অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব কামাল অর্থনীতির ক্লাসে বললেন, দেশে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও নানাবিধ উন্নয়নের জন্য সরকার বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে। তবে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের উপর।
- ক)(1)
উন্নয়ন পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার সময়ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি দেশের সুনির্দিষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্ত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে গৃহীত কর্মসূচিকে উন্নয়ন পরিকল্পনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য যে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়, তাকে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বলা হয়।
এটি মূলত একটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা। এ ধরনের পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট পঞ্চবার্ষিক সময়ের মধ্যে জাতীয় আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব কামাল সরকারের 'বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা' গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন। সময়ের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রধানত তিন প্রকার:
১. স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা: সাধারণত এক বছর বা তার কম সময়ের জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। যেমন—বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP)। জরুরি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা বা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এটি কার্যকর।
২. মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা: সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বা সাত বছর মেয়াদের জন্য যে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। যেমন—পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। এটি অর্থনীতির ধারাবাহিক গতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
৩. দীর্ঘমেয়াদি বা পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা: সাধারণত দশ থেকে বিশ বা পঁচিশ বছর মেয়াদের জন্য দূরদর্শী লক্ষ্যকে সামনে রেখে যে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি বা পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা (Perspective Plan) বলে। এর মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়।
সুতরাং, উদ্দীপকের আলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সময়ের ব্যাপ্তির ভিত্তিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বিভক্ত করা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের উপর'—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ। কেবল নিখুঁত পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয় না, বরং তার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়।
উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সম্পদের সঠিক ব্যবহার: একটি দেশের সম্পদ সীমিত। পরিকল্পনা যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপচয় রোধ করে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
২. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: শিল্পায়ন, কৃষি ও সেবা খাতের পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং দারিদ্র্য হ্রাস পায়।
৩. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া সামগ্রিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। সময়মতো বাস্তবায়ন না হলে প্রকল্প ব্যয় ও সময় দুটোই বৃদ্ধি পায়।
৪. জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনের মতো সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
৫. আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ: সুষম উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের উন্নয়ন ও বৈষম্য দূর করা যায়।পরিকল্পনা প্রণয়ন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশনা দেয়, কিন্তু সফল বাস্তবায়নই তা বাস্তবে রূপ দেয়। বাস্তবায়ন না হলে পরিকল্পনা শুধু কাগজের দলিলে পরিণত হয়। তাই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও