সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক আইন • Combined Board • চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
কাবিল মিয়া দুষ্ট প্রকৃতির লোক। অনাথ জরিনা বেগমকে বিয়ে করে। বিয়ের পর কারণে-অকারণে জরিনাকে মারপিট করে। একদিন সে জরিনাকে এক নারী পাচারকারী দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। জরিনার মামা বিষয়টি জানতে পেরে কাবিলের বিরুদ্ধে মামলা করে।
- ক)(1)
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন পাস হয় কত সালে?
- খ)(2)
বাল্যবিবাহ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জরিনার মামা কোন আইনের মাধ্যমে কাবিলের বিচার চাইতে পারেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উক্ত আইনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে যৌতুক নিরোধ আইন পাস হয় ১৯৮০ সালে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনত নির্ধারিত বয়সের কম বয়সে কোনো ছেলে বা মেয়ের বিয়ে হওয়াকে বাল্যবিবাহ বলে। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো মেয়ে এবং ২১ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলের মধ্যে বিয়ে সংঘটিত হলে তা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জরিনার মামা 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০' (সংশোধিত ২০০৩) অথবা 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২' এর মাধ্যমে কাবিলের বিচার চাইতে পারেন।
সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বিধান এবং সহিংসতা ও পাচার রোধে এসব আইন কার্যকর করা হয়েছে। নারী নির্যাতন এবং পাচার শাস্তিযোগ্য গুরুতর অপরাধ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কাবিল মিয়া তার স্ত্রী জরিনাকে শারীরিক নির্যাতন করত এবং একপর্যায়ে তাকে নারী পাচারকারী দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। এটি পারিবারিক সহিংসতা এবং মানব পাচারের মতো মারাত্মক অপরাধ। সুতরাং, যৌতুক ও শারীরিক নির্যাতন দমনসহ নারী পাচারের অপরাধের জন্য জরিনার মামা কাবিলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন বা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের আওতায় মামলা করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাইতে পারেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং মানব পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনের গুরুত্ব অপরিসীম।
আইন সমাজের দুর্বল ও অসহায় শ্রেণির অধিকার রক্ষা করে সমাজে সাম্য ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করে। উদ্দীপকে জরিনা একজন অসহায় ও অনাথ নারী, যে তার স্বামীর দ্বারা শারীরিক নির্যাতন ও পাচারের শিকার হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে উক্ত আইনের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতকরণ ও অপরাধ হ্রাস: এই আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির (যেমন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড) বিধান থাকায় অপরাধীরা নারী নির্যাতন বা পাচারের সাহস পায় না, যা সমাজে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস করে।
২. নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা: সমাজে নারীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা দিতে এবং নারীর মৌলিক মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে এ আইনের কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য।
৩. অনাথ ও অসহায়দের সুরক্ষা: উদ্দীপকের জরিনার মতো যেসব মানুষের সামাজিক আশ্রয় দুর্বল, তাদের অন্যায়ের শিকার হওয়া থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ আইন প্রধান ঢাল হিসেবে কাজ করে।
৪. ন্যায়বিচার ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা: অন্যায়কারীর শাস্তি হলে সমাজে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা বাড়ে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো শান্তি পায়।
অতএব, একটি শোষণহীন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পাচার রোধ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও