সাধারণ জ্ঞান • Literature, arts and culture • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ অবলম্বনে অঙ্কন করেন উপরের চিত্রটিসহ অসংখ্য চিত্র যেগুলো ‘দুর্ভিক্ষের চিত্রমালা' নামে দেশ-বিদেশে সাড়া জাগায় এবং তাঁকে অমর করে তোলে।
- ক)(1)
কত বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়?
- খ)(2)
“ সকলি দিলাম তুলে থরে বিথরে”-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
চিত্রটি 'সোনার তরী'র সঙ্গে কীভাবে সঙ্গতিপূর্ণ তা বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
“মানুষ বাঁচে তাঁর কর্মে, বয়সে নয়।”—উদ্দীপকের চিত্র ও ‘সোনার তরী' কবিতার আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাত্র ১৫ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বনফুল' প্রকাশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“সকলি দিলাম তুলে থরে বিথরে”— চরণটির মাধ্যমে কৃষক তথা মানুষের আজীবন সাধনায় অর্জিত সমুদয় শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ও কর্মকে নিঃশর্তভাবে মহাকালের তরণীতে সমর্পণ করার ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতায় কৃষক নদীকূলের একাকী দ্বীপে দাঁড়িয়ে তার উৎপাদিত সোনার ধান পরম মমতায় নৌকায় সাজিয়ে তুলে দেয়। রূপকার্থে, মানুষ তার গোটা জীবনে যে জ্ঞান, শ্রম ও শিল্পকর্ম সৃষ্টি করে, মহাকালের কাছে তা পরম শ্রদ্ধায় ও পরিপাটি করে অর্পণ করে দেয়। নিজের অস্তিত্বের চেয়েও নিজের সৃষ্টিকে মহাকালের বুকে টিকিয়ে রাখার এই আকুল প্রয়াসই আলোচ্য চরণের মধ্য দিয়ে মূর্ত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি ও তার পটভূমি 'সোনার তরী' কবিতার সৃষ্টিকর্মের অমরত্ব ও কালজয়ী আবেদনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
'সোনার তরী' কবিতায় দেখানো হয়েছে যে, ব্যক্তিমানুষ নশ্বর এবং একদিন তাকে মহাকালের করাল গ্রাসে বিলীন হতে হয়; কিন্তু মানুষের সৃষ্ট মহৎ কর্ম বা 'সোনার ধান' মহাকালের তরণীতে স্থান পেয়ে চিরভাস্বর হয়ে বেঁচে থাকে। মহাকাল ব্যক্তিকে গ্রহণ না করলেও তার সৃষ্টিকে সাদরে গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের চিত্রমালা তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির একটি। দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ মারা গেছে, সময় পেরিয়ে গেছে, কিন্তু তাঁর অঙ্কিত এই অনন্য সৃষ্টিকর্ম যুগ যুগ ধরে টিকে থেকে তাঁকে বিশ্বদরবারে অমর করে রেখেছে। ঠিক যেমন 'সোনার তরী'র সোনার ধান অক্ষয় হয়ে তরণীতে ঠাঁই পায়, তেমনি জয়নুল আবেদিনের এই শিল্পকর্মও মহাকালের তরণীতে চিরন্তন স্থান লাভ করেছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের চিত্রটি 'সোনার তরী' কবিতার মূল দর্শনের সাথে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“মানুষ বাঁচে তাঁর কর্মে, বয়সে নয়”— উক্তিটি উদ্দীপকের চিত্র এবং 'সোনার তরী' কবিতার সামগ্রিক দার্শনিক সত্যকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে।
দৈহিক বা পার্থিব আয়ুষ্কাল দিয়ে মানুষের মহত্ত্ব নির্ধারিত হয় না, বরং মানুষ বেঁচে থাকে তার মহৎ সৃষ্টি ও কর্মের মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতায় দেখা যায়, কৃষক রূপী মানুষ মহাকালের অনন্ত স্রোতের সামনে একাকী ও নিঃসঙ্গ। ব্যক্তিমানুষের নশ্বর দেহ 'সোনার তরী'তে স্থান পায় না, তাকে শূন্য নদীর তীরে পড়ে থাকতে হয়। তবে তার উৎপাদিত ‘সোনার ধান’ তথা তার সৃষ্টিকর্ম তরণীতে স্থান পেয়ে কালজয়ী রূপ লাভ করে। অর্থাৎ ব্যক্তি নশ্বর হলেও তার কর্ম অবিনশ্বর।
উদ্দীপকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের দুর্ভিক্ষের চিত্রমালাটির কথাই ধরা যাক। ১৯৪৩ সালের মন্বন্তরের ভয়াবহতা এবং মানুষের চরম হাহাকারকে তিনি তাঁর তুলির আঁচড়ে চিরস্থায়ী রূপ দিয়েছেন। ব্যক্তি হিসেবে মানুষ একসময় মৃত্যুবরণ করে, কিন্তু এই অমর চিত্রমালা জয়নুল আবেদিনকে মানুষের হৃদয়ে ও ইতিহাসের পাতায় বাঁচিয়ে রেখেছে। তাঁর এই সৃষ্টিকর্মই প্রমাণ করে যে, শারীরিক বয়সের চেয়ে কর্মের ব্যাপ্তি ও গভীরতাই মানুষকে অনন্তকাল বাঁচিয়ে রাখে।
অতএব, উদ্দীপকের শিল্পকর্ম এবং 'সোনার তরী' উভয় ক্ষেত্রেই স্পষ্ট যে, নশ্বর মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও সৃষ্টিশীল ও কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে মানুষ যুগ যুগ ধরে অমরত্ব লাভ করে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও