জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
উদ্ভিদ কোষের বাইরের দিকে দুই ধরনের আবরণ দেখা যায়। একটি জড় এবং অন্যটি সজীব ।
- ক)(1)
সাইটোসোল কী?
- খ)(2)
লাইসোসোমকে আত্মঘাতী থলিকা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ২য় ঝিল্লীর সবচেয়ে গ্রহণীয় মডেলটি বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঝিল্লী দুটির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাইটোপ্লাজমের মাতৃকা বা ধাত্রকে সাইটোসোল (Cytosol) বা হায়ালোপ্লাজম বলা হয়। এটি কোষীয় অঙ্গাণু ব্যতীত সাইটোপ্লাজমের সমসত্ত্ব তরল অংশ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাইসোসোমে তীব্র অম্লীয় হাইড্রোলাইটিক এনজাইম থাকে, যা সাধারণ অবস্থায় একটি একক পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। কোষে তীব্র খাদ্যভাব বা অক্সিজেনের অভাব দেখা দিলে কিংবা রোগাক্রান্ত অবস্থায় লাইসোসোমের পর্দা ফেটে যায় এবং নিঃসৃত এনজাইম কোষের অন্যান্য অঙ্গাণু এমনকি সমগ্র কোষটিকেই পরিপাক বা ধ্বংস করে ফেলে। নিজের কোষকে নিজে ধ্বংস করার (অটোলাইসিস) এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই লাইসোসোমকে 'আত্মঘাতী থলিকা' বা 'সুইসাইডাল স্কোয়াড' (Suicidal squad) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ২য় ঝিল্লীটি হলো সজীব আবরণ, অর্থাৎ কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন। প্লাজমামেমব্রেনের গঠন ব্যাখ্যার জন্য সবচেয়ে আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য মডেল হলো সিঙ্গার এবং নিকোলসন (১৯৭২) কর্তৃক প্রবর্তিত 'ফ্লুইড মোজাইক মডেল'।
মডেলটির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. ফসফোলিপিড বাইলেয়ার: কোষঝিল্লি দ্বিস্তরী ফসফোলিপিড দিয়ে গঠিত। প্রতিটি ফসফোলিপিড অণুতে একটি পোলার হাইড্রোফিলিক (পানিগ্রাহী) গ্লিসারল 'মাথা' এবং দুটি নন-পোলার হাইড্রোফোবিক (পাবিত্যাশী/পানিবিদ্বেষী) ফ্যাটি এসিড 'লেজ' থাকে। লেজ দুটি পরস্পর মুখোমুখি এবং মাথাগুলো বাইরের ও ভেতরের দিকে থাকে।
২. মেমব্রেন প্রোটিন: ঝিল্লিতে তিন ধরনের প্রোটিন থাকে—ইন্টিগ্রাল প্রোটিন (ঝিল্লির উভয় স্তর ভেদ করে অবস্থান করে), পেরিফেরাল প্রোটিন (ঝিল্লির পরিধির দিকে থাকে) এবং লিপিড-সংযুক্ত প্রোটিন।
৩. গ্লাইকোক্যালিক্স: ফসফোলিপিড অণুর সাথে কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত হয়ে গ্লাইকোলিপিড এবং প্রোটিন অণুর সাথে কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত হয়ে গ্লাইকোপ্রোটিন গঠিত হয়। এদের একত্রে গ্লাইকোক্যালিক্স বলা হয়।
৪. কোলেস্টেরল: ফসফোলিপিড অণুগুলোর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টেরল অণু অবস্থান করে ঝিল্লির তরলতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করে।এই মডেলে ফসফোলিপিড স্তরকে সমুদ্র এবং প্রোটিন অণুগুলোকে হিমশৈল বা মোজাইকের মতো ভাসমান বলে তুলনা করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি আবরণ হলো কোষপ্রাচীর (জড় আবরণ) এবং কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন (সজীব আবরণ)। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সজীবতা ও প্রকৃতি: কোষপ্রাচীর জড় বা নির্জীব ও স্থিতিস্থাপকতাহীন। পক্ষান্তরে, কোষঝিল্লি সজীব, নরম ও স্থিতিস্থাপক।
২. অবস্থান: কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের সর্ববহিঃস্থ আবরণ হিসেবে থাকে। অন্যদিকে, কোষঝিল্লি কোষপ্রাচীরের ঠিক নিচে প্রোটোপ্লাজমকে ঘিরে অবস্থান করে।
৩. রাসায়নিক গঠন: কোষপ্রাচীর মূলত সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, পেকটিন ও লিগনিন দ্বারা গঠিত। পক্ষান্তরে, কোষঝিল্লি মূলত লিপিড ও প্রোটিন (লিপো-প্রোটিন), কোলেস্টেরল এবং গ্লাইকোক্যালিক্স দ্বারা গঠিত।
৪. স্তর বিন্যাস: উদ্ভিদ কোষপ্রাচীর সাধারণত তিনটি স্তরবিশিষ্ট (মধ্যপর্দা, প্রাথমিক প্রাচীর এবং গৌণ প্রাচীর)। অপরদিকে কোষঝিল্লি ফসফোলিপিডের দ্বিস্তর (বাইলেয়ার) বিশিষ্ট।
৫. ভেদ্যতা: কোষপ্রাচীর সম্পূর্ণ ভেদ্য (Permeable), ফলে দ্রাবক ও দ্রাব উভয়ই সহজে চলাচল করতে পারে। কিন্তু কোষঝিল্লি বৈষম্যভেদ্য (Selectively permeable), যা নির্দিষ্ট কিছু অণু বা আয়নের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
৬. কার্যাবলি: কোষপ্রাচীর কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি দেয়, বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং দৃঢ়তা প্রদান করে। অপরদিকে কোষঝিল্লি কোষের অভ্যন্তরীণ উপাদান রক্ষা করা ছাড়াও অভিস্রবণ, ব্যাপন এবং সক্রিয় পরিবহনের মাধ্যমে পদার্থের আদান-প্রদান ও সংকেত আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করে।উপরিউক্ত তুলনামূলক আলোচনা থেকে দেখা যায় যে, উদ্ভিদ কোষে প্রাচীরটি বাহ্যিক সুরক্ষা ও কাঠামোগত ভিত্তি প্রদান করে, আর কোষঝিল্লি অভ্যন্তরীণ হোমিওস্টেসিস ও জৈবনিক কার্যাবলি সচল রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও