচনার যে চ্যালেঞ্জ বা আহ্বান জানানো হয়েছে, মানব বা দানব কোনো সৃষ্টির পক্ষেই তা গ্রহণ করে সফল হওয়া সম্ভব নয়।

    আল-কুরআন হলো সর্বশক্তিমান ও চিরজ্ঞানী মহান আল্লাহর অবিকৃত বাণী। এর ভাষাগত অলঙ্কার, গভীর অর্থবহতা, নির্ভুল তথ্য, বিজ্ঞানসম্মত সত্যতা ও ছন্দের মাধুর্য মানুষের কল্পনারও অতীত। তৎকালীন আরবের মানুষ আরবি সাহিত্য ও বাগ্মিতায় চরম উৎকর্ষ লাভ করেছিল। তবুও শ্রেষ্ঠ আরবী কবি ও সাহিত্যিকরা কুরআনের এই চ্যালেঞ্জের সামনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ ও অসহায় হয়ে পড়েছিল।

    আল্লাহ তাআলা নিজেই সূরা বনী ইসরাঈলে ঘোষণা করেছেন— 'বলুন, যদি মানব ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ আনয়নের জন্য একত্রিত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।' (সূরা বনী ইসরাঈল: ৮৮)। কুরআনের কোনো সূরার মতো সুষম ও নিখুঁত বাণী তৈরি করার ক্ষমতা নশ্বর মানুষের নেই। অতএব, উদ্দীপকে উল্লেখিত চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করা অতীতেও কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি এবং কিয়ামত পর্যন্ত কারও পক্ষে তা সম্ভব হবে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন