ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

সিন্ধু সভ্যতা প্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম। এটি একটি নগরভিত্তিক সভ্যতা। এদের লিখন পদ্ধতি ছিল চিত্রভিত্তিক সিন্ধু। সভ্যতা নগরভিত্তিক হলেও তাদের ছিল উন্নত কৃষি ব্যবস্থা। যব, গম, তুলাসহ নানা রকম ফসল তারা উৎপন্ন করত। উন্নত ফসল উৎপাদনের জন্য তারা জমিতে বাঁধ দিত। বন্যার পানিকে সংরক্ষণ করে কাজে লাগাত। আবার নালা কেটে জলসেচের মাধ্যমে পানি এনে ফসলের মাঠে সরবরাহ করত।

  1. ক)

    ইতিহাসের জনক কে?

    (1)
  2. খ)

    উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সিন্ধু সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার লেখনীর মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'সিন্ধু সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থা মিসরীয় সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইতিহাসের জনক হলেন গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস (Herodotus)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মরুভূমির চরম প্রতিকূল পরিবেশে উট দীর্ঘ পথ সহজে অতিক্রম করতে পারে বলে উটকে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয়।
    উট দীর্ঘ সময় পানি ও খাদ্য ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে। এর চোখের পাতা, নাসারন্ধ্র ও পায়ের গঠন এমনভাবে গঠিত যা বালুর ঝড় ও তপ্ত বালুকাভূমির ওপর চলার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই মরুভূমিতে উটের বিকল্প ছিল না। সমুদ্রপথে জাহাজের মতোই মরুভূমির বিশাল বালুকাময় পথ পাড়ি দিতে উট প্রধান ভূমিকা পালন করায় একে 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সিন্ধু সভ্যতার চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতির সাথে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার চিত্রলিপির (হায়ারোগ্লিফিক) মিল রয়েছে।
    মিসরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তাদের লিখন পদ্ধতি, যা 'হায়ারোগ্লিফিক' বা পবিত্র লিপি নামে পরিচিত। এই লিপিতে বিভিন্ন বস্তু, প্রাণী ও চিহ্নের ছবি বা চিত্রের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করা হতো।
    উদ্দীপকে উল্লেখিত সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরাও ভাব প্রকাশের জন্য চিত্রভিত্তিক বা প্রতীকী লিপি ব্যবহার করত, যা তাদের বিভিন্ন সিলমোহর ও পাত্রে পাওয়া গেছে। উভয় সভ্যতাই বর্ণমালার বদলে চিত্র বা প্রতীকের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান করত। সুতরাং, চিত্রভিত্তিক লেখন পদ্ধতির দিক থেকে সিন্ধু সভ্যতার সাথে প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার সুস্পষ্ট মিল পরিলক্ষিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সিন্ধু সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থা মিসরীয় সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি'- উক্তিটি যথার্থ।

    প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদকে কেন্দ্র করে। নীল নদের নিয়মিত প্লাবন বা বন্যায় জমিতে পলি পড়ে জমি অত্যন্ত উর্বর হতো। মিসরীয়রা জলসেচ ও বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাঁধ নির্মাণ করত, নালা কেটে জমিতে পানি সরবরাহ করত এবং সংরক্ষিত পানি শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করে গম, বার্লি, তুলা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করত। ফলে কৃষিতে তারা প্রভূত উন্নতি লাভ করেছিল।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, নগরভিত্তিক হওয়া সত্ত্বেও সিন্ধু সভ্যতার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর। সিন্ধু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এ সভ্যতার অধিবাসীরাও মিসরীয়দের মতো বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলসেচের জন্য জমিতে বাঁধ দিত, নালা কেটে ফসলের মাঠে পানি সরবরাহ করত এবং যব, গম, তুলাসহ নানাবিধ ফসল উৎপাদন করত। নদীকেন্দ্রিক উর্বর পললভূমিকে বিজ্ঞানসম্মত সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে ফলপ্রসূ করে তোলার কৌশল সিন্ধু ও মিসরীয় উভয় সভ্যতায় একই রকম ছিল। অতএব, কৃষিকাজে নদী শাসন, সেচ ব্যবস্থার প্রয়োগ এবং ফসলের বৈচিত্র্যের দিক থেকে সিন্ধু সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থা মিসরীয় কৃষি ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন