ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
সাকিব সাহেব আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত একজন চাকরিজীবী। বন্ধু গোফরানের সাথে আলাপচারিতায় বললেন, এ পৃথিবীতে আমাদের আগমন, চলে যাওয়া সবই দুর্ঘটনার মতো। কার খবর কে রাখে? শুনে তার বন্ধু গোফরান বলে তুমি কি জান না আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি মনোনিবেশ করেছেন আকাশসমূহের দিকে। আর সেগুলো বিন্যস্ত করেছেন সাতটি আকাশে। সে অবাক হলো। গোফরান আরও বললেন, কুরআন না শিখে তুমি জ্ঞান- বিজ্ঞানের বিশাল ভান্ডার থেকে বঞ্চিত হয়েছো।
- ক)(1)
'মুত্তাকিন' অর্থ কী ?
- খ)(2)
‘লা-রইবা ফীহ্’ আয়াতাংশে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
সাকিব সাহেবের চিন্তাধারা কুরআনের আলোকে বিশ্লেষণ কর ।
- ঘ)(4)
জনাব গোফরানের উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর ৷
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মুত্তাকিন' শব্দের অর্থ হলো পরহেজগার, সংযমী, ধর্মভীরু বা আল্লাহভীরু ব্যক্তিগণ (যারা তাকওয়া অবলম্বন করে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লা-রইবা ফীহ্' (لَا رَيْبَ فِيهِ) আয়াতাংশের অর্থ হলো 'এতে কোনো সন্দেহ নেই'। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, পবিত্র আল-কুরআন সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এক নির্ভুল ও চিরন্তন আসমানি কিতাব। এর বাণী, সত্যতা, বিধান ও নির্দেশনায় বিন্দুমাত্র ভুল বা সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সাকিব সাহেবের চিন্তাধারা আল-কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং কুরআন অনুসারে এটি পথভ্রষ্টতা ও অজ্ঞতাপ্রসূত।
সাকিব সাহেব মনে করেন মানুষসহ পৃথিবীর সমস্ত কিছুর আগমন ও চলে যাওয়া নিতান্তই এক আকস্মিক দুর্ঘটনার মতো, যার পেছনে কোনো উদ্দেশ্য নেই। অথচ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুই উদ্দেশ্যহীন বা অযথা সৃষ্টি করা হয়নি। সূরা আল-মু'মিনুন-এর ১১৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, "তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদের অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে না?" এছাড়াও সূরা আদ-ধারিয়াতে বলা হয়েছে, জিন ও মানবজাতিকে কেবল আল্লাহর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।
অতএব, মানুষের সৃষ্টি, জীবন এবং মৃত্যু মহান আল্লাহর এক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও নির্দেশনার অধীন; এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। কুরআনের আলোকে সাকিব সাহেবের ধারণা বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব গোফরানের উক্তিটি আল-কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ এবং বাস্তবসম্মত।
পবিত্র আল-কুরআন কেবল একটি ধর্মীয় বিধিবিধানের গ্রন্থ নয়, বরং এটি সৃষ্টিতত্ত্ব, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও মানব সৃষ্টির মতো জ্ঞান-বিজ্ঞানের বহু মৌলিক তথ্যের মূল উৎস। গোফরান সূরা বাকারার ২৯ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে সৃষ্টিতত্ত্বের সত্য তুলে ধরেছেন। উক্ত আয়াতে পৃথিবী ও সাত আসমান সুবিন্যস্তভাবে সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, যা মহাবিশ্বের এক নিখুঁত পরিকল্পনা ও বিজ্ঞানের সাক্ষ্য দেয়।
কুরআন পাঠ ও অনুধাবনের মাধ্যমে মানুষ মহাবিশ্বের উৎপত্তি (বিগ ব্যাং), ভ্রূণতত্ত্ব, সমুদ্রবিজ্ঞান ও পর্বতমালা সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্যাদি জানতে পারে, যা আধুনিক বিজ্ঞানও স্বীকার করেছে। সাকিব সাহেবের মতো আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিরা কুরআন থেকে দূরে থাকার কারণে মহাজাগতিক ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানের প্রকৃত নির্যাস থেকে বঞ্চিত হন। সুতরাং, "কুরআন না শিখে তুমি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশাল ভান্ডার থেকে বঞ্চিত হয়েছো"—গোফরানের এই উক্তিটি সর্বতোভাবে সত্য ও যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও