সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
জেসমিন করিম একটি রক্ষণশীল সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ষোল বছর বয়সে কলেজ শিক্ষক মি. করিমের সাথে তার বিয়ে হয়। স্বামীর সহযোগিতায় তিনি পড়াশোনা করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক সম্পদের মালিক হন। তিনি নিজ গ্রামে নারীদের শিক্ষার জন্য একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। মহিলাদের সচেতন ও সংগঠিত করার লক্ষ্যে মহিলা সমিতি নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
- ক)(1)
সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইন কত সালে প্রণীত হয়?
- খ)(2)
নারীর ক্ষমতায়ন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জেসমিন করিমের কর্মকাণ্ডের সাথে বাংলাদেশের। কোন বিখ্যাত সমাজ সংস্কারকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জেসমিন করিমের কর্মকাণ্ড নারী উন্নয়নে। কীভাবে সহায়তা করতে পারে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইন ১৮২৯ সালে (১৭ নম্বর রেগুলেশন অনুযায়ী) প্রণীত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নারীর ক্ষমতায়ন বলতে নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে সমমর্যাদা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠাকে বোঝায়।
এর মাধ্যমে নারীরা নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে এবং সমাজের মূলধারায় পুরুষের পাশাপাশি সক্রিয় অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জেসমিন করিমের কর্মকাণ্ডের সাথে বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন ও সমাজ সংস্কারমূলক কাজের মিল রয়েছে।
বেগম রোকেয়া একটি রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বিয়ের পর স্বামীর প্রেরণায় তিনি স্বশিক্ষিত হন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি নারী সমাজকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মুক্ত করতে ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে এবং পরবর্তীতে ১৯১১ সালে কলকাতায় 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া নারীদের স্বাবলম্বী ও সচেতন করার উদ্দেশ্যে ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমান-ই-খাওয়াতিনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
উদ্দীপকের জেসমিন করিমও স্বামীর মৃত্যুর পর প্রাপ্ত সম্পদ দিয়ে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন এবং মহিলা সমিতি গঠন করে নারীদের সচেতন করেন, যা বেগম রোকেয়ার ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জেসমিন করিমের কর্মকাণ্ড নারী সমাজের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা, স্বনির্ভরতা এবং সামগ্রিক নারী উন্নয়নে বহুমুখী ভূমিকা রাখতে পারে।
এ কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক প্রভাবগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নারী শিক্ষার বিস্তার: বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রামের অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত মেয়েরা শিক্ষার সুযোগ পাবে। শিক্ষা নারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে এবং কুসংস্কার দূর করতে সহায়তা করবে।
২. সচেতনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা: মহিলা সমিতির মাধ্যমে নারীরা একত্রিত হয়ে তাদের আইনি অধিকার, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে, যা বাল্যবিয়ে ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।
৩. অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা: মহিলা সমিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ও হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হবে। ফলে নারীরা আয়বর্ধক কাজে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
৪. নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন: সংগঠিত হওয়ার ফলে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়বে এবং পরিবার ও সমাজে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে।সুতরাং, জেসমিন করিমের মতো সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ নারীর শিক্ষা, ক্ষমতায়ন এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই নারী উন্নয়নে কার্যকর সহায়তা প্রদান করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও