জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পার্শ্বরেখা অঙ্গ কী?

    (1)
  2. খ)

    মেজর কার্প বলতে কী বুঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রাণীটির হৃৎপিন্ডের গঠন চিত্রসহ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের চিত্রের গতিপথ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছের দেহের উভয় পার্শ্ব বরাবর অবস্থিত সংবেদী রেখাকে পার্শ্বরেখা অঙ্গ বলে, যা পানির চাপ, তাপমাত্রা ও রাসায়নিক পরিবর্তন শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব কার্প জাতীয় মাছ প্রাকৃতিকভাবে আকারে বেশ বড় হয় (সাধারণত ১ কেজির বেশি বৃদ্ধি পায়), দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাদের মেজর কার্প (Major carp) বলে। যেমন— রুই (Labeo rohita), কাতলা (Gibelion catla), মৃগেল (Cirrhinus mrigala) ইত্যাদি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রাণীটি হলো মাছ (যেমন: রুই মাছ)। এর হৃৎপিণ্ড অসম্পূর্ণ দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ও মূলত শিরা-হৃৎপিণ্ড (Venous heart)।

    হৃৎপিণ্ডের গঠন:
    রুই মাছের হৃৎপিণ্ড পেরিকার্ডিয়াল গহ্বরে অবস্থিত এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা দ্বিস্তরী পর্দা দ্বারা আবৃত। হৃৎপিণ্ডটি মূলত দুটি প্রধান প্রকোষ্ঠ এবং দুটি উপ-প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত:
    ১. সাইনাস ভেনোসাস (উপ-প্রকোষ্ঠ): এটি হৃৎপিণ্ডের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত একটি পাতলা প্রাচীরযুক্ত ত্রিভুজাকার প্রকোষ্ঠ। সারা দেহ থেকে সংগৃহীত ডিঅক্সিজেনেটেড রক্ত ডাক্টাস কুভিয়েরির মাধ্যমে প্রথমে এখানে প্রবেশ করে। সাইনো-অ্যাট্রিয়াল ছিদ্রের মাধ্যমে এটি অ্যাট্রিয়ামে উন্মুক্ত হয়।
    ২. অ্যাট্রিয়াম (প্রধান প্রকোষ্ঠ): এটি সাইনাস ভেনোসাসের সম্মুখে অবস্থিত পাতলা প্রাচীরযুক্ত কিন্তু বৃহদাকার প্রকোষ্ঠ। এতে সাইনো-অ্যাট্রিয়াল কপাটিকা থাকে যা রক্তের বিপরীত প্রবাহ রোধ করে।
    ৩. ভেন্ট্রিকল (প্রধান প্রকোষ্ঠ): এটি অ্যাট্রিয়ামের নিচে অবস্থিত অত্যন্ত পুরু ও পেশিবহুল প্রাচীরযুক্ত ত্রিকোণাকার প্রকোষ্ঠ। অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার ছিদ্রের মাধ্যমে রক্ত অ্যাট্রিয়াম থেকে ভেন্ট্রিকলে আসে।
    ৪. বাল্বাস আর্টারিওসাস (উপ-প্রকোষ্ঠ): ভেন্ট্রিকল হতে উৎপন্ন মোটা রক্তনালির স্ফীত অংশকে বাল্বাস আর্টারিওসাস বলে (এটি প্রকৃত প্রকোষ্ঠ নয়, এটি ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টার গোড়ার স্ফীত অংশ)। এটি রক্তকে সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে সম্মুখবর্তী অ্যাওর্টায় প্রেরণে সাহায্য করে।

    [চিত্রাঙ্কন: রুই মাছের হৃৎপিণ্ডের লম্বচ্ছেদের একটি চিহ্নিত চিত্র (সাইনাস ভেনোসাস, অ্যাট্রিয়াম, ভেন্ট্রিকল, বাল্বাস আর্টারিওসাস এবং সংশ্লিষ্ট কপাটিকাসমূহ প্রদর্শন করে অঙ্কন করতে হবে)]

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত গতিপথটি হলো মাছের একচক্রী রক্ত সংবহন (Single circulation)। এই সংবহনে রক্ত সারা দেহে একবার সম্পূর্ণ আবর্তনের সময় হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল একবারই প্রবাহিত হয়। নিম্নে এই গতিপথ বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. দেহকোষ থেকে হৃৎপিণ্ডে:
    মাছের দেহকোষে বিপাকীয় কার্যাবলির ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত বিভিন্ন শিরার মাধ্যমে সংগৃহীত হয় এবং ডাক্টাস কুভিয়েরি হয়ে প্রথমে হৃৎপিণ্ডের উপ-প্রকোষ্ঠ সাইনাস ভেনোসাসে প্রবেশ করে। সেখান থেকে রক্ত সাইনো-অ্যাট্রিয়াল ছিদ্রপথে অ্যাট্রিয়ামে আসে এবং অ্যাট্রিয়াম সংকুচিত হয়ে রক্তকে একমুখী কপাটিকা পার করে পেশিবহুল ভেন্ট্রিকলে পাঠায়।

    ২. হৃৎপিণ্ড থেকে ফুলকায়:
    ভেন্ট্রিকল সংকুচিত হলে CO2-যুক্ত রক্ত বাল্বাস আর্টারিওসাসের মধ্য দিয়ে প্রধান রক্তনালি ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টায় (অন্তর্বাহী ফুলকা ধমনি) প্রবেশ করে। এই ধমনিগুলো রক্তকে শ্বাস-অঙ্গ ফুলকায় (Gills) নিয়ে যায়। যেহেতু মাছের হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবলমাত্র CO2-যুক্ত বা শিরা-রক্ত প্রবাহিত হয়, তাই একে শিরা হৃৎপিণ্ড বা ভেনাস হার্ট বলা হয়।

    ৩. ফুলকা থেকে দেহকোষে:
    ফুলকার কৈশিক জালকে পৌঁছানোর পর ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পানির সাথে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে; ফলে রক্ত CO2 বর্জন করে অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে। এই পরিশোধিত ও অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহির্বাহী ফুলকা ধমনি ও ডরসাল অ্যাওর্টার মাধ্যমে সারা দেহের কোষ ও কলায় পরিবাহিত হয়।

    ৪. পুনরাবৃত্তি:
    দেহকোষে রক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে পুনরায় কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত হয় এবং পুনরায় শিরাতন্ত্রের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে।

    সুতরাং, উদ্দীপকের ছকটি মাছের রক্তসংবহনের 'দেহকোষ → হৃৎপিণ্ড → ফুলকা → দেহকোষ' গতিপথকে যথার্থভাবে উপস্থাপন করে, যা একটি সফল একচক্রী সংবহন পদ্ধতি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন